মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব মাকাহাটি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলি ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ডান হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়েছে সাইফুল হাওলাদার (২১) নামের এক যুবকের। এ ছাড়া গুলিতে আহত হয়েছেন আবু সাঈদ সৈয়াল (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ। মারধরের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন হৃদয় (২২) নামের আরেক যুবক। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে সাইফুল ও আবু সাঈদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে গ্রামটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে মিল্টন মল্লিক, মুন্না ও আল-আমিন নামের তিনজনকে আটক করেছে সদর থানা-পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী রহিম আলী মোল্লা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন মোল্লার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বুধবার রাতে রহিম আলী মোল্লার সমর্থক মিল্টন মল্লিকের নেতৃত্বে আওলাদ মোল্লার কর্মী-সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ও মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় দৌড়ে পালাতে গিয়ে সাইফুল হাওলাদারের ডান হাতে ককটেল লাগে। এতে তার ডান হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আবু সাঈদ সৈয়াল এবং মারধরের শিকার হয়ে হৃদয় নামের এক যুবক আহত হন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা একটি মসজিদেও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। রহিম আলী মোল্লার সমর্থক মিল্টন মল্লিক ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এ হামলার নেতৃত্ব দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত সাইফুল হাওলাদারের মা পেয়ার বেগম জানান, ভোর ৪টার দিকে রহিম মোল্লার সমর্থক মিল্টন মল্লিক তার দলবল নিয়ে ছোট ছেলের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এ সময় মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ভয়ে তার ছেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে ককটেল ছোড়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে ওই ককটেলের আঘাতে তার ছেলের ডান হাতের তিনটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
আরটিভি/টিআর




