ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

এক সেতুতে বদলে গেছে খুলনার সাত ইউনিয়নের চিত্র

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ এএম
ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত সেতু। ছবি: সংগৃহীত

একটি সেতু বদলে দিয়েছে খুলনার একটি গ্রামীণ জনপদের চিত্র। লাঘব হয়েছে দীর্ঘদিনের জন দুর্ভোগের। ফলে এই জনপদের মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করা এই জনপদের নাম জেলার দাকোপ উপজেলা। এই উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর বাজার সংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে স্বপ্নের সেতু। তবে, শুধু যাতায়াত ও যোগাযোগ নয়, স্বপ্নের এ সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার লোকজন।

এক পাড়ে বাড়ি, অন্য পাড়ে স্কুল-বাজার; মাঝখানে ভদ্রা নদী। এতদিন নদী পার হতে খেয়া কিংবা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারই ছিল ভরসা। মুমূর্ষু রোগী, স্কুল শিক্ষার্থী, কৃষক কিংবা ব্যবসায়ী, সবাইকে পোহাতে হয়েছে নদী পারাপারের দুর্ভোগ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই দুর্ভোগের অবসান হতে চলেছে। ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত গার্ডার সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এতে দাকোপের নদীর দুই পাড়ের সাত ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।

দাকোপ ইউনিয়নের শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর বাজার সংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুতে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে পারে। প্রতিদিন বিকেলে সেতুটি দেখতে কয়েকশ’ মানুষ ভিড় করছেন।

সেতুটি চালু হওয়ায় দাকোপ উপজেলা সদর ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সাত ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। একইসঙ্গে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা থেকে মোংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগও সহজ হবে। এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ভৌগোলিক কারণে দাকোপ উপজেলা ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার নামে পরিচিত তিনটি পৃথক দ্বীপ নিয়ে গঠিত। ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান বাধা ছিল ভদ্রা নদী। এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যেতে এতদিন খেয়া বা ট্রলারই ছিল একমাত্র ভরসা। এ কারণে সেতু নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছিলেন।

সেতুর পশ্চিম পাশে ৩২ নম্বর পোল্ডারে রয়েছে কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন। পূর্ব পাশে ৩৩ নম্বর পোল্ডারে রয়েছে দাকোপ,লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ,বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন। সেতুটি চালু হওয়ায় এসব এলাকার কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত, ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন এবং রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এলজিইডির ‘গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সেতু নির্মাণ’ ও ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ’ প্রকল্পের আওতায় কালিনগর জিসি-খুটাখালী জিসি সড়কের শূন্য চেইনেজে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত সেতুটির এক্সটেনশনসহ দৈর্ঘ্য ৬৬১ দশমিক ৬৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। সংযোগ সড়ক বা ভায়াডাক্টের দৈর্ঘ্য ১৪০ দশমিক ১৬ মিটার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট কাজ শুরু করে ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। প্রথম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় কার্যাদেশ বাতিল হয়। পরে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দ্বিতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হলেও তারাও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। এরপর তৃতীয় দফায় ঢাকার এমবিইএল-এইসি-কেই (জেভি) কাজের দায়িত্ব পায়। সব মিলিয়ে সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৭ টাকা।

কালিনগর বাজারের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী দেবাশিষ রায় বলেন, সেতুর অভাবে এতদিন মুরগিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। সেতুটি চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী।

গ্রাম্য চিকিৎসক হরিপদ হালদার বলেন, খেয়া পারাপারের কারণে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত উপজেলা বা জেলা সদরে নেওয়া কঠিন ছিল। এখন সড়ক পথে দ্রুত রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে।

কালিনগর জিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, খেয়া পার হতে দেরি হওয়ায় অনেক সময় তারা স্কুলে সময়মতো পৌঁছাতে পারত না। সেতু চালু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ আর থাকবে না।

এলজিইডি খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, সেতুটি চালু হলে দাকোপ, পাইকগাছা ও কয়রার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। কৃষি ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে বলে আশা করছেন তিনি। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ষড়যন্ত্র করে মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ষড়যন্ত্র করে কখনো মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, পলাতক স্বৈরাচারী চক্র দেশে ফেরার পাঁয়তারা করলেও বাংলাদেশের জনগণই তাদের প্রতিহত করবে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হামিদুল হক মোহনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। যারা জনগণকে হত্যা করেছে, গুলি করেছে এবং পালিয়ে গেছে, তারা আবার বলছে, দ্বিগুণ ভয়ংকর হয়ে বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশের জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে, প্রতিহত করবে। তাদের যে বিচার হয়েছে, জনগণ সেই বিচার কার্যকর করবে, ফাঁসির রায় কার্যকর করবে, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সম্পূর্ণ নিরাপদ। স্বাধীনতাবিরোধী একাত্তরের রাজাকার কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদী শক্তি—কারও কাছেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী চক্র কিংবা একাত্তরের ঘাতকদের কারও মধ্যেই ন্যূনতম অনুশোচনা নেই। একটি দল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তাদের রাজাকার বলা হয়। আরেকটি দল নব্য ফ্যাসিবাদ হিসেবে বিদায় নিয়েছে। তারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে, কিন্তু তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। একইভাবে, একাত্তরে যারা রাজাকার ছিল, তাদেরও কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশে ষড়যন্ত্র করলেও সফল হতে পারবে না। কারণ, ষড়যন্ত্র করে কখনো মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না। জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে সবাইকে পথ চলতে হবে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকি, তাহলে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি নেই। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপি দেশকে একটি উন্নত ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণের চাহিদা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বিএনপির নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও সফিকুর রহমান সফিক, টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহসহ অন্য নেতারা। আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হামিদুল হক মোহনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
ষড়যন্ত্র করে মানুষের হৃদয় জয় করা যায় না: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
চুলা জ্বালাতেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাদের ১৬ বছর বয়সি মেয়ে দগ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার কুড়িপাড়া এলাকার মান্নাছ আলীর ছেলে লাল চাঁন মিয়া (৬০) এবং তার স্ত্রী নাসিমা (৫০)। তারা টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের মুদাফা এলাকার মাস্টার বাড়ি সংলগ্ন ফখরুল হাসানের বাসায় ভাড়া থাকতেন। সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ৭টার দিকে মুদাফা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডার গ্যাসের পাইপ লিকেজ হয়ে ভেতরে জমা হওয়া গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরে থাকা স্বামী লাল চাঁন মিয়া, স্ত্রী নাসিমা ও তাদের মেয়ে তানিশা (১৬) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে প্রতিবেশীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন রাতে ওই দম্পতির মৃত্যু হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ড. সুলতান মাহমুদ সিকদার জানান, হাসপাতালে আনার পরই তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাল চান মিয়ার ৯৫ শতাংশ এবং স্ত্রী নাসিমার ৮৫ শতাংশ দগ্ধ শরীরে মৃত্যু হয়। মেয়ে তানিশার শরীর ৮৬ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৬টার দিকে চেরাগ আলী সংলগ্ন ভাড়া বাসায় রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে জমানো গ্যাসে হঠাৎ তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে ও মুহূর্তেই ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা দগ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। নিহতদের মরদেহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
চুলা জ্বালাতেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু
পর্যটকবাহী বাস চালাচ্ছিলেন হেল্পার, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে পর্যটক ও যাত্রী নিয়ে গতকাল রাতে ইমরান পরিবহন নামে ওই বাসটি কুয়াকাটার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এসময় ওই বাসটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে বাসে থাকা কমপক্ষে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে কলাপাড়া ও আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। এছাড়াও এ ঘটনায় ৪-৫ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশিরভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যাচ্ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের স্টোপেজে বাসের চালক নেমে যায়। এরপর বাসটি হেলপার চালাচ্ছিলেন। পরে সড়কের একটি বাঁক ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাইনি, তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও হেলপার পলাতক থাকায় তাদেরকে আটক করা যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। আরটিভি/টিআর
পর্যটকবাহী বাস চালাচ্ছিলেন হেল্পার, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে
দিনাজপুরের অনুষ্ঠিত হবে জব ফেয়ার
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট ৪টি উপজেলা নিয়ে জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে।
দিনাজপুরের অনুষ্ঠিত হবে জব ফেয়ার
বিয়ের আশ্বাসে প্রেম, বাড়িতে গিয়ে তরুণী দেখলেন প্রেমিক লাপাত্তা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনশন শুরু করেছেন এক তরুণী। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ঘুড়কা ইউনিয়নের হারনী মধ্যপাড়ায় আবু হাশেমের ছেলে আসিফ মাহমুদের বাড়ির সামনে অনশন করছেন ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণী। এদিকে তরুণীর আসার খবর পেয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন আসিফ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে আসিফের বাড়িতে যান ওই তরুণী। সেখানে গিয়ে আসিফকে না পেয়ে তার ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বাড়ির উঠানে অবস্থান নেন তিনি। ঘটনার পর থেকে আসিফের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওই তরুণী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জানান, আসিফ ও তার মধ্যে খালাতো ভাই-বোনের সম্পর্ক রয়েছে।  পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। পরে ফেসবুকে নিয়মিত কথাবার্তার মাধ্যমে এক বছর আগে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি তরুণীর। ওই তরুণী অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসিফ তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন ওই তরুণী। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসিফ মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। আসিফের বাবা আবু হাশেম বলেন, ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু আসিফ বিয়ে করবে না বলে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম আলী বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বিয়ের আশ্বাসে প্রেম, বাড়িতে গিয়ে তরুণী দেখলেন প্রেমিক লাপাত্তা
আরও পড়ুন
‘আমি বাদাম বেচি, আলহামদুলিল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলাইছি’ 
খুলনায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাস্তায় পড়েছিল গুলিবিদ্ধ মরদেহ, পাশে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল
বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান