
বান্দরবানের লামায় পুকুরে গোসল করতে নেমে মোহাম্মদ জিসাদ (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখাতে ঢাকা থেকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাওয়া ১২ তরুণের দলের সদস্য ছিলেন তিনি। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গোজালিয়া ইউনিয়নের চিংককপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
জিসাদের বাড়ি রাজধানীর ভাষানটেকের পুরোনো কচুখেত এলাকায়। তার বাবা মিজানুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরভাটা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিসাদসহ ঢাকা থেকে ১২ জন তরুণ দুর্গম এলাকার পাওমুম থারক্লা ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের শিশুদের চিত্রাঙ্কন শেখাতে সেখানে যান। এক সপ্তাহের কর্মশালায় অংশ নিতে গত শনিবার তারা সেখানে পৌঁছান।
বুধবার বিকেলে তরুণেরা পাড়ার কার্বারির (পাড়াপ্রধান) পুকুরে গোসল করতে নামেন। এ সময় কেউ বাঁশের ভেলায় খেলছিলেন, আবার কেউ ফুটবল বুকে নিয়ে সাঁতার কাটছিলেন। গোসল শেষে ফেরার সময় জিসাদকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তার সঙ্গীরা। পরে পুকুরে একটি ফুটবল ভাসতে দেখে তারা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে জিসাদকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত লামা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বলেন, জিসাদের মরদেহ লামা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে গোজালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পাওমুম থারক্লা ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসটি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই এমন দুর্গম এলাকার দরিদ্র ম্রো পরিবারের শিশুরা সেখানে থেকে পড়াশোনা করে। তারা পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকজন শিক্ষানুরাগী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
আরটিভি/এসকে




