
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পল্লীতে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, গাছ কাটা ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক পক্ষের লোকজন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মানপুর সরদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ছবেদ আলী সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম ও আরিফুর ইসলামের সঙ্গে জব্বার সরদারের ছেলে সফিকুল, সৈয়দ আলীর ছেলে আমিরুল এবং লতিফ সরদারের ছেলে আবুল কাশেমসহ তাদের শরিকদের চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এসব বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে জমিজমা সংক্রান্ত একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে।
আবুল কাশেমের অভিযোগ, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে শরিফুল ও আরিফুল শতাধিক লোক নিয়ে কবরস্থানের সীমানার বেড়া কেটে গাছপালা কর্তন করে জমি দখল করেন। এতে বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় জাহানারা খাতুন, লুৎফুন্নেছা ও নাজমুন নাহার আহত হন।
নাজমুন নাহারের দাবি, হামলার সময় তার কানের দুল ও গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে শরিফুল ইসলাম ও আরিফুর ইসলাম বলেন, তারা প্রায় ৭০ বছর ধরে ওই পথ দিয়ে চলাচল করছেন। ৩-৪ মাস আগে প্রতিপক্ষ বেড়া দিয়ে চলাচলের পথটি সংকুচিত করে দেওয়ায় তাদের পোল্ট্রি খামারের মালামাল পরিবহন ও বিপণনে সমস্যা হচ্ছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা চলাচলের পথ সম্প্রসারণ করেছেন এবং পথের মধ্যে থাকা গাছপালা কর্তন করেছেন।
তাদের দাবি, তারা কোনো হামলা বা ছিনতাই করেননি; বরং পথ সম্প্রসারণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের ওপর হামলা করে। তারা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছেন মাত্র।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল ফারুক বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটিতে উভয় পক্ষেরই স্বত্ব দাবি রয়েছে। পূর্বপুরুষদের সময় থেকে দীর্ঘদিন ধরে সবাই ওই পথ দিয়ে চলাচল করে আসছেন। তবে কয়েক মাস আগে একটি পক্ষ বেড়া দিয়ে পথটি সংকুচিত করে দেয়। উভয় পক্ষকে নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শরিফুল ইসলামরা পথটি সম্প্রসারণ করেছেন বলে জানতে পেরেছি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাস্তার প্রকৃত সীমানা, জমিজমা সক্রান্ত বিরোধ নিস্পর্তী ও আদালতের নির্দেশনা এবং সংঘর্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরটিভি/ এসকেডি


