
রাজবাড়ীর পাংশায় মাকে সঙ্গে নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা এলাকায় এ মিছিল করেন নজরুল ইসলাম। এতে ৫০ থেকে ৭০ জন নেতা-কর্মী অংশ নেন বলে জানা গেছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পাংশা থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই মিছিলে অংশ নেওয়া পাঁচজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামের সাইফুল প্রামাণিক (২০), ইরান প্রামাণিক (২২), নয়ন মোল্লা (২০), রাব্বি হোসেন (২২) এবং মেঘনা উত্তরপাড়া গ্রামের সুহান শেখ ওরফে সোহান (২৩)।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পাংশা থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত বাহাদুরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। গত ৭ নভেম্বর ভোরে বাহাদুরপুর এলাকায় সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয়ে তারা মিছিলে অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, মিছিলের ছবি ও ভিডিও শনিবার সন্ধ্যার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম। পোস্টে তিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ এলাকায় মিছিল করার কথা জানান। একই সঙ্গে অতীতে নিজের ও পরিবারের ওপর হামলা, হুমকি, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং চাঁদা দাবির অভিযোগও তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে আবার চলাফেরা শুরু করেছেন এবং আন্দোলনের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
মিছিলের প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, মাস্ক পরা এক নারী ব্যানারের সামনে হাত উঁচিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। তার পেছনে আরও কয়েকজনকে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। এগুলোর ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাংশা থানার ওসিকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
আরটিভি/টিআর




