
দেশের ও নদীগুলোতে আবারও শুরু হচ্ছে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। মা ইলিশের বাঁধাহীন প্রজনন নিশ্চিতের লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার।
নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ সময়ে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলেরা। তবে মৌসুমজুড়ে বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে জলদস্যুদের আতঙ্কে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় চরম হতাশায় ফিরছেন তারা।
সাগরে একের পর এক বৈরী আবহাওয়ার কারণে মৌসুমের বড় একটা সময়ে ঠিকমতো মাছ ধরতে পারেননি জেলেরা। কেউ কেউ মাছ পেলেও বেশিরভাগ জেলের অভিযোগ, ট্রলারের জ্বালানি, বরফ, খাবার ও জালের খরচও ঠিকমতো ওঠেনি।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জেলেরা গত কয়েক মাস ধরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় অনেকেই দেনায় জর্জরিত। এর মধ্যে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে দিন কাটবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
রাঙ্গাবালীর উপজেলা চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের জেলে জামাল ফরাজী বলেন, সাগরে এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রলারে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেটাই ওঠে না। আবার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এই সময়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।
একই ইউনিয়নের আরেক জেলে আসাদুল প্যাদা বলেন, মাছ না পাওয়ায় আমাদের অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাগরে যাই। এখন নিষেধাজ্ঞার সময় কিস্তি ও সংসারের খরচ কীভাবে চালাব, সেটাই বড় চিন্তা।
জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরার শেষ সময়েও সাগরে জলদস্যুদের আতঙ্ক ছিল। এ কারণে অনেক জেলে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যেতে পারেননি। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
তবে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, রাঙ্গাবালীর জন্য ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তার চাল বরাদ্দ হয়েছে। উপজেলার ১২ হাজার ৫০০ নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ভিক্টর বাইন বলেন, রাঙ্গাবালীর জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। উপজেলার ১২ হাজার ৫০০ জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
তবে সরকারি সহায়তার পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে জেলেদের মধ্যে। তাদের দাবি, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২৫ কেজি চাল একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি প্রকৃত অনেক জেলের নাম তালিকায় না থাকায় তারা সরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হন।
জেলেদের দাবি, শুধু চাল নয়, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংসার চালাতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি ও অভিযান জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি ও অভিযান চলবে। কেউ আইন অমান্য করে সাগর বা নদীতে মাছ ধরতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিন নিরাপদে পার করতে সরকারি সহায়তা দ্রুত পাওয়ার পাশাপাশি ঋণের কিস্তির চাপ কমানোর ব্যবস্থা চান রাঙ্গাবালীর জেলেরা।
আরটিভি/এসএস




