
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হতো তাকে। একপর্যায়ে ওই কিশোরী পালিয়ে গেলে তাকে ধরে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়াসহ মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে।
এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর দেহের বিভিন্ন অংশে গরম চামচ ও খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার দাগ রয়েছে। তবে ঘটনাটি পারিবারিকভাবে বিষয়টি ‘মীমাংসা’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভুগির মা।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীকে তার পরিবার দূরসম্পর্কের দাদা জামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠায়। সেখানে ফুপাতো বোন তাসলিমা বেগম ও তার স্বামী রাজা মিয়া এবং ফুপাতো আরেক ভাইবোন মিলে তাকে জোর করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হলে তাকে বিভিন্ন সময় মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হতো। ১০-১২ দিন আগে ওই কিশোরী পালিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসে। গত বুধবার সন্ধ্যায় বাজারে গেলে তাকে আবার জোর করে তুলে ফুপার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বাসাবাড়িতে কাজের কথা বলে কিশোরীকে নিয়ে নির্যাতন ও অনৈতিক কাজে বাধ্য করা এবং পরে বাজার থেকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার কথা কিশোরী তাদের জানিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বজনরা বিষয়টি ৫০ হাজার টাকায় মীমাংসা করে কিশোরীকে মাত্র ছয় হাজার টাকা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ছিলেন। তবে কিশোরী ও তার পরিবারকে সেখানে আসতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া অভিযুক্তদেরও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে কিশোরীর মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ঘটেছে। পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ও অভিযুক্তরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলায় ভুক্তভোগী পরিবারটি কোনো অভিযোগ করতে চাচ্ছে না।
আরটিভি/টিআর


