ঢাকা রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

৭ বছরের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহৎ বাজার হবে বাংলাদেশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৩, ১২:১৪ পিএম

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে। যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির মত প্রতিষ্ঠিত বাজারগুলোকে এবং বর্তমান উচ্চ-প্রবৃদ্ধির দেশ ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডকেও বাংলাদেশ যাতে ছাড়িয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ কাজ করছে। ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ মধ্য-আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। আর ২০৪০ সালের মধ্যে আনুমানিক মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮৮০ মার্কিন ডলার। কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ৩০০ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বাজারের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হতে পারে।

২০৩১ সালের মধ্যে জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের অনুপাত ৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ২০২৫ সালের মধ্যে কেবল লজিস্টিকস খাতই ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে পরিণত হবে। বাংলাদেশে এখন জ্বালানি, পানি, লজিস্টিকস এবং পরিবহন খাতে ৩৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অবকাঠামো গড়ার সুযোগ রয়েছে এবং ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ও ধনীক শ্রেণির সংখ্যা হবে ৩ কোটি ৪০ লাখে।

সরকারের নানা পদক্ষেপের সাথে সাথে বাংলাদেশকে ঘিরে আরো কিছু ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ফিকি’র সদস্যদের সেই অনুযায়ী বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার অনুরোধ করেছেনন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে তার ভিশনের কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাতে যেরকম অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন বর্তমান সরকার সেই কাজ ইতিমধ্যে করে দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি বিদ্যুৎ, দক্ষ শ্রমিক, শিক্ষিত জনগণ সবদিকেই বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নতি করেছে। এখন এসব অবকাঠামো নিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কোথায় পৌঁছাতে চান সেই কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনয়নকারী এই সংগঠনের সদস্যদের সামনে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি, বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার অনেক দেশের কাছে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং রপ্তানির জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

জানতে চাইলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির(ফিকি) নির্বাহী পরিচালক টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ‘দেখেন আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ আনতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আপনার লক্ষ্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সেই কথা তুলেও ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বাংরাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেছেন, ইতোমধ্যে সবকিছু তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, এখন আপনার বিনিযোগ আনেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই আহবানকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং বাংলাদেশে আরও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে আমরা সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আশা করি আমরা তাতে সফল হবো এবং বাংলাদেশ তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। অদূর ভবিষ্যতে বাঙরাদেশই সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের জায়গা।’

নুরুল কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে বলেছেন, বাংলাদেশ হবে ৩০০ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বাজারের কেন্দ্রস্থল। আমরা মনে করি, ফিকি এই কেন্দ্রস্থলে পরিণত কেরতে বড় ভূমিকা রাখবে।’

বাংলাদেশের ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে রূপরেখা ও পরিকল্পনা প্রণয়নের সাথে সাথে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করে। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর ৬০ বছরে ফিকি ৩৫ টি দেশের বিনিয়োগ বাংলাদেশের ২১ টি সেক্টরে আনতে সহায়তা করেছে। বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রায় ৯০শতাংশ এসেছে ফিকি’র মাধ্যমে।
ইতিমধ্যে ফিকি বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনার পাশাপাশি সেসব বৈদেশিক বিনিয়োগ যে সঠিক ভাবে সঠিক ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় এবং সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা অবদান রাখে তা নিশ্চিত করে।

ইতিমধ্যে ফিকির মাধ্যমে যেসব বৈদশিক বিনিয়োগ বাংলাদেশে এসেছে তারমধ্যে বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধানের ৮০শতাংশই এসেছে ফিকি’র মাধ্যমে। ৫০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ফিকি’র আনা বৈদেশিক বিনিয়োগের কারণে। বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে ২০শতাংশ বিনিয়োগের পিছনে ফিকি’র অবদান রয়েছে।

ফিকি’র মাধ্যমে দেশের ৩১টি জেলায় ৩ লক্ষ মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার পানির সংস্থান করতে ১০২ টি পানি শোধন প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতিদিন ৫ লক্ষ ৩০ হাজার লিটার নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ২৯টি গ্রামে ২ হাজার ৫৯০ টি সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে ফিকি। এতে পার্বত্য এলাকায় ১৩ হাজার মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। সারা দেশে ৭৫টি শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে ৩ হাজার শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছে ফিকি। চার হাজার শারীরিক প্রতিবন্ধীর জন্য কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করাসহ ২১টি সেক্টরে ফিকি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে। এসব সেক্টরের মধ্যে রয়েছে- ব্যাংকিং এন্ড ফাইন্যান্স খাত, সিমেন্ট ও সিরামিক খাত, ক্যামিক্যাল, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট সেক্টর, ফার্টিলাইজার এন্ড এগ্রিকালচার, সফটওয়্যার ও টেলি কমিউনিকেশন, পাওয়ার এন্ড এনার্জি সেক্টর,চামড়াজাত পণ্য, রেডিমেড গার্মেন্টস, শিপিং এবং চা-শিল্প।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ঋণের সুদহার হবে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তবে ভোক্তা ঋণের সুদহার পড়বে প্রায় ১৩ শতাংশ।  যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এখন ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা হলো ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ তথা– সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আগস্টে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং সবশেষ ডিসেম্বরে স্মার্ট রেট বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে এখন সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে জানুয়ারি মাসে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ করতে পারে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অবশ্য একবার সুদহার কার্যকর করা হলে পরবর্তী ছয় মাসে তা আর পরিবর্তন করা যায় না। ডিসেম্বর মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে জানুয়ারি মাসে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। সেই হিসাবে, নতুন ২০২৪ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের সুদহার হবে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ। তবে জানুয়ারিতে ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে ব্যাংক নিতে পারবে ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ। কারণ সিএমএসএমই, ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ তদারকি বা সুপারভিশন চার্জ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যা ডিসেম্বরে ছিল ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ।  এ ছাড়া ডিসেম্বরে বড় অঙ্কের ঋণে সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ব্যাংকের ক্ষেত্রে শুধু ঋণে সর্বোচ্চ সীমা থাকলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত সংগ্রহেও সুদহারের একটা সর্বোচ্চ সীমা দেওয়া আছে। এসব প্রতিষ্ঠান স্মার্টের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ যোগ করে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। ‘স্মার্ট’ রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে ঋণের বিপরীতে সুদ নিতে পারবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এনবিএফআই। সেই হিসাবে ডিসেম্বর মাসে তাদের সর্বোচ্চ ঋণের সুদহার হবে ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং আমানতে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তবে জানুয়ারিতে ঠিক করা ঋণের এই সুদহার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদহার প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে স্মার্ট ছিল ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এরপর প্রতি মাসে একটু করে বেড়ে গত মে মাসে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। জুন ও জুলাইয়ে সামান্য কমে ৭ দশমিক ১০ শতাংশে নামে। এরপর আগস্ট থেকে ধারাবাহিক সুদহার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে ৯০ দশক থেকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা আরোপ করা হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সীমা তুলে নেওয়ার জন্য বলা হয়।  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনেও সুদহারের সীমা প্রত্যাহার অথবা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সরকারের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় নীরব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের অন্যতম শর্ত হলো, সুদহার বাজারভিত্তিক করা। সেই শর্তের আলোকে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য এত দিন মূলত ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছে তারা। সুদের হার বাড়লে মানুষ সাধারণত ব্যাংকে আমানত রাখতে উৎসাহিত হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত জুন ও জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমার পর আগস্ট, সেপ্টেম্বরে মাসেও তা আবার বেড়েছে। সবশেষ গত অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা গত ১১ বছর ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।  বিবিএসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সার্বিক মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছে।
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ আজ
ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে আজ (রোববার) ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। যার কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেনও হবে না। নীতি অনুযায়ী, ব্যাংক হলিডেতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব শেষ করে। এদিন বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। যার কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়। ওইদিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হয় না। এদিকে, শেয়ারবাজারের শেয়ারের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় ব্যাংক বন্ধ থাকলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কোনো প্রকার লেনদেন হয় না।
ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ আজ
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩১ ডিসেম্বর)
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনকে দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেন ঠিক রাখার জন্য তাই মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিত পাঠাচ্ছেন বৈদেশিক মুদ্রা। লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ বিনিময় হার তুলে ধরা হলো- বৈদেশিক মুদ্রার নাম   বাংলাদেশি টাকা   ইউ এস ডলার   ১২০ টাকা ৩০ পয়সা   ইউরোপীয় ইউরো   ১৩৪ টাকা    ব্রিটেনের পাউন্ড   ১৫৪ টাকা ১০ পয়সা   ভারতীয় রুপি   ১ টাকা ২৯ পয়সা   মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত   ২৬ টাকা ০৫ পয়সা   সিঙ্গাপুরের ডলার   ৯০ টাকা ০৭ পয়সা   সৌদি রিয়াল   ২৯ টাকা ২৭ পয়সা   কানাডিয়ান ডলার   ৯০ টাকা   অস্ট্রেলিয়ান ডলার   ৮২ টাকা    কুয়েতি দিনার   ৩৯৮ টাকা ৪১ পয়সা    ** যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩১ ডিসেম্বর)
যে কারণে রোববার বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংকের লেনদেন
আগামীকাল রোববার ‘ব্যাংক হলিডে’ হওয়ায় ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। শেয়ারবাজারের লেনদেনও হবে না। তবে নিজেদের আর্থিক হিসাব মেলাতে ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। নীতি অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব শেষ করে। ‘ব্যাংক হলিডে’তে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংকে গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। এ দিন ব্যাংকগুলো বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হয় না।  আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য বার্ষিক হিসাব-নিকাশ শেষ করতে প্রতি বছর দুই দিন ‘ব্যাংক হলিডে’ থাকে। অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়, শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে।   
যে কারণে রোববার বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংকের লেনদেন
বছরজুড়ে অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক
অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক অর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিচ্ছে আলোচিত বছর ২০২৩। বছরজুড়ে ভুগিয়েছে ডলার সংকট, পিছিয়ে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি। বাজারে চলছে চরম মূল্যস্ফীতি। রেকর্ড গড়েছে খেলাপি ঋণ। ঋণ সহায়তা এগিয়ে এসেছে আইএমএফ। এ বছরই চালু হয়েছে মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। ডলার সংকট করোনা পরবর্তী ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ভুগিয়েছে ২০২৩ কেও। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি কারণে দেশে ডলারের দাম বছর শেষে এখন সর্বোচ্চ উচ্চতার রেকর্ড করেছে। চাপ সামলাতে বাজারে ডলার ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সৃষ্টি হয় তীব্র সংকট। ৮৫ টাকা ডলারের দাম উঠে ১২৮ টাকা পর্যন্ত। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ খালি হয়েছে প্রায় অর্ধেক।  চরম মূল্যস্ফীতি ডলার সংকটে আমদানিতে ঋণপত্র খুলতে বাধার মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আনতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। এমন বাস্তবতায় বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দাম। আর তার সুযোগ নিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরাও। সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন আরও দ্বিগুণ। সরকারি হিসাবে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ। শীত মওসুমে যেখানে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয় সবজি। এবার তার দাম প্রায় শত টাকা ছুঁই ছুঁই। শীতে আলু, পেয়াজ, ডিম ও মাংসের বাজার বেশ গরম। খেলাপি ঋণে রেকর্ড সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল ব্যাংক খাত। পরিচালনা পর্ষদের খামখেয়ালিপনায় বড় বেকায়দায় বেশ কয়েকটি ইসলামি ব্যাংক। খেয়ে ফেলা হয়েছে মূলধন। দেড় লাখ কোটি টাকার উপরে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ। বছর শেষে সিকদার পরিবারের আধিপত্য খর্ব করে ভেঙে ফেলা হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ। আইএমএফ’র সাপোর্ট বেশি কিছু শর্তে অর্থনীতিকে কিছুটা সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ। ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির পাশাপাশি চলতি বছরে দুটি কিস্তি ছাড় করে সংস্থাটি। ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ে চমক না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি রাজস্ব আদায়ে। অর্থবছরের পাঁচ মাসে আহরণ হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ।  পেনশন স্কিম ২০২৩ সালে বড় চমক বেসরকারি খাতের আর্থিক নিরাপত্তায় বহুল প্রতীক্ষিত সার্বজনীন পেনশন স্কিম। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কিমটির উদ্বোধন করেন। তবে টাকার মান কমে যাওয়া ও স্কিমটি চেয়ে ব্যাংকের সুদের হার বেশি থাকায়, এতে তেমন সাড়া দেয়নি দেশের মানুষ। তিন মাসে স্কিমে যুক্ত মাত্র ১৭ হাজার মানুষ। উন্নয়নের মাইলফলক বছরজুড়ে ছুঁয়েছে উন্নয়নের অনন্য মাইলফলক। এ বছরই চালু হয়েছে রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে মেট্রোরেল, উদ্বোধন শেষে কর্ণফুলী টানেলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে গাড়ি, অনন্য কারুকার্যে নির্মিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল খুলে দেয়া হয়েছে আকাশ পথে যাত্রী চলাচলের জন্যে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০২৩ এ অর্থনীতিক সংস্কার করার প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান বৃদ্ধি করার যে ব্যাপক চাহিদা সেটা খুব স্পষ্ট হয়ে বের হয়ে আসছে। তাই সেটাকে আর বিলম্ব না করে দ্রুত আগামী বছরের শুরুতে যথাসম্ভব দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বছরজুড়ে অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক