ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

টানা তিন বছর কমল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
গুগল এলএম নোটবুক ব্যবহার করে তৈরি গ্রাফিক্স। আরটিভি

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকায় গত তিন বছর ধরে চলা মন্দাভাবের এক উদ্বেজনক চিত্র উঠে এসেছে সরকারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার টানা তৃতীয় বছরের মতো কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের ওয়েবসাইটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশে। নিম্নমুখী এই প্রবণতা অব্যাহত ছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও, তখন প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ হয়।

আরও পড়ুন

এর আগে কেবল ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির চরম সংকটের সময় প্রবৃদ্ধির হার এর চেয়ে নিচে অর্থাৎ ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছিল। সেই হিসেবে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ৪৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমলেও আশার কথা হলো মাথাপিছু আয় কিছুটা বেড়েছে। টানা দুই বছর কমার পর এবার মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৭৬৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতির পেছনে খাতভিত্তিক কিছু পরিবর্তনের চিত্রও পাওয়া গেছে। বিবিএসের তথ্যমতে, গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি এবং সেবা—উভয় খাতের প্রবৃদ্ধিই বেশ ধীর হয়ে পড়েছে। তবে এর বিপরীতে শিল্প খাতে আগের চেয়ে কিছুটা বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়াই এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের প্রধান কারণ। কৃষি ও সেবা খাতের মতো বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতগুলোর ধীরগতি সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও মাথাপিছু আয়ের পরিসংখ্যান কিছুটা ইতিবাচক, তবে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে আসাকে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেই অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। সবশেষ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়ায় বাজুস। এর আগে এক দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল। দুই দফায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়েছে মোট ২ হাজার ৭৪১ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সোনার দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও মানের ওপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। এদিকে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা প্রতি ভরি। অর্থাৎ, আজকের হিসাবে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যোগ হলে গহনা কিনতে ক্রেতাকে আরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আরটিভি/ এমএ
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চড়া সবজির বাজার
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা লেগেছে রাজধানীর সবজির বাজারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সবজির দামও বাড়াতে হয়েছে। এতে বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চড়া সবজির বাজার
লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এবার যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চ মালিকদের সংগঠন।
লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: পথে পথে গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য
দেশের বিভিন্ন রুটে সরকার গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর আগেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়ে গেছে। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই নৈরাজ্য এখনও চলছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: পথে পথে গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড