
জামালপুরের বকশীগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সড়কের পাশের ঝোপে ছিটকে পড়ে তিনদিন নিখোঁজ ছিলেন রোজিনা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঝোপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক মো. সোহানকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত রোজিনা উপজেলার দক্ষিণ দত্তেরচর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর মেয়ে। তার স্বামী ইয়াকুব আলী পেশায় কৃষক।
গ্রেপ্তার সোহান উপজেলার বাট্টাজোড় এলাকার নূর আলমের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরের পর থেকে রোজিনার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সোমবার সকালে বাড়ির পাশের সড়কসংলগ্ন ঝোপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন সেখানে তার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে স্বজনেরা মরদেহ শনাক্ত করেন। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
প্রথমে পারিবারিক কলহের জেরে রোজিনাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়। এ ঘটনায় তার শাশুড়িসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হলেও পারিবারিক কলহের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে ঘটনাস্থলের আশপাশে অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তিনদিন আগে সেখানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার তথ্য পায় পুলিশ। এর সূত্র ধরে সোহানকে শনাক্ত করে সোমবার বিকেলে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, প্রথমে সোহান দাবি করেন, তাঁর মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি ছাগলের ধাক্কা লেগেছিল এবং এতে তিনি আহত হন। তবে স্থানীয়দের বক্তব্যের সঙ্গে তার কথার অমিল থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানান।
ওসি আরও বলেন, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রোজিনা ঝোপে ছিটকে পড়েছিলেন। দুর্ঘটনার বিষয়টি সোহান কাউকে জানাননি। এ ঘটনায় রোজিনার বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় সোহানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে


