ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিককে হুমকি ও জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ: এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

​ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ভক্তরা বাঁশ নিয়ে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন : ছবি আরটিভি

ঝিনাইদহ সদর থানার সাবেক ও বর্তমানে শৈলকুপা থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) মোন্তাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
​
পুলিশের সংশ্লিষ্ট নথি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পক্ষ থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পর তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ বিভাগীয় মামলা যার নং- ১০/২০২৬, তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬ রুজু করা হয়। ইতোমধ্যে উক্ত মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
​
আইজিপি বরাবর পাঠানো ইমেইল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় বিউটি খাতুন নামে বিতর্কিত এক নারী সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে হুমকি দেন। এই ঘটনায় তিনি ৫ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৫২) করেন। পরবর্তী সময়ে ১০ নভেম্বর ওই নারী পাল্টা একটি জিডি করেন। উক্ত নারীর কাউন্টার জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন সদর থানার এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে রাত ১০টার পর থানায় ডেকে পাঠান।
​
অভিযোগকারী সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, থানায় যাওয়ার পর উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে টেবিলের সামনে বসিয়ে মোবাইল ফোনের ভিডিও ক্যামেরা অন করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং অবান্তর প্রশ্ন করতে থাকেন। সাংবাদিক এতে আপত্তি জানালে এবং নিজের পেশাগত ও ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সদস্য পরিচয় দেওয়ার পরও ওই কর্মকর্তা তাকে গালিগালাজ করেন ও ভয়ভীতি দেখান।

​অভিযোগপত্রে সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ আরও উল্লেখ করেন, উক্ত নারীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অতীতে নানাবিধ বিতর্কের রেকর্ড রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীর পক্ষাবলম্বন করে এমন আচরণ করায় তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ও বিব্রতবোধ করেন।
​
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ বলেন, এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিতর্কিত ওই নারীর কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুবিধা পেয়ে তিনি আমাকে হয়রানি করেছেন। আমি তদন্তপূর্বক এই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
​
অভিযোগের বিষয়ে শৈলকুপা থানায় কর্মরত অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. মোন্তাহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি জমি জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে বিউটি খাতুন সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, সেই সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে তাকে আমি থানায় ডেকেছিলাম, মিরাজ জামান রাজের সঙ্গে কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা তার কোন ভিডিও ধারণ করা হয়নি। তিনি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তা সঠিক নয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. মোসফেকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণা, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড
নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে হোটেলে কক্ষ বুকিং, বিকাশের দোকানে ৩০ হাজার টাকা ‘চার্জ’ নেওয়া এবং সরকারি নিয়োগপত্র ও বিসিএস গেজেট জালিয়াতির অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 
ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণা, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড
নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিত একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। প্রতি বছর এ দরবারে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বাৎসরিক উরস শরীফ।
নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রা
দুই শতাধিক কৃষকের জমি দখলের চেষ্টা, প্রতিবাদে মানববন্ধন
ভোলার চরফ্যাশনে দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ২৩৪ একর জমি দখলের চেষ্টা এবং স্লুইসগেট খুলে রোপণ করা আমন ধান পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দুই শতাধিক কৃষকের জমি দখলের চেষ্টা, প্রতিবাদে মানববন্ধন
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। তবে দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রেখে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরে আরও ২০ হাজার টাকা ‘কমিশন’ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন উমেদার রূপণ দাশ। ঘুষ নেওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ দাবি করেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই তারা দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। জবানবন্দি গ্রহণের পর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি। অভিযান পরিচালনাকারী ফাঁদ টিমের নেতৃত্বে থাকা দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় সাব-রেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি বলেন, পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য তারা দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এক ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রথমে হটলাইন ১০৬ এবং পরে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ লিখিত অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কৌশলে হাতেনাতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের পিপি রেজাউল করিম রনি বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম জানিয়েছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই অর্থ নেওয়ার সময়ই দুদকের দল কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এদিকে উমেদার রূপণ দাশ তার জবানবন্দিতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। এর বাইরে দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। জবানবন্দিতে রূপণ দাশ আরও বলেন, প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে নেওয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় ওই টাকা তার বাসায় গিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তার দাবি, দলিলটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে বাড়তি দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, এ ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পরে মামলা করা হয়। বুধবার গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান জবানবন্দি দেননি। অপর দুই আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আরটিভি/এসআর
১৫ হাজার টাকার দলিলে ঘুষ ২ লাখ, কমিশন ২০ হাজার
এনসিপির এক নেতা স্থায়ী বহিষ্কার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে স্থায়ী অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্র থেকে তাকে পাঠানো এক নোটিশে এ বার্তা দেওয়া হয়। এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা সাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, আপনার বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আরও বলা হয়, অভিযোগের তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী আপনাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো। উল্লেখ্য, অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে এনসিপির ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত এনসিপি নেতার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ নামের ওই কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। আরটিভি/এসআর
এনসিপির এক নেতা স্থায়ী বহিষ্কার
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি
আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমবে
এবার কোটচাঁদপুরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা