ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির হারে দুটি বড় ঝুঁকি হলো — জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম বা দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাত। এমন সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ।
আইএমএফের কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। তেল আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় এতে ভারতের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
আইএমএফ চলতি জুলাইয়ের পূর্বাভাসে ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে। তবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, জ্বালানি তেলের দামের চাপ কমে এলে পরবর্তী অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি আবার কিছুটা গতি পেতে পারে।
আইএমএফের ভারত ও ভুটানের জ্যেষ্ঠ আবাসিক প্রতিনিধি রনিল সালগাদো বলেছেন, ভারতের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রধান ঝুঁকি দুটির একটি হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিস্তার এবং এর ফলে তেলের দামে সম্ভাব্য ঊর্ধ্বগতি। অন্যদিকে, এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা দুর্বল হলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যদামের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অর্থনীতিতে বর্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। দুর্বল বা অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদন কমিয়ে গ্রামীণ আয় ও ভোগব্যয়কে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এরই মধ্যে ভারতের জুন মাসের খুচরা মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং অনিয়মিত বর্ষাকে মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ গতিপথের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আইএমএফের মূল্যায়নে ভারতের অর্থনীতির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি অর্থনৈতিক সূচকে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থিতিস্থাপকতা দেখা গেছে। ফলে উচ্চ জ্বালানি দামের নেতিবাচক প্রভাব না থাকলে প্রবৃদ্ধির গতি আরও শক্তিশালী হতে পারত।
ভারতের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো-একদিকে তেলের দামের সম্ভাব্য ধাক্কা সামলানো, অন্যদিকে বর্ষার অনিশ্চয়তার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভারতের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি-দুই ক্ষেত্রেই চাপ আরও বাড়তে পারে।
আরটিভি/ এসকেডি




