
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ‘এমভি অভিযান-১০’ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে যাদের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন তাদেরকে রাজধানীর ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে এই শঙ্কটাপন্ন রোগীদের দেখতে গিয়ে লঞ্চের গুরুতর অনিয়মের কথা জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেই দিন দিন নৌ সেক্টরে উন্নতি হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সব তদন্ত সুপারিশ আমরা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করেছি। করছি না যে, তা না, সদরঘাটের অবস্থা এখন আর আগের মতো নাই।’
লঞ্চের ইঞ্জিন রুমের পাশেই রান্নাঘর স্থাপন, যা একটি স্পষ্টতর অনিয়ম। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বলছি লঞ্চের নকশাগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই অবস্থা নিয়ে যাত্রীসেবা দেওয়া খুব কঠিন। এই জায়গায় আমাদের ভাবতে হবে।’
লঞ্চের ইলেকট্রিসিটির তারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ইলেকট্রিসিটির যে তার লঞ্চে ব্যবহার করা হয়, সেখানে ঝুঁকি আছে। এখানে দুর্বল, সাশ্রয়ী ‘কেবল’ ব্যবহৃত হয়। যারা সার্ভে করেন, তাদের এ জায়গাগুলো সঠিকভাবে দেখতে হবে।’
আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একটা যাত্রীকল্যাণ ফান্ড আছে। তারা যেহেতু আমাদের যাত্রী ছিল, তারা আমাদের অংশীজন। শুধু এ ঘটনাই না, নৌ সেক্টরে সব ধরনের বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার আছে। এই সরকার মানবিক সরকার।’
এমন ভয়াবহ ঘটনার অভিজ্ঞতা আগে ছিল না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছি। অনেক ধরনের মতামত আমরা পেয়েছি। বড় জাহাজ, একেকজন ঘটনাটি একেকভাবে দেখেছে। অধিকাংশই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল, সে জন্য আতঙ্কটা বেশি ছড়িয়ে গেছে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনাস্থলের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন। কেউ কেউ আমাদের নলেজের বাইরে নিজস্ব উদ্যোগে চলে এসেছেন, সে কারণে হয়তো সাপোর্ট পাননি। তবে সবার সব ধরনের চিকিৎসায় আমরা সহায়তা করব। পুড়ে যাওয়ার চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল, অনেকের পক্ষেই এটা করা হয়তো সম্ভব না। অনেকের পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য হবে। এসব ক্ষেত্রে সরকার তাদের পাশে থাকবে।
কেএফ/টিআই




