ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

হাদিকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বান্ধবীকে যা বলেছিলেন শুটার ফয়সাল  

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ। তাকে নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে।

ওসমান হাদিকে হত্যার নেপথ্যে সুপরিকল্পিত মিশনের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। হাদি এবং শুটার ফয়সালের পরিচয় হয় ইনকিলাব মঞ্চের কালচারাল সেন্টারে। শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে হত্যার আগে শুটার কীভাবে হাদিকে অনুসরণ করে ও ধাপে ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

গত ৪ ডিসেম্বর রাত ৮টা ১৮ মিনিটে বাংলামোটরের ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে আসেন শুটার ফয়সাল ও তার সহযোগী কবির। প্রায় ছয় মিনিটের সেই বৈঠকে ফয়সাল হাদির সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন। এটি ছিল ঘনিষ্ঠতা তৈরির প্রথম ধাপ।

এরপর ৯ ডিসেম্বর রাতে ফয়সাল আবার কালচারাল সেন্টারে আসেন। এবার তার সঙ্গে ছিলেন আলমগীর। এই বৈঠকে নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখান থেকেই হাদির টিমে ঢুকে পড়েন ফয়সাল। ১০ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় হাদির প্রচারণায় সরাসরি অংশ নেন তিনি।

প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পরই হাদিকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন ফয়সাল। মিশন বাস্তবায়নের জন্য নরসিংদী, সাভার, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় রেকি করেন তিনি। ১১ ডিসেম্বর মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতিতে ওঠেন পশ্চিম আগারগাঁওয়ে বোনের বাসায়। হামলার দিন ভোরে উবারে করে যান হেমায়েতপুরের একটি রিসোর্টে।

রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার ভোর ৫টা ২২ মিনিটে ফয়সাল ও আলমগীরের গাড়ি হেমায়েতপুরের গ্রিন জোন রিসোর্টে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া ও তার বোন। সেখানে হাদির একটি ভিডিও দেখিয়ে ফয়সাল বলেন, তিনি হাদির মাথায় গুলি করার পরিকল্পনা করছেন এবং এতে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হবে। তিনি ঘটনার পর সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার কথা বলেন।

আরও পড়ুন

সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে বান্ধবীকে নিয়ে রিসোর্ট থেকে বের হন ফয়সাল। বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন আলমগীর। উবারে করে বান্ধবীকে বাড্ডায় নামিয়ে দেওয়ার পর বেো ১১টা ৫ মিনিটে আগারগাঁওয়ের বাসা থেকে মোটরসাইকেলে বের হয়ে সরাসরি যান হাদির সেগুনবাগিচার প্রচারণায়। সকাল পৌনে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছান ফয়সাল।

ওসমান হাদির মতোই এনসিপি নেতাকে গুলি করে পালায় দুর্বৃত্তরা প্রচারণা শেষে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে হাদি মতিঝিলের উদ্দেশ্যে রওনা হলে শুটার পেছন থেকে তার অটোরিকশা অনুসরণ করতে থাকেন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে হাদিকে বহন করা অটোরিকশা মতিঝিলের জামিয়া দারুল উলুম মসজিদের সামনে পৌঁছায়। আলমগীর মোটরসাইকেল পার্ক করলে দুজন নেমে আবারও প্রচারণায় যুক্ত হন।

নামাজ শেষে দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে হাদি সেখান থেকে রওনা হলে শুটারাও পিছু নেয়। দৈনিক বাংলা মোড়ে ডান দিকে ঘুরে পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে ঢুকে পড়ে তারা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ফাঁকা জায়গা খুঁজে বেড়ানোর পর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে খুব কাছ থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছোড়ে ফয়সাল।

আরও পড়ুন

আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।

পরে তাকে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মসজিদের পাশে (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে) দাফন করা হয়।

এদিকে জানা গেছে, বিকেল ৪টা ৫৪ মিনিটে পশ্চিম আগারগাঁও থেকে সিএনজিতে করে আমিনবাজারে যায় ফয়সাল। সেখান থেকে উবারে ধামরাইয়ের কালামপুর, এরপর ভাড়া করা প্রাইভেটকারে নবীনগর হয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা-মাওনা পেরিয়ে পৌঁছায় ময়মনসিংহে। সেখান থেকে হালুয়াঘাটের ধারাবাজার পেট্রোল পাম্পে যায় তারা। পাম্পের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১১টা ৩১ মিনিটে সেখানে পৌঁছায় শুটারদের বহনকারী প্রাইভেটকার। মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নাল মোটরসাইকেলে এসে তাদের রিসিভ করে সীমান্তের দিকে নিয়ে যান।

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ফিলিপের দুই সহযোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে শ্যুটাররা ভারতে পালিয়ে যায়। শুটার ফয়সালের ফোনের আইপি অ্যাড্রেস বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার লোকেশন ছিল ভারতের মহারাষ্ট্রে এবং সে রিলায়েন্স সিম ব্যবহার করছিল।

আরটিভি/এএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আগামী ৭ জানুয়ারি মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।  রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কোর কমিটির সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংখ্যা নিবিড় ও সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।  তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এবং প্রকৃত অপরাধী ও মদদকারীদের শনাক্তের জন্য এখনই সবকিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে যে অংশটুকু জনসমক্ষে প্রকাশ সম্ভব, তা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মামলা চলাকালীন এযাবৎ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৬ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং ৪ জন সাক্ষীও ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছে। আরও পড়ুন হাদি হত্যাকাণ্ড: বিচারের দাবিতে আজও উত্তাল শাহবাগ তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত রয়েছে তা উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত পর্যালোচনা ও সার্বিক বিবেচনায় মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে মামলার চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি। সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতি দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য এবং যারা এর পেছনে জড়িত রয়েছে তাদের নাম, ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা জনসম্মুখে উন্মোচন করতে পারব ইনশাআল্লাহ। ইতোমধ্যে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুততার সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়। পরে তাকে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মসজিদের পাশে (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে) দাফন করা হয়।
৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
‘হাদির হত্যাকারী দেশ ছেড়ে পালিয়েছে’, স্বীকার করল পুলিশ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা ফয়সাল দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফয়সাল ও তার এক সহযোগী ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। আরও পড়ুন হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে প্রয়োজনে এক মাস শাহবাগে থাকার ঘোষণা হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলেন, ডিএমপি এই মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ জন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে খুনের বিস্তারিত পরিকল্পনা ও সোনা বা অন্য কোনো সম্পদ নয়, বরং পূর্ব-শত্রুতার জেরে এই হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পলাতক মূল খুনিদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বলেন, তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ৭-৮ দিনের মধ্যেই আদালতে এই আলোচিত হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হবে। যারা এই খুনের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে এবং যারা মাঠ পর্যায়ে সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করাই এখন পুলিশের লক্ষ্য। আরটিভি/এআর 
‘হাদির হত্যাকারী দেশ ছেড়ে পালিয়েছে’, স্বীকার করল পুলিশ
ডেইলি স্টারে হামলা, লুট হওয়া কম্পিউটারসহ যুবক গ্রেপ্তার
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডেইলি স্টার ভবনে বর্বরোচিত হামলা, অগ্নিসংযোগ ও দুর্ধর্ষ লুটের ঘটনায় জড়িত আজমির হোসেন আকাশ (২৭) নামে এক দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) তেজগাঁও এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।  গ্রেপ্তার আজমির হোসেন আকাশ তেজতুরীবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে দুটি মনিটর, একটি সিপিইউ, হার্ডডিস্ক ও মাউস উদ্ধার করেছে র‍্যাব। বুধবার র‍্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) মিজানুর রহমান জানান, গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে প্রায় ৪০০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী স্লোগান দিতে দিতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা গেট ও কাচের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তছনছ শুরু করে। হামলাকারীরা কেবল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগই করেনি, বরং কার্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের মারধরের চেষ্টা চালিয়ে পুরো এলাকায় দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। আরও পড়ুন প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯ মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সেই রাতের তাণ্ডবে ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা দুই শতাধিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, উচ্চপ্রযুক্তির ক্যামেরা, সার্ভার ও স্টুডিও সরঞ্জাম গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দাঙ্গাকারীরা ভবনের বিভিন্ন লকার ভেঙে রক্ষিত প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। র‍্যাব জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এই নক্কারজনক হামলার পেছনে থাকা বাকি মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আকাশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আরটিভি/এআর 
ডেইলি স্টারে হামলা, লুট হওয়া কম্পিউটারসহ যুবক গ্রেপ্তার
হাদিকে গুলি করা অস্ত্রের ম্যাগাজিন উদ্ধার, আরও যা জানা গেল 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে র‍্যাব। ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজনদের একজনের আত্মীয়ের বাসার পাশ থেকে এটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) র‍্যাবের একটি সূত্র জানায়, হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সালের বোনের বাসার সংলগ্ন একটি স্থান থেকে ম্যাগাজিনটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা আলামতটি ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়া দুই সন্দেহভাজন ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছে। দেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ফয়সাল ও আলমগীর শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালায়। আরও পড়ুন হাদিকে গুলি, তদন্তে উঠে এলো আঁতকে ওঠার মতো তথ্য  সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই তারা একটি প্রাইভেট কারে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুর অতিক্রম করে ময়মনসিংহে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে তারা ব্যবহৃত গাড়িটি পরিবর্তন করে অন্য একটি প্রাইভেট কারে ওঠে। পরে ওই গাড়িতে করে হালুয়াঘাট উপজেলার ধারাবাজার এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে পৌঁছায়। সেখান থেকে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় মোটরসাইকেলে করে তাদের ভুটিয়াপাড়া সীমান্তে নেওয়া হয়। সীমান্ত পার হওয়ার পর ভারতে তাদের গ্রহণ করে নেয় আরেক ব্যক্তি। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের সেলেতার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদির শারীরিক অবস্থার উন্নতির সুখবর দিয়েছেন তার বড় ভাই ওমর ফারুক। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসকদের বরাতে ওমর ফারুক জানান, হাদির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হার্টবিট এখন স্বাভাবিক রয়েছে। আগের তুলনায় তার হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতাও বেড়েছে। বর্তমানে হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আরটিভি/এএ
হাদিকে গুলি করা অস্ত্রের ম্যাগাজিন উদ্ধার, আরও যা জানা গেল 
হাদিকে গুলি: সীমান্তে যেতে ৫ যানবাহন বদলান দুই সন্দেহভাজন
শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলায় জড়িত দুই সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ ঢাকা থেকে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে যেতে পাঁচ বার যানবাহন বদলান। তারা মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ‘নম্বর প্লেট’ বদলে ভুয়া নম্বর প্লেট লাগিয়ে নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ফেলে দিয়েছিলেন মুঠোফোন ও সিম। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রের দাবি, দুই সন্দেহভাজন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় গত শুক্রবার চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাদিকে গতকাল সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় গত রোববার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ফয়সলসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। পরে মামলাটি ডিবিতে (ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ) হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা ও অর্থের জোগানদাতা পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। সেখান থেকে তিনজন যুবক এসে তাদের দুজনকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে হালুয়াঘাটের ভুটিয়াপাড়ায় নিয়ে যান। রাত আড়াইটার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তারা ভারতে ঢুকে পড়েন। পুলিশ বলছে, ফয়সল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। আলমগীর যুবলীগের রাজনীতি করতেন। হাদির ওপর হামলার ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন, ফয়সলের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু ও ফয়সলের বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে আবদুল হান্নান এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সঞ্জয় চিসিম ও সিমিরন দিওকে। এর মধ্যে গতকাল সামিয়া, সিপু ও মারিয়ার ৫ দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। অটোরিকশা চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সূত্র বলছে, চালক জানিয়েছেন আমিনবাজারে ফয়সল ও আলমগীরের জন্য গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এক তরুণী (ফয়সলের বান্ধবী মারিয়া)। এদিকে ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সল করিম মাসুদের সহযোগী মো. কবিরকে গত রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গতকাল সোমবার র‍্যাবের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়। র‍্যাবের ভাষ্যমতে, কবির ঘটনার কয়েক দিন আগে মাসুদ করিমের সঙ্গে বাংলামোটরে হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে গিয়েছিলেন। হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে হাদি ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে আসছিলেন। এর জেরে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় তাকে। মামলাটির তদন্ত করছে ডিবির মতিঝিল বিভাগ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হত্যাচেষ্টায় সরাসরি অংশ নেন ফয়সল ও আলমগীর শেখ। তবে নেপথ্যে কারা ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। হাদির ব্যবহৃত মুঠোফোন এখনো উদ্ধার হয়নি। ময়মনসিংহে একটি সেতু এলাকা থেকে আরেকটি গাড়ি নিয়ে হালুয়াঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তারা। প্রাইভেটকারটি হালুয়াঘাটের ধারাবাজারের একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে থামে। সেখান থেকে তিনজন যুবক এসে তাদের দুজনকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে হালুয়াঘাটের ভুটিয়াপাড়ায় নিয়ে যান। রাত আড়াইটার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তারা ভারতে ঢুকে পড়েন।তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলার আগের রাতে ১১ ডিসেম্বর সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টে ছিলেন ফয়সল ও আলমগীর। রাত ২টার দিকে ফয়সলের বান্ধবী মারিয়া তার ছোট বোনকে নিয়ে সেখানে যান। তারা একসঙ্গে গল্প করেন। মারিয়া আরও বলেছেন, তার সঙ্গে ফয়সলের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। ১২ ডিসেম্বর সকালে সাভার থেকে একটি মোটরসাইকেলে ফয়সল ও আলমগীর ঢাকায় আসেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সূত্র আরও বলছে, এরপর তারা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ফয়সলের বোনের বাসায় গিয়ে গ্যারেজে মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করেন। সেখানে অবস্থানের পর অটোরিকশা নিয়ে যান আমিনবাজার। অটোরিকশা চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। সূত্র বলছে, চালক জানিয়েছেন আমিনবাজারে ফয়সল ও আলমগীরের জন্য গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এক তরুণী (ফয়সলের বান্ধবী মারিয়া)। আমিনবাজারেই ফয়সল ও আলমগীর মুঠোফোন ও সিম ফেলে দেন। সূত্রের দাবি, আমিনবাজার থেকে কালামপুর হয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক ধরে ময়মনসিংহে যান ফয়সল ও আলমগীর। ময়মনসিংহে একটি সেতু এলাকা থেকে আরেকটি গাড়ি নিয়ে হালুয়াঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তারা। প্রাইভেটকারটি হালুয়াঘাটের ধারাবাজারের একটি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে থামে। সেখান থেকে তিনজন যুবক এসে তাদের দুজনকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে হালুয়াঘাটের ভুটিয়াপাড়ায় নিয়ে যান। রাত আড়াইটার ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তারা ভারতে ঢুকে পড়েন। আরও পড়ুন হাদিকে গুলি: ফয়সাল করিমের সহযোগী কে এই ‘দাঁতভাঙা’ কবির এদিকে গতকাল সকালে ময়মনসিংহের ৩৯ বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার সরকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাদিকে গুলি করার সঙ্গে জড়িতরা হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে পালিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তারা। এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবর্তন করা নম্বর প্লেট ও আসল নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে। এখন মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিককে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে মোটরসাইকেল মালিক সন্দেহে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আবদুল হান্নান রোববার আদালতে বলেছিলেন, তাকে মোটরসাইকেলের বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়ে গেলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি অনেক আগে মোটরসাইকেল বিক্রি করে দিয়েছেন। আরটিভি/এস
হাদিকে গুলি: সীমান্তে যেতে ৫ যানবাহন বদলান দুই সন্দেহভাজন
আরও পড়ুন
হাদি হত্যা: সন্দেহভাজন ফয়সালের ভিডিওবার্তা নিয়ে যা জানা গেল 
খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন ওসমান হাদি: জুমা
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গবি শিক্ষার্থীদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ
শহিদ ওসমান হাদিকে কোনো দলের করা যাবে না: জাবের