ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

লক্ষ্মীপুরে সার সংরক্ষণে হবে বাফার গুদাম, ব্যয় ৪৯ কোটি টাকা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুর জেলায় সার সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি বাফার গুদাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৮১৪ টাকা।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) বাস্তবায়নাধীন ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির জন্য ভ্যাট ও করসহ মোট ৪৯ কোটি ১৪ লাখ ২৭ হাজার ৮১৪ টাকা ব্যয় হবে, যা সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে আহ্বান করা দরপত্রের বিপরীতে চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে দুটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যৌথভাবে অংশগ্রহণকারী এমবিএল এবং আরইএল, ঢাকা সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। তাদের কাছ থেকেই নির্ধারিত মূল্যে গুদাম নির্মাণকাজ ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের নির্ধারিত স্থানে ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইউরিয়া সার সংরক্ষণের জন্য স্টিল কাঠামোর বাফার গুদাম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন, অফিস-কাম-অতিথিশালা, আনসার ব্যারাক, উপকেন্দ্র ও জেনারেটর কক্ষ, পৃথক শৌচাগার, ওয়াচ টাওয়ার, রিইনফোর্সড কংক্রিটের ঝড়ের পানি নিষ্কাশন নালা, পাম্প হাউস ও ভূগর্ভস্থ পানির আধার, সীমানাপ্রাচীর, প্রধান ফটক ও প্রহরী কক্ষ নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া পুকুর খনন, ১০০ কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, ৬০ কিলোভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার জেনারেটর এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল অনুমোদন করে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ ও তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর
বুধবার (৭ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আনিস মাত্তারের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ ও তৈরি পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে জোর বাণিজ্যমন্ত্রীর
ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চলতি বছরের ১৬ মার্চ ২০টি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিল ইনভেস্ট বাংলাদেশ। এই মধ্যে ৭টি বাস্তবায়ন হয়েছে এবং পাইপলাইনে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম, সমন্বিত বিনিয়োগসেবা এবং বিদেশি বিনিয়োগে নতুন প্রণোদনা। একইসাথে বিভিন্ন দেশ ও খাত থেকে সম্ভাব্য ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের একটি পাইপলাইনও তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এখন সিদ্ধান্ত বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছিলেন, বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের যে লক্ষ্য, এই পরিকল্পনা তারই অংশ। আমরা বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে অবকাঠামো, সেবার মান এবং সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছি। কিছু পরিবর্তন ইতিমধ্যে এসেছে। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রোচি বাসসকে বলেন, ২০টি উদ্যোগকে তিনটি বড় স্তম্ভের অধীনে নেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো- শক্তিশালী অবকাঠামো, বিনিয়োগে সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন। অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর অন্যতম ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। এপিএম টার্মিনালস ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এটি চালু হলে ৭০০’র বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা প্রায় ৪৪ শতাংশ বাড়বে। চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হতে পারে। প্রকল্পটির বিনিয়োগ পাইপলাইনের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ইতিমধ্যে সক্রিয় রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন কাস্টমস ছাড়পত্র ও ব্যাংকিং সেবাও সার্বক্ষণিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পণ্য খালাসের সময় কমবে এবং ব্যবসায়ীদের বিলম্বজনিত সমস্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক ছাতার নিচে বিনিয়োগসেবা বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সহায়তা, জমি, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ সম্পর্কে সমন্বিত সেবা পাওয়ার কথা। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পন্ন হওয়াও বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা পাবে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা থাকবে। এর ফলে উৎপাদন, অবকাঠামো, ইলেকট্রনিকস এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী-ব্যবসায়ী সংলাপে ৭৫ শতাংশ অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। প্রথম দুই দফা সংলাপে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ২৮টি সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ২১টি বিষয়ে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ উত্থাপিত সমস্যার প্রায় ৭৫ শতাংশের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সপ্তম উদ্যোগ হিসেবে এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচিও অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আনতে সক্ষম যোগ্য ব্যক্তিকে দেশে আনা বিদেশি বিনিয়োগের ইক্যুইটির ১ দশমিক ২৫ শতাংশ সমপরিমাণ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুমোদিত হয়েছে। এখন একটি পৃথক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে কর্মসূচিটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। বাকি ১৩ উদ্যোগও এগোচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশের ২০ উদ্যোগের বাকি ১৩টিও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, প্রথম সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), বাংলাবিজ বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ, চীনের গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয় স্থাপন এবং দেশব্যাপী শিল্প খাতের ম্যাপিং। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় পরিচালনার জন্য আগামীকাল বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মধ্যে একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বন্দর ও লজিস্টিকস অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড এই কনসেশন ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে। চুক্তিটি বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পিপিপি কাঠামোর আওতায় এনসিটির পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মানের পরিচালন পদ্ধতি যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় এর সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এনসিটি পরিচালনায় নতুন এ ব্যবস্থার ফলে ভবিষ্যতে দেশের বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে আরও বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ টনে দাঁড়াবে। অর্থাৎ সক্ষমতা বাড়বে ১৫০ শতাংশ। এ টার্মিনাল থেকে ৬ হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানও হবে। ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের পাইপলাইন নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হচ্ছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করেছে। এর মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ ইতিমধ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। দেশভিত্তিক সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে চীন থেকে ৬০ কোটি ডলার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০ কোটি ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ কোটি ডলার আসতে পারে। খাতভিত্তিক হিসাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রায় ৩০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে রয়েছে ২০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা। নতুন বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ এফডিআই হিটম্যাপও তৈরি করেছে। এতে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উন্নতমানের বস্ত্র, ওষুধশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, হালকা প্রকৌশল, জুতা এবং চামড়াজাত পণ্যকে দ্রুত বিনিয়োগ প্রবেশের উপযোগী খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত সেবা পেতে নতুন প্যাকেজ বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও দ্রুত করতে বাংলাবিজের আওতায় তিন দিনের ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’ চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি ১৪ দিনের ‘বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ’ তৈরি করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বিনিয়োগের শুরু থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে। নাহিয়ান রহমান রোচি জানান, পাঁচটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অধীনে ১০ হাজার একরের বেশি শিল্প জমিতে ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে একটি পোর্টফোলিও তৈরির কাজও চলছে। একই সঙ্গে চীনে বিনিয়োগ প্রচার ও যোগাযোগ বাড়াতে গুয়াংজুতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের একটি কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের কয়েকটি বড় সমস্যা হচ্ছে অবকাঠামোর ঘাটতি, বিচ্ছিন্ন সেবা, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত প্রকল্পের সীমিত সুযোগ- এসব মোকাবিলায় উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পথ আরও সুগম হবে। আরটিভি/এসআর
ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে ১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ
বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন
দাম বাড়ার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় আছেন। এতে সুদের হার নিয়ে নীতির্নিধারকদের পরবর্তী অবস্থানের বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত পাওয়ার আশায় আছেন তারা। বুধবার (৭ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৪৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫০ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দামও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৭ ডলারে দাঁড়ায়। নাগাডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফ্র্যাঙ্ক ওয়ালবাম বলেন, ‘সোনার দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও তা সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখাতে পারে।’ ওয়ালবাম আরও বলেন, সভার কার্যবিবরণী থেকে ফেডের মুদ্রানীতি এবং সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সমর্থনের মাত্রা স্পষ্ট হবে। এটি ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার হিসাবও বদলে দিতে পারে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ঘটনার জেরে দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের আয়, ডলার বা তেলের দামে যে পরিবর্তন আসবে; তা সোনার দামের ওপর প্রভাবকে আরও জোরালো করে তুলতে পারে। ফেড কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অঙ্গীকারের বিষয়টি উঠে এসেছে। সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডেলি বলেছেন, সুদের হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন কি না, তা মূলত নির্ভর করছে মুদ্রাস্ফীতি উসকে দেওয়া কারণগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে নাকি অব্যাহত থাকছে তার ওপর। অন্যদিকে, কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফ স্মিড বলেছেন, মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সুদের হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন। উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সোনার চেয়ে এমন সব সম্পদকে বেশি পছন্দ করেন, যা থেকে নিয়মিত আয় করা যায়। এদিকেইতালির সোরেন্টোতে অনুষ্ঠিত লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৩ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ এবং সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহ’ মাত্রায় কমাতে হবে। স্পট সিলভারের দর প্রায় ১ শতাংশ কমে ৬১ দশকি ১২ ডলারে নেমেছে এবং প্ল্যাটিনামের দর শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দর শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: রয়টার্স আরটিভি/এসআর
বিশ্ববাজারে সোনার দামে পতন
বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০১ ডলার অতিক্রম করেছে।  বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৯৩ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৫১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলে ৮২ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯০.২৫ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্ট একটি ক্রান্তীয় ঝড় দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বছরের প্রথম আটলান্টিক হারিকেনে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের ৫ শতাংশ মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে হয়। ঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার ছয়টি শোধনাগারের কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলো দেশটির মোট পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকের প্রতিনিধিত্ব করে। দেশটির মোট পরিশোধন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ ব্যারেল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়াও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ২০ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে পেট্রোলের মজুতও কমেছে। তবে পরিশোধিত জ্বালানি বা ডিস্টিলেটের মজুত সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে প্রতিদিন ৫৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। গত সাত থেকে ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং ২০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি। সোমবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর অভিযান চলার মধ্যেই এসব হামলা হয়। অভিযানে রিয়াদ আকাশপথে সহায়তা দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঝড়জনিত সরবরাহ ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছে। সূত্র: আল জাজিরা আরটিভি/এসআর
বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
চিনি কলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার নির্দেশনা
লোকসানকৃত চিনি কলে উৎপাদিত চিনি ব্যতীত অন্যান্য দ্রব্য দিয়ে বায়ো প্রডাক্ট তৈরি করে কীভাবে চিনি কলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায় সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। 
চিনি কলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার নির্দেশনা
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে জাল টাকাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার
বিশেষ বৃত্তির অবশিষ্ট টাকা আবারও পাচ্ছেন জবির শিক্ষার্থীরা
পাবিপ্রবিতে মিলছে ১০ টাকায় গরুর মাংস, তৃপ্তির হাসি শিক্ষার্থীদের
অক্টোবরে কোন জ্বালানি তেলের দাম কত টাকা হবে, সিদ্ধান্ত দিলো সরকার