
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে উৎপাদনে ফেরে এই সার কারখানা। গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ আট মাস ধরে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ ছিল।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে এই কারখানায় যমুনা সার উৎপাদন হয়ে আসছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাটিতে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ফলে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েন শ্রমিকেরা।
গত বছর ২৩ ডিসেম্বর ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করলেও অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি রাত থেকে ফের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ গত ১৫ জানুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে দীর্ঘ আট মাস পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে ফের উৎপাদনে যায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যমুনা সার কারখানাটি।
জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল ছাড়াও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার সার ডিলারের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ করা হয়।
উৎপাদন অব্যাহত থাকলে দেশের ১৯ জেলায় সার সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ফলে সার সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
এ ব্যাপারে কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে গ্যাস সরবরাহ থাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
আরটিভি/টিআর




