ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

‘জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে জোর দিচ্ছে সরকার’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দেশের প্রতিটি ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নিতে চায় বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বরিশাল বিকেলে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিনাফুলিয়ায় জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় স্থাপিত একটি বায়োগ্যাস প্লান্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরিশালে ইতোমধ্যে ৮১টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে, আবার কেউ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব প্লান্ট গড়ে তুলেছেন। বায়োগ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

গরুর গোবরের তুলনায় হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা থেকে বেশি গ্যাস উৎপন্ন হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, বায়োগ্যাসের মাধ্যমে রান্নার জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি নিয়েও সরকার কাজ করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৪০ বছর পর্যন্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিয়ে আমিনুল হক বলেন, বায়োগ্যাস নিজে ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত গ্যাস অন্যদের কাছে বিক্রি করেও বাড়তি আয় করা যায়। যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে সরকার প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে। দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরির পাশাপাশি বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ৮৩টি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন যুবক বা যুবতী নিজের ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে পারবেন। বায়োগ্যাস প্রকল্পের মাধ্যমেও যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বরিশালের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাক উদ্দিন, সহকারী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।

আলোচনা সভা শেষে আটজন উদ্যোক্তার মধ্যে মোট ৯ লাখ টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। চেকপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা হলেন- সানজিদা রহমান, মনীষা আক্তার, তানজিলা আক্তার রূপা, শিরিন জাহান ঝুমা, ঝুমুর আক্তার, হ্যাপি আক্তার, জহিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান।

বায়োগ্যাস প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী শাহে আলম জানান, চার মাস আগে তিনি এই প্রকল্পটি চালু করেন। নিজের বাসার জ্বালানির চাহিদা মেটানোর পর তিনি আশপাশের আরও চারটি বাসায় গ্যাস সরবরাহ করছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছে।

এদিকে, বিকেলে বরিশালে কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে ‘বিসিসি প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর বিজয়ী দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করার কথা রয়েছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পারিবারিক বিরোধে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুর শরীরে গরম পানি নিক্ষেপ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় জমি-জমা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকন্যার গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।
পারিবারিক বিরোধে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুর শরীরে গরম পানি নিক্ষেপ
মধুমতির তীব্র ভাঙনে ঝুঁকিতে ৩০০ পরিবার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামে মধুমতি নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে শতাধিক বসতবাড়ি, একটি মসজিদ, কয়েকশ একর ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ৩০০ পরিবার, আমডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাকা সড়ক।
মধুমতির তীব্র ভাঙনে ঝুঁকিতে ৩০০ পরিবার
‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের প্রথম যাত্রীদের বরণ করে নিল রেল কর্তৃপক্ষ
রাজধানী ঢাকা থেকে সাড়ে ৯ শতাধিক যাত্রী নিয়ে প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে পৌঁছেছে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’। এসময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের স্টেশন কর্তৃপক্ষ বরণ করে নেয়।  মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটায় কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে পৌঁছে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন। প্রথম যাত্রায় ট্রেনে ৯৬৫ জন যাত্রী ছিলো। ট্রেনটি আজ সকাল ৯ টা ৫০ মিনিটে  ৮২৪ জন যাত্রী নিয়ে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের ঢাকা-কক্সবাজার বর্ধিত রুটে চলাচল উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এসময় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও পাথর ছোড়ার মতো অপরাধ ঠেকাতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান জানান রেলমন্ত্রী। কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদিন বাসসকে বলেন, মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল রাতে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনে বিরতি দিয়ে আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজার এসে পৌঁছে। কক্সবাজারে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ কমাতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে এই মহানগর এক্সপ্রেস চালু করা হলো। বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি পথে প্রতিদিন সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ রোববার। নতুন এ সেবার মাধ্যমে নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীসহ মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। আরটিভি/এসআর
‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের প্রথম যাত্রীদের বরণ করে নিল রেল কর্তৃপক্ষ
সুন্দরবনে ‘দাদা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে বনদস্যু ‘দাদা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির পর তাদের জিম্মিদশা থেকে পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। তবে অভিযানের সময় বনদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সুন্দরবনে ‘দাদা ভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার
পানিতে ডুবে আছে ১২ হাজার হেক্টর আবাদি জমি, বিপাকে সাতক্ষীরার ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক
চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার কারণে ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা যায়নি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকছে। ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। এতে বিপাকে পড়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক।  জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, নদ-নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পানি নিষ্কাশনে বাধা ও অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জেলার তালা উপজেলার শাকদাহ বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে রয়েছে।  স্থানীয় কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ বলেন, গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তারা সেখানে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ এক দশক আগেও তাদের জমিতে প্রচুর আমন ধান উৎপাদন হতো। বর্তমানে বছরে শুধু বোরো ধান চাষ করা গেলেও অন্য ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে না। পানিতে চারণভূমি ডুবে থাকায় গরু, ছাগল ও মহিষ পালনও কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক অধ্যক্ষ আশেক-এলাহী বলেন, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় সারা বছরই জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন ও বসতবাড়িতে এর প্রভাব পড়ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনঃখনন এবং সরকারি খাল দখলমুক্ত করে কৃষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, পানি জমে থাকায় সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। এতে ফসলের পাশাপাশি বীজ, সার, শ্রম ও জমি প্রস্তুতের খরচ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন কৃষকেরা। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক সরদার শরিফুল বলেন, জলাবদ্ধতায় নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়। দূষিত পানিতে চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশীয় মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মন্ডল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণ নির্ধারণে এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও নিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার উপযোগী ফসলের জাত নির্বাচন, বিকল্প চাষাবাদ পদ্ধতি চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা বাড়াতে হবে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গবাদিপশু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও জোর দেন তিনি। আরটিভি/এসআর
পানিতে ডুবে আছে ১২ হাজার হেক্টর আবাদি জমি, বিপাকে সাতক্ষীরার ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক
আরও পড়ুন
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
যুবদলকর্মী হত্যা, আসামি বিএনপি নেতা
ঠাঁই হয়নি সন্তানদের ফ্ল্যাটে, ভাড়া বাসায় মিলল বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ
নিদারুণ কষ্ট নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে অসহায় জোবায়ের