
ময়মনসিংহের ভালুকায় বাকিতে চুল কেটে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) নামে এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বখাটের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক সাদ্দাম হোসেনকে হবিরবাড়ী ন্যাশনাল পলিমার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত রবেন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া এলাকার রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকার কাশেমের বাসায় ভাড়া থেকে স্থানীয় বাজারে সেলুনের ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাদ্দাম হোসেন ধারালো ছুরি নিয়ে রবেন্দ্রর সেলুনে ঢোকেন। সেখানে রবেন্দ্রকে প্রথম দফা ছুরিকাঘাত করেন তিনি। প্রাণ বাঁচাতে রক্তাক্ত রবেন্দ্র সেখান থেকে দৌড়ে পাশেই সাদ্দামের বাবার দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানেও ঘাতক সাদ্দাম পিছু ধাওয়া করে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এরপর রবেন্দ্র নিজেকে বাঁচাতে পাশের একটি বাড়ির উঠানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে, সেখানে তাকে মাটিতে ফেলে আবারও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী সূচিত্রা জানান, সাদ্দাম নেশার টাকার জন্য প্রায়ই তার স্বামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিতেন। এ ছাড়া সেলুনে প্রতিনিয়ত চুল-দাড়ি কাটিয়ে কোনো টাকা দিতেন না, টাকা চাইলে ঝগড়া হতো। কিছুদিন ধরে টাকা না দেওয়া এবং নতুন করে বাকিতে চুল কেটে না দেওয়ার জেরে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগেও সাদ্দাম তার স্বামীকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন সূচিত্রা। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজার আগে সাদ্দাম তাকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযান চালিয়ে ঘাতক সাদ্দাম হোসেনকে হবিরবাড়ী ন্যাশনাল পলিমার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
আরটিভি/এসএস


