
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গরু চুরি করে নিয়ে জবাই করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা জব্দ করে হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার।
গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম উপজেলার বকশিচর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহানের সঙ্গে উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ের বিয়ে শুক্রবার সম্পন্ন হয়। পরদিন শনিবার সোহানের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের জন্য রফিকুল ইসলাম একটি গরু জবাই করে রান্নার প্রস্তুতি নেন।
এদিকে একই উপজেলার পশ্চিম মাস্তা গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কালো রঙের ক্রস জাতের গাভী গোয়ালঘরে বেঁধে রাখেন। রাত ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং গোয়ালঘরের দরজা খোলা।
এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে চুরি যাওয়া গরুর সন্ধানে বের হলে বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পান তারা। সেই ছাপ অনুসরণ করে পার্শ্ববর্তী বকশিচর গ্রামের এক বাড়িতে গিয়ে চুরি যাওয়া গরুটি জবাই করে মাংস কাটার দৃশ্য দেখতে পান গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম।
এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শহিদুলের ভাতিজা আনারুলের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা উদ্ধার করে। আহত আনারুলকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরে শনিবার বিকেলে গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, চুরি হওয়া গরুর মাথা, মাংস ও চামড়াসহ অন্যান্য অংশ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বরের বাবা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরটিভি/টিআর




