ঢাকা শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি

বর্তমানে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে; কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, লক্ষ্য করা যাচ্ছে খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক এর চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি লক্ষ্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আজ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বিকেল ৩টায় জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে চলমান এলপিজি সংকট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় যাতে নিচের পর্যবেক্ষণগুলো উঠে এসেছে-

১) দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত আছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ব বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকট ও কিছু কিছু কার্গোর (জাহাজ) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকট উদ্ভূত হয়েছে।

২) প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ ডিসেম্বরে আমদানির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বাড়লেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নাই।

আরও পড়ুন



৩) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এ মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করতে পারে জেনে খুচরা বিক্রেতারা এ সংকট তৈরি করেছে মর্মে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং আমদানিকারকরা জানিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ থেকে ১ হাজার ৩০৬ টাকায় বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

৪) এরই মধ্যে গ্রিন ফুয়েল বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবির বিষয়ে সংস্লিষ্ট (এলসি সহজ করা, আরোপিত ভ্যাট হ্রাস করা ইত্যাদি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দাবিগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এলপিজি বাজারে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে আজ বিবৃতি প্রদান করবে। এছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কেবিনেট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এ সব পদক্ষেপের ফলে এলপিজির দাম শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস আজ
আজ ২ অক্টোবর জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস।
জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস আজ
চড়ামূল্যের বাজারে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কৃত্রিম সংকট
রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে শীতের আগাম সবজি হিসেবে দাপট দেখাচ্ছে শিম। ইতোমধ্যে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে এই সবজি। সেই সঙ্গে ক্রেতা সাধারণের ভোগান্তি বাড়িয়েছে এলপিজি গ্যাস, সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ সংকট। নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বেশি দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার, রামপুরা, হাজীপাড়া, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন বেশিরভাগ দোকানে প্যাকেটজাত এক কেজি চিনির খুচরা মূল্য ১১০ টাকা হলেও তা ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আবার এক লিটার সয়াবিন তেল ২০৪ টাকার পরিবর্তে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও প্যাকেট চিনি ও বোতলের তেল মিলছে না। খোলা তেল-চিনি বিক্রি হচ্ছে প্যাকেটজাত পণ্যের দামে। এদিকে সবজির বাজারে দেখা যায়, বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা তুলনামূলক কিছুটা কম দামে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।  দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকায়। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ৩০ টাকা কেজিতে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি ক্রেতা ইদ্রিস মিয়া বলেন, আজ বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৪০ টাকায়। সব কিছুর দাম বেশি। এদিকে মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ১৫৫ টাকা ও চারটি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  মাছের বাজারেরও একই চিত্র। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে।  মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ এবং মাছ জীবিত বা মৃত হওয়ার উপরও দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে। মাছ বিক্রেতা নাজিম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। আজকে তেলাপিয়া ২৫০ টাকা আর পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। মাছের দাম সরবরাহের উপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আবার মাছ বেশি আসলেও দাম কমে যায়। আবার ক্রেতা বেশি আসলেও দাম বেড়ে যায়।  বাজারের কড়া উত্তাপের মধ্যে ক্রেতাদের নতুন করে বিপাকে ফেলেছে এলপিজি গ্যাসের অতিরিক্ত দাম বৃষ্টি ও কৃত্তিম সংকট। প্রতি মাসেই সরকারের পক্ষ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও, সেই দামের চেয়ে বেশিতে ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি আসছেন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা। জানতে চাইলেই তারা বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয় বলে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না তাদের পক্ষে। সম্প্রতি আরও খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি। সবশেষ যেখানে প্রতিটি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা বেঁধে দিয়েছে সরকার, সেখানে সংকটের কথা বলে একেকটি এলপিজির সিলিন্ডারের জন্য ভোক্তাদের কাছ থেকে ২২০০ থেকে ২৬০০ টাকা নিয়ে নিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। আরটিভি নিউজ/এসআর
চড়ামূল্যের বাজারে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কৃত্রিম সংকট
দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
সবশেষ গত বুধবার দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই দামেই শুক্রবার (২ অক্টোবর) দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে সোনা। এদিকে ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা।  আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা। সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।  এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আরটিভি নিউজ/এসআর
দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, সেপ্টেম্বরের ৩০ দিনে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
রেমিট্যান্সে সুবাতাস, সেপ্টেম্বরের ৩০ দিনে এলো ৩৪ হাজার কোটি টাকা
চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের
ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড ১২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি।
চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের
আরও পড়ুন
চড়ামূল্যের বাজারে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কৃত্রিম সংকট
সরকারি দামেই বিক্রি করতে হবে এলপিজি, না মানলে কঠোর ব্যবস্থা
সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে মিলছে না এলপিজি, ডিসিদেরকে মাঠে নামার নির্দেশ
দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই, মন্ত্রীকে নিশ্চিত করলেন অপারেটররা