ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা কখনো বাংলাদেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
ছবি : আরটিভি

ফাঁসির দড়ির ভয়ে শেখ হাসিনা আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না মন্তব্য করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তার অপরাধকে চিরতরে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে দলটির কোনো ধরনের পুনর্বাসন বা তথাকথিত ‘রিকনসিলেশন’-এর সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহ্যবাহী উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার চলমান গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার মূল নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা। একটা মানুষ এত বোকা হতে পারে না যে, যার জন্য আদালতে ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত রাখা আছে, সে দেশে ফিরে নিজে সেই দড়িতে ঝুলবে! শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়েছেন আত্মরক্ষার জন্য, বাংলাদেশে ফেরার জন্য নয়। তিনি যদি দল বা রাজনীতিকে সত্যি ভালোবাসতেন, তবে বলতেন ‘আমি জেলে যেতে রাজি, তাও দেশ ছাড়ব না’। যে একবার পালিয়ে গেছে, সে আর কখনো ফিরবে না।

আওয়ামী লীগের ক্ষমা চাওয়া ও রাজনৈতিক সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইল কী চাইল না, তাতে এ দেশের ভুক্তভোগী জনগণের কিছু যায় আসে না। তাদের অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। এখন যারা রিকনসিলেশন বা সমঝোতার বয়ান তৈরি করছেন, তারা মূলত ফ্যাসিবাদের দোসর এবং গণহত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছেন। জনগণ এই চালাকি বুঝে ফেলেছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আগে বিচার হতে হবে, এর আগে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী এবং জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্রনেতার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, জামায়াতের আমীর অভ্যুত্থানের এক মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। আসলে ক্ষমতার জন্য জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মেলাতেও দ্বিধা করবে না, যা ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে মনে করিয়ে দেয়। এমনকি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় খুনিদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন জামায়াত নেতা শিশির মনীর। জুলাইয়ের উত্তাল দিনে এরা প্রোফাইল লাল পর্যন্ত করেনি। এই লজ্জা শিবির কীভাবে ঢাকবে?

সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, জুলাই শহীদদের তাজা রক্ত মাড়িয়ে সারজিস ও হাসনাত আবদুল্লাহরা কীভাবে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন? তারা পারলেও আমরা শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে কোনো আপস করতে পারি না।

গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসিনা খেদাও আন্দোলনে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন। রাজপথে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই নেতাকর্মীদের অবদান এবং নেপথ্যে বিএনপির ভূমিকা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতেই আমি দেশব্যাপী জুলাই শহীদদের মাজার জিয়ারত ও পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছি।

এর আগে উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কামরুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ এবং কলেজের অধ্যক্ষ নাহিদা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মুসল্লিদের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম
জামালপুরের মেলান্দহে সোনার হার দেওয়ার কথা বলে এবং ব্যক্তিগত আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে মুসল্লিদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইমামের বিরুদ্ধে। মসজিদের ইমাম হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই ঘটনায় ঐতিহ্যবাহী মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের (৩০) বাদী হয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ঢাকার ৩১২ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির ফরিদাবাদ এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগীরা জানান সূত্রে জানা গেছে, মুফতি মিজানুর রহমান তিন মাস আগে ৪০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানির শর্তে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি মসজিদের নির্দিষ্ট আবাসনে সপরিবারে অবস্থান করছিলেন। হংকং থেকে তার এক আত্মীয়র পাঠানো সোনা এয়ারপোর্ট থেকে ছাড়িয়ে আনতে টাকার প্রয়োজনের কথা বলে গত মঙ্গলবার তিনি ১৪ থেকে ১৫ জন বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন। পরে সেদিন রাতেই সপরিবারে তিনি নিরুদ্দেশ হন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টাসহ নানা মাধ্যমে তার খোঁজ না পেয়ে থানায় অভিযোগের সিদ্ধান্ত নেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের পক্ষে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এতে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মেলান্দহ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম হক বলেন, মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার অভিযোগে করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তপূর্বক এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
মুসল্লিদের ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মসজিদের ইমাম
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সরকারি কর্মকর্তার কাছে নারী, অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাচ্ছেন মফিজুর রহমান।
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সরকারি কর্মকর্তার কাছে নারী, অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া নারী পরিচয়ে প্রথমে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। এরপর তা ধীরে ধীরে গড়ায় প্রেমের সম্পর্কে। প্রায় চার মাস আগে মোবাইল ফোনে ‘বিয়ে’ করে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখতে থাকেন ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তি ও ‘সুমাইয়া আক্তার’। এরই মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩ লাখেরও বেশি টাকা।  বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফাঁস হয় প্রতারণার পুরো রহস্য। ‘সুমাইয়া’ আসলে কোনো নারী নন, তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার গন্ডবিল গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শান্ত আলী (২০) নামের এক তরুণ। ভুক্তভোগী ৪৮ বছর বয়সি প্রবাসী ঢাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। প্রায় ছয় মাস আগে ফেসবুকে এক নারী পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। ‘সুমাইয়া আক্তার’ নামের ওই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চার মাস আগে শান্ত আলী ওই প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ের একটি ভুয়া সম্পর্ক তৈরি করেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর কথিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে থাকে শান্তর প্রতারণা। সম্পর্কের সুযোগে বিভিন্ন অজুহাতে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে তিন লাখেরও বেশি টাকা নেন শান্ত। প্রতারণার বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে শান্ত তার বাবাকে ওই প্রবাসীর সঙ্গে ‘শ্বশুর’ পরিচয়ে কথা বলাতেন বলে জানা গেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে গন্ডবিল গ্রামে শান্ত আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় শান্তর মোবাইলে হঠাৎ ফোন করেন ওই ইতালি প্রবাসী। তখন পুলিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, এতদিন যার সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন, সেই ‘সুমাইয়া আক্তার’ আসলে একজন পুরুষ। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, গ্রেপ্তার শান্ত আলী ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারের পর ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি জানা যায়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। আরটিভি/টিআর
বিয়ের চার মাস পর জানলেন ‘স্ত্রী’ একজন পুরুষ
বাংলাদেশে এটাই প্রথম সফর, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়: জার্মান পর্যটক
বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন কিরিল। তখন নিজের জিনিসপত্র বিশ্বাস করে একজনের কাছে রেখে যান তিনি।
বাংলাদেশে এটাই প্রথম সফর, পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়: জার্মান পর্যটক
ডাক্তার নেই, নদী পেরিয়ে সদরে যাওয়ার আগেই মরে ‘আদরের পশু’
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি চর—মাঝের চর। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনঘেঁষা বলেশ্বর নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা এ চরটি স্থানীয়দের কাছে ‘মাঝের চর’ নামে পরিচিত। চল্লিশের দশকে জেগে ওঠা চরটির আয়তন প্রায় ৮৪০ একর।
ডাক্তার নেই, নদী পেরিয়ে সদরে যাওয়ার আগেই মরে ‘আদরের পশু’
আরও পড়ুন
‘শিশির মনিররা ছিলেন কাপুরুষ, শিবির তখন বেঁচে ছিল ছাত্রলীগ হয়ে’
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত
দুর্গোৎসব ঘিরে ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে আ.লীগ: রাশেদ খাঁন
শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির