
সিরাজগঞ্জের তাড়াশের মহিষলুটি গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল হোসেনের ৫টি, তাড়াশ পৌর এলাকার খুটিগাছা মহল্লার মো. হায়দার আলীর ১টি, একই মহল্লার হায়দার আলী সরকারের ১টিসহ গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৩৫-৪০টির মতো ছাগল মারা গেছে।
একই সঙ্গে এ রোগে আক্রান্ত ছাগলের সংখ্যাও দিন দিন অনেক বাড়ছে। কিন্তু চিকিৎসা বা প্রতিষেধক তেমন মিলছে এমনই অভিযোগ ছাগল মালিক কৃষকদের।
এদিকে, উপজেলার সর্বত্রই ছাগলের পিপিআর রোগ মহামারি আকার ধারণ করলেও পিপিআর রোগের প্রতিশোধকের স্বল্পতার কারণে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে আছে আরও শত শত ছাগল, এমনই জানালেন উপজেলার বেত্রাশিন গ্রামের কৃষক আশরাফ সরকার।
তিনি জানান, পিপিআর রোগে আক্রান্ত ছাগল নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল গেলেও তেমন কোনো চিকিৎসা মেলে না।
মহিষলুটি গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল হোসেন জানান, গত ১০- ১২ দিন আগে তার একটি ছাগল প্রথমে সর্দি-কাশি ও প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়। এ সময় আমি স্থানীয় পল্লী প্রাণী চিকিৎসকের কাছে ছাগলটি চিকিৎসা করাই। কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি বরং রোগে আক্রান্তের কয়েক দিনের মধ্যে ছাগলের মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাগলটি মারা যায়। আর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এক এক করে আমারও চারটি ছাগল মরে যায়। আর রোগের লক্ষণ দেখে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চিকিৎসকরা এটাকে পিপি আর রোগ বলেছেন।
এ
কই ভাষ্য তাড়াশ পৌর এলাকার খুটিগাছা মহল্লার মো. হায়দার আলীর। তবে এ কৃষক জানান, তিনি তার ছাগলের চিকিৎসার জন্য উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এলাকায় গিয়ে টিকাদানকারীরা প্রতিষেধক দিয়ে আসবেন। আর এভাবে হাতুরে চিকিৎসা, প্রতিষেধক না পাওয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই সপ্তাহে পিপিআর রোগে আক্রান্ত হওেয় কমপক্ষে ৩৫-৪০টির মতো ছাগল মারা গেছে। আরও ছাগল আক্রান্ত হয়ে মূত্যুর প্রহর গুনছে।
অবশ্য, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় পিপিআর রোগে প্রতিষেধকের চাহিদা আছে প্রায় এক লাখ চার হাজার ছাগলের। অথচ এর বিপরীতে ভেটেরিনারি হাসপাতালে পিপিআর রোগের প্রতিষেধক আছে মাত্র ১৬ হাজার। যা প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় চারভাগেরও বেশি প্রতিষেধক ঘাটতি আছে।
আর গত সপ্তাহে তাড়াশ পৌর এলাকার রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া মহল্লায় পিপিআর রোগের প্রতিষেধক দিতে যান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের টিকাদানকারী মো. লুৎফর রহমান। তিনি রঘুনিলী মঙ্গলবাড়ীয়া মহল্লায় কারিগরি কলেজ চত্বরে টিকাদান কালে সেখানে বেশ কিছু কৃষক ছাগল নিয়ে যান। কিন্তু ২০-২৫টি ২ মাস থেকে ১৮ মাস বয়সী বা তারও বেশি বয়সের ছাগলের প্রতিষেধক দেওয়ার পর আরো ৩৫টির মতো ছাগল রেখে অন্য মহল্লায় চলে যান।
এ সময় টিকাদানকারী মো. লুৎফর রহমান জানান, তাকে যে পরিমাণ প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে তা একেবারেই প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই এলাকার আরও কয়েকটি গ্রামে দু- চারটি করে দিতে হবে এ জন্য চলে যাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শরিফুল ইসলাম পিপিআর রোগের প্রতিষেধক স্বল্পতার কথা স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, চাহিদা অনেক, পাই কম। তাই প্রতিষেধক ঘাটতির কারণে কিছু ছাগল মারা যাচ্ছে। আমরা আরও প্রতিষেধক চাহিদা পাঠিয়েছি। তা পেলে দুরবস্থা মোকাবিলা করতে পারবো।
আরটিভি/এসএস



-1792222409-410235_1792222492.jpg)