
বান্দরবানের লামায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে গিয়ে নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে চার দিন পর চট্টগ্রাম শহরের খুলশী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তাদের।
উদ্ধার হওয়া ছাত্রীরা হলেন- ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া সুলতানা, নবম শ্রেণির ছাত্রী হালিমাতুজ সাদিয়া ও রেশমি আক্তার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সকালে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিখোঁজের ঘটনায় লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার এক পর্যায়ে গতকাল বুধবার দিনগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের একটি বাসা থেকে পৃথকভাবে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, তারা সেখানে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য অবস্থান করছিলেন।
অপরদিকে, পরিবারের সদস্যদের দাবি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।
চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল কান্তি শর্মা জানান, রেশমি আক্তারসহ তিন কিশোরী তার বিদ্যালয়ে যায়নি। রেশমি অষ্টম শ্রেণিতে ওই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিল। চলতি বছর সে লামার ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। গত ১২ অক্টোবর রেশমির মামা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে এসে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।
ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারা সর্বশেষ নিজ নিজ শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল। এরপর থেকে আর বিদ্যালয়ে আসেনি। সোমবার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে।
সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহা. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার দুটি বাসা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য সেখানে অবস্থান করছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএ



