
ঝিনাইদহ সদর থানার সাবেক ও বর্তমানে শৈলকুপা থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মোন্তাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পর তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ বিভাগীয় মামলা যার নং- ১০/২০২৬, তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬ রুজু করা হয়। ইতোমধ্যে উক্ত মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আইজিপি বরাবর পাঠানো ইমেইল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় বিউটি খাতুন নামে বিতর্কিত এক নারী সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে হুমকি দেন। এই ঘটনায় তিনি ৫ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৫২) করেন। পরবর্তী সময়ে ১০ নভেম্বর ওই নারী পাল্টা একটি জিডি করেন। উক্ত নারীর কাউন্টার জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন সদর থানার এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে রাত ১০টার পর থানায় ডেকে পাঠান।
অভিযোগকারী সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, থানায় যাওয়ার পর উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে টেবিলের সামনে বসিয়ে মোবাইল ফোনের ভিডিও ক্যামেরা অন করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং অবান্তর প্রশ্ন করতে থাকেন। সাংবাদিক এতে আপত্তি জানালে এবং নিজের পেশাগত ও ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয় দেওয়ার পরও ওই কর্মকর্তা তাকে গালিগালাজ করেন ও ভয়ভীতি দেখান।
অভিযোগপত্রে সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ আরও উল্লেখ করেন, উক্ত নারীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অতীতে নানাবিধ বিতর্কের রেকর্ড রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীর পক্ষাবলম্বন করে এমন আচরণ করায় তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ও বিব্রতবোধ করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ বলেন, এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিতর্কিত ওই নারীর কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুবিধা পেয়ে তিনি আমাকে হয়রানি করেছেন। আমি তদন্তপূর্বক এই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
অভিযোগের বিষয়ে শৈলকুপা থানায় কর্মরত অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. মোন্তাহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে বিউটি খাতুন সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, সেই সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে তাকে আমি থানায় ডেকেছিলাম, মিরাজ জামান রাজের সঙ্গে কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা তার কোন ভিডিও ধারণ করা হয়নি। তিনি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তা সঠিক নয়।
এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. মোসফেকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।
আরটিভি/এমএম




