
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ইট ব্যবসায়ী রিফাত কবিরের বিরুদ্ধে থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. উজ্জল মিয়াকে অপহরণ, মারধর, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ওসমানপুর বাজারে নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ তুলে ধরে আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী উজ্জল মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ওসমানপুর বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসায়িক সূত্রে কাসিয়াতলা গ্রামের মৃত হুমায়ুন কবিরের ছেলে মো. রিফাত কবিরের ইটভাটা থেকে ইট কেনার চুক্তি অনুযায়ী ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে রিফাতকে ৬০ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু রিফাত ইট সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তী সময়ে পূবালী ও সোনালী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকা ফেরত দিলেও বাকি ২০ লাখ টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা শুরু করেন।
উজ্জল মিয়া অভিযোগ করেন, গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রিফাত কৌশলে তাকে ওসমানপুর বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকে রিফাত, উজ্জল মিয়ার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলিফ ওরফে অভি এবং তাদের সহযোগীরা তার চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখেন এবং মারধর করেন। পরে তার স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনটি চেকের পাতা এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরবর্তী সময়ে ওই স্ট্যাম্পগুলোতে ৩৫ লাখ ও ২৫ লাখ টাকা লিখে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেন এবং নতুন করে টাকা দাবি করে মামলা করার ভয় দেখাতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মো. রিফাত কবির বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে উজ্জল মিয়াকে গ্রেপ্তার করান। তবে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ আদালত সব কাগজপত্র পর্যালোচনা ও তার জবানবন্দি শোনার পর তাকে জামিনে মুক্তি দেন।
উজ্জল মিয়া দাবি করেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করতে এবং অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষরা এ ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি এ মামলাকে মিথ্যা দাবি করে এর তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
আরটিভি/টিআর




