ঢাকা শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

২ সপ্তাহে ৪০ ছাগলের মৃত্যু!

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
ছবি: আরটিভি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মহিষলুটি গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল হোসেনের ৫টি, তাড়াশ পৌর এলাকার খুটিগাছা মহল্লার মো. হায়দার আলীর ১টি, একই মহল্লার হায়দার আলী সরকারের ১টিসহ গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৩৫-৪০টির মতো ছাগল মারা গেছে।

একই সঙ্গে এ রোগে আক্রান্ত ছাগলের সংখ্যাও দিন দিন অনেক বাড়ছে। কিন্তু চিকিৎসা বা প্রতিষেধক তেমন মিলছে এমনই অভিযোগ ছাগল মালিক কৃষকদের।

এদিকে, উপজেলার সর্বত্রই ছাগলের পিপিআর রোগ মহামারি আকার ধারণ করলেও পিপিআর রোগের প্রতিশোধকের স্বল্পতার কারণে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে আছে আরও শত শত ছাগল, এমনই জানালেন উপজেলার বেত্রাশিন গ্রামের কৃষক আশরাফ সরকার।

তিনি জানান, পিপিআর রোগে আক্রান্ত ছাগল নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল গেলেও তেমন কোনো চিকিৎসা মেলে না।

মহিষলুটি গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল হোসেন জানান, গত ১০- ১২ দিন আগে তার একটি ছাগল প্রথমে সর্দি-কাশি ও প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। এ সময় আমি স্থানীয় পল্লী প্রাণী চিকিৎসকের কাছে ছাগলটি চিকিৎসা করাই। কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি বরং রোগে আক্রান্তের কয়েক দিনের মধ্যে ছাগলের মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাগলটি মারা যায়। আর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এক এক করে আমারও চারটি ছাগল মরে যায়। আর রোগের লক্ষণ দেখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চিকিৎসকরা এটাকে পিপি আর রোগ বলেছেন।
এ
কই ভাষ্য তাড়াশ পৌর এলাকার খুটিগাছা মহল্লার মো. হায়দার আলীর। তবে এ কৃষক জানান, তিনি তার ছাগলের চিকিৎসার জন্য উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এলাকায় গিয়ে টিকাদানকারীরা প্রতিষেধক দিয়ে আসবেন। আর এভাবে হাতুরে চিকিৎসা, প্রতিষেধক না পাওয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই সপ্তাহে পিপিআর রোগে আক্রান্ত হওেয় কমপক্ষে ৩৫-৪০টির মতো ছাগল মারা গেছে। আরও ছাগল আক্রান্ত হয়ে মূত্যুর প্রহর গুনছে।

অবশ্য, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় পিপিআর রোগে প্রতিষেধকের চাহিদা আছে প্রায় এক লাখ চার হাজার ছাগলের। অথচ এর বিপরীতে ভেটেরিনারি হাসপাতালে পিপিআর রোগের প্রতিষেধক আছে মাত্র ১৬ হাজার। যা প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় চারভাগেরও বেশি প্রতিষেধক ঘাটতি আছে।

আর গত সপ্তাহে তাড়াশ পৌর এলাকার রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া মহল্লায় পিপিআর রোগের প্রতিষেধক দিতে যান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের টিকাদানকারী মো. লুৎফর রহমান। তিনি রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া মহল্লায় কারিগরি কলেজ চত্বরে টিকাদান কালে সেখানে বেশ কিছু কৃষক ছাগল নিয়ে যান। কিন্তু ২০-২৫টি ২ মাস থেকে ১৮ মাস বয়সী বা তারও বেশি বয়সের ছাগলের প্রতিষেধক দেওয়ার পর আরো ৩৫টির মতো ছাগল রেখে অন্য মহল্লায় চলে যান।

এ সময় টিকাদানকারী মো. লুৎফর রহমান জানান, তাকে যে পরিমাণ প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে তা একেবারেই প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই এলাকার আরও কয়েকটি গ্রামে দু- চারটি করে দিতে হবে এ জন্য চলে যাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম পিপিআর রোগের প্রতিষেধক স্বল্পতার কথা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, চাহিদা অনেক, পাই কম। তাই প্রতিষেধক ঘাটতির কারণে কিছু ছাগল মারা যাচ্ছে। আমরা আরও প্রতিষেধক চাহিদা পাঠিয়েছি। তা পেলে দুরবস্থা মোকাবিলা করতে পারবো।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রেনে কাটা মরদেহের ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন
বগুড়া শহরের নারুলী এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতনামা এক নারী নিহত হয়েছেন। মরদেহটি রেললাইন থেকে সরানোর আগেই এর ওপর দিয়ে আরেকটি ট্রেন চলে যায়।
ট্রেনে কাটা মরদেহের ওপর দিয়ে গেল আরেক ট্রেন
ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ছিল না অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, করা হয়েছিল সতর্ক
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।
ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ছিল না অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, করা হয়েছিল সতর্ক
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে নিহত ১০
কক্সবাজারের ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রিসোর্টটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস।
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে নিহত ১০
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ পর্যটকের নাম-পরিচয় প্রকাশ
কক্সবাজারের ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় পর্যটকের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। নিহতরা হলেন, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মুগধা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টের রান্নাঘর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ভেতরে থাকা পর্যটকেরা বিপাকে পড়েন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সকালে বিভিন্ন কাজে বাইরে ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। সেখানে উদ্ধার কার্যক্রমও চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ পর্যটকের নাম-পরিচয় প্রকাশ
জেলের জালে ৯০ কেজির বাঘাইড়, দাম আকাশ ছোঁয়া
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের পুটিমারী এলাকায় স্থানীয় এক জেলের জালে ৯০ কেজি ওজনের একটি বিশালাকার বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে।
জেলের জালে ৯০ কেজির বাঘাইড়, দাম আকাশ ছোঁয়া
আরও পড়ুন
বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ নেই যে দেশে
‘সাত মাসে ২ কোটি শিশুকে টিকা দিয়েছে সরকার’
রোগ প্রতিরোধে গ্রাম ও শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছেলের মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার সময় মায়ের মৃত্যু!