ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি দল: প্রধানমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান : ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে।

তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায়, কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে—যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে, জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হওয়ার। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আজকে থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে। যাতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন, সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

তিনি বলেন, সোমবার একটি অনুষ্ঠান ছিল ঢাকায়। অনুষ্ঠানটি ছিল ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল, শত শত ছাত্রকে, শত শত সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে দিয়ে গিয়েছিল। সেই সকল শহীদের স্মরণে আমরা সোমবার ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি। ২৪-এ যে শহীদ পরিবার আছে, জুলাই যোদ্ধা যারা আছে, তাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে। যে সকল জুলাই যোদ্ধা আহত হয়েছেন, তাদেরকে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।

তারেক রহমান বলেন, আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে সেদিন দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে ২৪-কে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? এমনকি জুলাই শহীদদেরকে সম্মান জানানোর জন্য, তাদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য, তাদেরকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ ৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনকেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটি প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন চায় একটি স্থিতিশীলতা, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের জনগণ চায় শান্তিতে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সোজা কথায় যদি বলি, বাংলাদেশের জনগণ একদিকে যেমন চায় গণতান্ত্রিক চর্চা করতে, একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ চায় কর্মসংস্থানসহ শান্তিতে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক অধিকার যেমন বাংলাদেশের মানুষ চায়, রাজনৈতিক অধিকারও একই সঙ্গে মানুষ চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যেভাবে ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জনগণকে তাহলে বিএনপির প্রতি সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। যাতে সেই সকল ভ্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই জনগণকে ভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে তারা ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে এই যে রাজশাহীতে যে পদ্মা নদী আছে, আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের এই পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেজন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে বাংলাদেশের দুটি বড় নদী আমাদের, একটি হচ্ছে তিস্তার ওখানে, উত্তরে; আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব, যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, এই পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয়, আমরা চেষ্টা করব। ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আরএসজিটি বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড: ঘণ্টায় ৭২ মুভ ও ১২২ টিইইউ’স
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) জাহাজ পরিচালনায় নতুন উৎপাদনশীলতার রেকর্ড গড়েছে আরএসজিটি বাংলাদেশ। সিএমএ সিজিএমের জাহাজ এমভি আমুরো (MV AMOUREUX) পরিচালনাকালে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭২ মুভ ও ১২২ টিইইউ'স হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আরএসজিটি বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড: ঘণ্টায় ৭২ মুভ ও ১২২ টিইইউ’স
ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরাল, ওসি বললেন ‘বাস্তবে কেউ দেখেনি’
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে বোয়ালখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হাসান রুবেল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করেন। ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বোয়ালখালীর মাটিতে প্রথম মিছিল করলাম। শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।’ ভিডিওতে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. দিদারুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জহুরের ছবিসংবলিত একটি ব্যানার দেখা যায়। ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মিছিলে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। ভিডিওতে প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২০ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, সকালে একটি মিছিলের ঘটনা ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বাস্তবে কেউ দেখেনি, আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছি। আসামিদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, শাকপুরা মিলিটারি পুল এলাকায় এই ঝটিকা মিছিল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেউ বলছে সাড়ে ৫টায়, আবার কেউ বলছে ৬টার দিকে হয়েছে। তবে কেউ দেখেনি। আরটিভি/টিআর
ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ভাইরাল, ওসি বললেন ‘বাস্তবে কেউ দেখেনি’
জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
বরগুনার আমতলীতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা মানবিক সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে শতাধিক নিবন্ধিত জেলে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, তালিকায় নাম না থাকার অজুহাতে চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন জেলেরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে গত ৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, শিকার ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। এ সময় জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তার জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৬০০ জেলের জন্য ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ৩৪ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন। বাকি ৬ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে, শতাধিক নিবন্ধিত জেলে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। জেলে জালাল, খলিল ও জামাল গাজী জানান, তাদের জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল দেওয়া হয়নি। তালিকায় নাম নেই—এমন অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত নিবন্ধিত জেলেদের বাদ দিয়ে চাল বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে। বিতরণ তালিকার স্বাক্ষর ও টিপসই যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। জেলে জালাল বলেন, আমার জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল পাইনি। তালিকায় নাম নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মতো অনেক জেলে চাল না পেয়ে ফিরে গেছেন। জেলে খলিল অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৫ জন নিবন্ধিত জেলে চাল পাননি। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ও ইউপি সদস্য খবির হোসেন তাদের জানিয়েছেন, তালিকায় তাদের নাম নেই। তিনি এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জেলে জামাল গাজী বলেন, আমি নিবন্ধিত জেলে। তারপরও চাল পাইনি। আমার নাম তালিকায় নেই বলে জানানো হয়েছে। নাশির মাল নামের আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৩০ জন নিবন্ধিত জেলে চাল নিতে গিয়ে ফিরে গেছেন। তার প্রশ্ন, নিবন্ধিত জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হলে তারা কেন চাল পেলেন না? তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বশির হাওলাদার। তিনি বলেন, তার ওয়ার্ডে তালিকাভুক্ত ২৭০ জন জেলেকেই চাল দেওয়া হয়েছে। কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। আমতলী খাদ্যগুদামে চাল বিতরণের কাজে নিয়োজিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ৩৪ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করেছেন। বাকি চাল খাদ্যগুদামেই রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমতলী খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা (এলএসডি) মো. তাইফুর রহমান বলেন, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের জন্য কত মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। বিষয়টি জেনে বলতে হবে। আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, সব জেলের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল পাননি—এমন কারও অভিযোগ তিনি পাননি। তবে বরাদ্দ, চাল উত্তোলন ও বিতরণ তালিকা যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জেলেরা। আরটিভি/টিআর
জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি, অতঃপর...
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৩৯) নামে এক স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আবুল বাশার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার মৃত জনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশারের পূর্বপুরুষদের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায়। সেখানে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত রোববার সকালে বাড়ি থেকে রওনা হন তিনি। ওই দিন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি নাঈম নামে এক বন্ধুর বাসায় রাতের খাবার খাচ্ছেন এবং সেখানেই থাকবেন বলে জানান। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সোমবার সকাল থেকে স্ত্রী একাধিকবার ফোন করেও তার কোনো সাড়া পাননি। পরে দুপুর ৩টার দিকে আবুল বাশারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, তিনি আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা টাকা পাঠানোর নম্বর চাইলে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর আবুল বাশারের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় বিষয়টি জানান। পরে তার মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আশপাশে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা শরীয়তপুরে এসে ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই বেড়াতে আসার জন্য শরীয়তপুরে যাওয়ার পর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর কয়েক দফায় তার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি থানায় জানানোর পর মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ জানায়, সে ভেদরগঞ্জে রয়েছে। পরে আমরা এসে পুলিশের সহযোগিতায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। নিহতের ভাগনে মো. কবির হোসেন খান বলেন, তার মামাকে অপহরণ করে টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুল আরেফিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আরটিভি/টিআর
স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি, অতঃপর...
ইউনিয়ন নির্বাচনে দলের কেউ মুনাফিকি করলে ক্ষমা করবেন না প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পেছনে কাজ করতে হবে, এই পথে কেউ অন্তরায় হয়ে থাকলে সে দল থেকে ছিটকে পড়বে।
ইউনিয়ন নির্বাচনে দলের কেউ মুনাফিকি করলে ক্ষমা করবেন না প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
৩৯ হাজার আখচাষিকে প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী