বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম আকাশছোঁয়া

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৪:১২ এএম


বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম আকাশছোঁয়া
ছবি: সংগ্রহীত

প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি কমে গেছে, যার ফলে শহরের বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর নাভিশ্বাস উঠেছে।

জুলাইয়ের শুরুর দিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তরাঞ্চলসহ সবজি উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে ঘন ঘন বৃষ্টিপাত ও মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির আগে সবজির দাম কম ছিল।

সবজি বিক্রেতারা জানান, অতিবৃষ্টিতে ক্ষেতের সবজি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় নতুন সবজি তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে সবজি আনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। মূলত বাজারে সরবরাহ সংকট ও বাড়তি পরিবহন খরচের কারণেই দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

দেশের উত্তারাঞ্চলে সবজি উৎপাদনকারী দুই জেলা রংপুর ও গাইবন্ধার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই টানা বৃষ্টির আগে ও পরের ব্যবধানে প্রতিমন (৪০ কেজি) পটল ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৬০০ টাকা। মরিচ ৮০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা, বেগুন ১,৬০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০০ টাকা মনের ঢেড়শের বর্তমান দাম ২৪শ টাকা, করলা ১,৫০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা এবং বরবটি ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৮০০ টাকায়। একই হারে মিস্টি কুমড়া, লাউ, জালি কুমরা, ধুন্দল, ঝিঙা, চিচিংগা এবং কাঁচা কলার দামও বেড়েছে একই হারে।

রংপুর ও গাইবান্ধার কয়েকজন সবজি চাষি জানান, সবজির উৎপাদন ৫০ থেকে ২০ শতাংশে নেমে আসায় হাটে সবজির সরবরাহও একই হারে কমেছে। পাইকারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। ফলে কৃষকরা বেশি দাম পাচ্ছেন। ঢাকা- চট্টগ্রামসহ বড় বিভিন্ন জেলা শহরে সবজি সরবরাহকারী পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বাড়তি দাম দিয়েও মোকামের চাহিদা অনুযায়ী সবজি কিনতে পারছি না। কৃষকরা যোগান দিতে পারছেন না। আগে যে কৃষক ৪ মন সবজি নিয়ে হাটে আসতেন তিনি বর্তমানে এক দেড় মনের বেশি দিতে পারছেন না।

সবজি চাষি সাজ্জাদ মিয়া এ বছর ১০০ শতাংশ জমিতে আদা, বরবটি, বেগুন চাষ করেছিলেন। তিনি জানান, ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সবজির পুরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আগে যেখানে ৬ মন বেগুন পেতাম, এখন সেখানে মাত্র দেড় মন বেগুন তুলতে পারছি। উৎপাদন কমলেও সবজির ভালো দাম পচ্ছি।

আরও পড়ুন

চাষি রফিক রাজা জানান, বৃষ্টির কারণে সেখানকার অধিকাংশ কৃষকের অর্ধেকেরও বেশি সবজি ফসল নষ্ট হয়েছে। প্রতি বছরই বৃষ্টি হয়, কিন্তু এ বছরের মতো এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি। আমার ৯০ শতাংশ জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আগে প্রতি সপ্তাহে ৪-৫ মণ সবজি বিক্রি করতাম, কিন্তু এখন প্রায় কিছুই বিক্রি করতে পারছি না। গত বছর তার জমিতে ১০০ মণ মরিচ উৎপাদিত হয়েছিল, কিন্তু এ বছর হয়েছে মাত্ৰ ১৫ মণ।

ব্যবসায়ী আজাদ মজুমদার জানান, বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উৎপাদন ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে গেছে। আগে তিনি প্রতি সপ্তাহে ৩০-৪০ টন সবজি পরিবহন করতেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন। কোনো কৃষক যদি হাটে দুই মণ সবজি নিয়ে আসেন, তবে পাঁচজন ব্যবসায়ী তা কেনার জন্য প্রতিযোগিতা করেন এবং দাম বাড়িয়ে দেন। এ কারণেই যে সবজির দাম আগে ১০ টাকা ছিল, এখন তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission