
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের এভারকিউর ভেটেরিনারি হসপিটালে লোহার নেটে জড়িয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সাড়ে ৪ ফুট লম্বা বিষধর শঙ্খিনী সাপের সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে শুরু হয়ে রাত ১টা পর্যন্ত চলে অস্ত্রোপচার। এতে নেতৃত্ব দেন ডা. মোহাম্মদ রাসেল। সঙ্গে ছিলেন ডা. বোরহান উদ্দীন মো. সাজ্জাদ, ডা. জহির উদ্দীন ফয়সাল ও ডা. সাদ্দাম হোসাইন।
চিকিৎসকরা জানান, শঙ্খিনীর মাংসপেশিতে গুরুতর আঘাত ছিল এবং ক্ষত হাড়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে অস্ত্রোপচারের সময় অন্যান্য অঙ্গ স্বাভাবিক ছিল। বর্তমানে সাপটি চিকিৎসাধীন; ক্ষত শুকিয়ে আসছে এবং অ্যান্টিবায়োটিক চলছে।
গত ৩ অক্টোবর রাতে নগরের সরাইপাড়া এলাকা থেকে বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা ন্যাচার কনজারভেশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবীরা সাপটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শঙ্খিনী সাধারণত শান্ত ও লাজুক স্বভাবের এবং সহজে মানুষকে কামড়ায় না। এর প্রধান খাদ্য অন্য বিষধর ও নির্বিষ সাপ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ সাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আইইউসিএনের হিসাবে বাংলাদেশে শঙ্খিনী বিপন্ন হলেও বিশ্বে বিপদমুক্ত। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে এটি সংরক্ষিত প্রজাতি।
শঙ্খিনীর বিস্তৃতি ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ১ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। কালোর মধ্যে হলুদ ডোরাকাটা দাগ এ সাপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সুস্থ হয়ে উঠলে শঙ্খিনীটিকে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরে বনে অবমুক্ত করা হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




