ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

জিডিপিতে এসএমইর অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের

বাসস

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
প্রতীকী ছবি

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নীত করতে কাজ করছে সরকার। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পের বহুমুখীকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতি বিকাশে এসএমই খাত ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান আরও শক্তিশালী করাই নতুন এই লক্ষ্যমাত্রার মূল লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বর্তমানে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন, অর্থায়নের সহজ প্রবেশাধিকার এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে এই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখতে পারবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার জাতীয় এসএমই নীতিমালা বাস্তবায়ন করছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণের প্রবাহ বাড়ানো এবং এসএমই ক্লাস্টারগুলোতে ডিজিটাল রূপান্তরকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নারী উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপদের সহায়তা করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ সহজতর করতে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

এসএমই ফাউন্ডেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে তা কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধিই বাড়াবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও শক্তিশালী করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তির ঘাটতি এবং বাজারে প্রবেশের বাধার মতো বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

তিনি জানান, এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, স্বল্প সুদে ঋণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ এসএমই খাতের চিত্র বদলে দিচ্ছে। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা তাদের বাজারের পরিধি ও পরিচালনা দক্ষতা বাড়াতে পারছেন। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাজার সংযোগ সৃষ্টির বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

ফারজানা খান বলেন, নীতি সহায়তা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এসএমই খাতকে শক্তিশালী করতে ফাউন্ডেশনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ফারজানা খান আরও বলেন, একটি জাতীয় ফোকাল সংস্থা হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র ব্যবসার টেকসই উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতে অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, বছরের পর বছর ধরে ফাউন্ডেশনটি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, বৈচিত্র্যময় পণ্য কর্মসূচি, ক্লাস্টার-ভিত্তিক শিল্প উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশি-বিদেশি বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে বাজার সংযোগের মতো উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করে আসছে।

তিনি জানান, বিশেষ করে উৎপাদন, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে ফাউন্ডেশনটি অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করছে।

আরও পড়ুন

এছাড়া, ব্যবসায়িক কর্মকা-ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং সহায়তা সেবার মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং), হস্তশিল্প, পাটজাত পণ্য এবং কৃষিভিত্তিক পণ্যের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে শক্তিশালী করেছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখছে।

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও এসএমই মালিকরা দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সীমিত সুযোগ, সুদের উচ্চ হার, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং দক্ষ জনশক্তির অভাবের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে চলেছেন।

দেশি ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোক্তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রক্রিয়াগুলো সহজীকরণ এবং উন্নত লজিস্টিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

রংপুরে সামান্য পুঁজিতে শুরু হওয়া একটি ক্ষুদ্র কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান এখন একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে ২০ জনেরও বেশি স্থানীয় কর্মী কাজ করছেন।।

এসএমই অর্থায়ন প্রকল্পের সহায়তায় এই ব্যবসাটি এখন একাধিক জেলায় প্যাকেটজাত কৃষি পণ্য সরবরাহ করছে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে এই খাতের সম্ভাবনারই বহিঃপ্রকাশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুর রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এসএমই ক্লাস্টারগুলোকে শক্তিশালী করা, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন তিনি।

রাশেদুর রহমান ঢাবির ইনোভেশন, ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ সেন্টারেরও নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নীতি সহায়তা এবং ও উদ্ভাবন অব্যাহত থাকলে উন্নত অর্থনীতি হওয়ার পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার মূল ভিত্তি হয়ে থাকবে এসএমই খাত।

এদিকে, ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এসএমই খাতকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায়ের শিল্পায়নে এই খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন

তিনি জানান, কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের নিয়ে এসএমই একটি বৈচিত্র্যময় গ্রাহক ভিত্তি গড়ে তুলেছে। ব্যাংকটি তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী চলতি মুলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল), মেয়াদী ঋণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নসহ বিভিন্ন ঋণ সুবিধার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে সেবা প্রদান করে আসছে।

তার মতে, এসএমই অর্থায়ন কেবল একটি ব্যবসায়িক খাতই নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার; বিশেষ করে প্রধান শহরগুলোর বাইরে উদ্যোক্তা তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম এবং স্বল্প সুদের কর্মসূচিতে ব্যাংকের অংশগ্রহণ এই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

তবে এসএমই অর্থায়নে দীর্ঘস্থায়ী কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঠিক আর্থিক দলিলপত্রের অভাব, জামানতনির্ভর ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা এবং ছোট অংকের ঋণে বেশি পরিচালন ও তদারকি ব্যয় এ খাতের প্রধান সমস্যা।

তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সঠিক সহযোগিতা পেলে এসএমই খাত ব্যাংক ঋণ পাওয়ার যোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধের আচরণও সন্তোষজনক।

কৌশলগত অবস্থান থেকে তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাতে প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত পণ্যের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তাদের মধ্যে আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ শৃঙ্খলা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আশা করেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নয়ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের ফলে এসএমই খাত ব্যাংক ও জাতীয় অর্থনীতি উভয় ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে টিকে থাকবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটোরিয়ামে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বাগেরহাট ও মোংলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা আরও জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। আরটিভি/এসআর  
মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে তেল, রসুন ও সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। এক দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। 
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এক দিনেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
উত্তরাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর পথে এগোচ্ছে সরকার। নতুন এ স্কিমের আইনগত ভিত্তি তৈরিতে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে তা জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে স্কিমটি চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এখন শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের কাঠামো, পরিচালনপদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য কারিগরি বিষয় নির্ধারণের কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা এ বিষয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি স্কিমটির আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির ভিত্তিতে নতুন এ স্কিম চালু করা হলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একটি পৃথক বিনিয়োগ ও পরিচালনা কাঠামো যুক্ত হবে। এতে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সুবিধা নিতে আগ্রহী জনগোষ্ঠীর জন্য অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নতুন এ স্কিমে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে পেনশন তহবিল পরিচালনার কাঠামো তৈরি করা হবে। তহবিলের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, পরিচালন ব্যয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কার্যকর কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের জন্যও বেশ কিছু সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ধারিত সুবিধাভোগীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি অন্যতম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এ সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। পেনশনার নিজে জীবদ্দশায় আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন। এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। এ অর্থবছরের জন্য মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ হারে মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়াতে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধা পান না, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করা এবং তাদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশগামী কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এ বয়সসীমা কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সর্বজনীন পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন নিশ্চিত করা এবং ঋণ দেওয়ার ফলে পেনশনভোগীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। কোন মডেলে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা যেতে পারে এবং এতে পেনশন তহবিলের ওপর কী ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশনে গ্রাহক নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগে একজন নতুন গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য ১৫ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তহবিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ কার্যক্রমে অতিরিক্ত নিরীক্ষা কাঠামো যুক্ত হবে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরু পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাদের জমা করা মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন এবং এ স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। তবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত হারে অংশগ্রহণ না বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক নতুন স্কিম চালু, পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের মুনাফা নির্ধারণ, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধনে প্রণোদনা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদ্যমান চারটি স্কিমের পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ স্কিম চালুর আগে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন, সংসদীয় প্রক্রিয়া, বিনিয়োগনীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ও কারিগরি বিশ্লেষণ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন স্কিম চালুর পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে। ফলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম শুধু নতুন একটি স্কিম সংযোজনের উদ্যোগ নয়; বরং বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার বিনিয়োগ কাঠামো, অংশগ্রহণের পরিধি ও সুবিধার ধরন আরও বিস্তৃত করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটি সামনে এসেছে। আইনগত কাঠামো চূড়ান্ত করে জাতীয় সংসদে পাঠানো এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপরই এর বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে। আরটিভি/এসকে
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে যাচ্ছে বিল
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
চলতি অর্থবছরেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফে জমা টাকার ওপর সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ মুনাফা দেবে সরকার। টাকার পরিমাণ অনুযায়ী তিনটি স্তরে এ মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরেও একই হারে মুনাফা দেওয়া হয়েছিল।
প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর 
শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
বাজেট: শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশে করার প্রস্তাব থাকতে পারে
জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী