
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান নামে এক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে তার বড় ভাইকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আপনার ভাইকে ১৪ টুকরা করার ক্ষমতা আছে।
এর দুদিন পর জিসানকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে হুমকির সঙ্গে জিসান হত্যার সরাসরি কোনো যোগসূত্র এখনও নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
নিহত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের অভিযোগ, কেয়ারবিল এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ওই হুমকি দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে জিসানের বড় ভাইকে উদ্দেশ্য করে মিজানকে বলতে শোনা যায়, আমি আওয়ামী লীগ করা মানুষ। আমার ক্ষমতাও আছে, টাকাও আছে। আপনার ভাইকে ১৪ টুকরা করার ক্ষমতা আছে। তাকে ৫০ জন খুঁজছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাতে কাকারা মাইজপাড়া এলাকার একটি দোকানের সামনে ছিলেন জিসান। এ সময় একটি সাদা নোয়াহ মাইক্রোবাস সেখানে আসে। গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে জিসানকে তুলে নেওয়া গাড়িটি শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে ৮ থেকে ১০ জনের উপস্থিতির কথা জানা গেছে। মাইক্রোবাসটি কোথা থেকে এসেছিল, জিসানকে তুলে নেওয়ার পর কোন পথে গিয়েছিল এবং তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছিল—এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, জিসানের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। গুলির আঘাত কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। আওয়ামী লীগের এক ব্যক্তির হুমকির বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে মাথা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব আঘাত গুলির কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন, আমরা ধারণা করছি, আওয়ামী লীগের ওই মিজানই আমাদের ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) অহিদুল রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে খুনিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
আরটিভি/এমএ



