
দীর্ঘদিনের জেঁকে বসা মাদকের আগ্রাসন যেন থামছেই না । অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন । উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের চর পাঁকা, দশ রশিয়া ও গাইপাড়া এলাকার আনাচে কানাচে অবাধে চলছে মাদক সেবন ও ব্যবসা । এদিকে নদীর ওপার হওয়ায় প্রশাসনের পদক্ষেপও তেমন লক্ষ্য করা যায় না। ভারত থেকে নদী পথে অবাধেই ঢুকছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। চরের অসংখ্য মানুষ জড়িয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসায় । সহজলভ্য হওয়ায় এর বিস্তার দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় এলাকার যুব সমাজ ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষার উদ্দেশ্যে মাদক নির্মূলে গঠিত হয়েছে কমিটি । জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের সামাজিক ভাবে বয়কট, মাদকের আস্তানা নির্মূল, সহজলভ্যতা দূরীকরণ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে চর এলাকার যুব সমাজ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে দশ রশিয়া বাজার এলাকায় এসব কর্মসূচি হাতে নিয়ে এক আলোচনা সভাও করেছেন তারা । তবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোন্তাজ আলী ঝাটু মন্ডল বলেন, প্রথমত চরাঞ্চলে দুই একজন যুবক ছেলে মাদক সেবন করে বলে জানতাম । কিন্তু ধীরে ধীরে তা এতটাই বিস্তার লাভ করেছে যে, প্রতিটি আনাচে কানাচে মাদক সেবীদের দেখা যাচ্ছে । মাদকের কারনে পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হচ্ছে, বেড়ে চলেছে সামাজিক অবক্ষয় । মাদকের অর্থ জোগাতে না পেরে মা-বাবাকে নির্যাতনের দৃষ্টান্তও রয়েছে অনেক ।
মো: আজিজুর রহমান বলেন, শিবগঞ্জের এই এলাকাটি নদী বিধৌত ও বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি তেমন নেই বললেই চলে । মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পরিকল্পিত অভিযান ছাড়া তা নির্মুল করা সম্ভব হবে না ।
কলেজছাত্র মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, চর এলাকায় তেমন ভালো মানের প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার হার অনেক কম । তবুও আমরা যারা পড়ালিখা চালিয়ে যেতে চেষ্টা করছি, মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে । কেননা প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রদের হাতেও ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে সহজলভ্য মাদক ।
এছাড়াও গোলাম মোস্তফা, রফিকুল ইসলাম মেম্বার, লাল মোহাম্মদ, মানজুর রহমান মাষ্টার, শাহজাহান আলী মাষ্টার, আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল, তরিকুল ইসলাম ও এনসাদ আলী সহ অন্যান্য বক্তারাও একই বক্তব্য দিয়ে অত্র চর এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ ও বিজিবি সহ স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন । এসময় স্থানীয় সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সচেতনতা এবং সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা ।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মতিউর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় মাদকের ছড়াছড়ি এ অঞ্চলে বেশি, অপরদিকে মাঝে পদ্মা নদী থাকায় যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে । তবুও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করি এবং সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য থাকলে আমরা জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন করব।
আরটিভি/ এসকেডি


