সোনা ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে আনতে আসছে নতুন নীতিমালা

আরটিভি নিউজ  

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৯:১৯ এএম


সোনা ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে আনতে আসছে নতুন নীতিমালা  
সোনা খাতে আসছে নতুন নীতিমালা, বদলে যেতে পারে পুরো বাজার । ছবি: সংগৃহীত

দেশের সোনা ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। বৈধ আমদানি, ডিজিটাল হিসাব, মজুত নিবন্ধন, কর ও শুল্কে স্বচ্ছতা এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানিকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬।’।

নীতিমালাটি কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা কমবে, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং সোনা চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, কাস্টমস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে খসড়া নীতিমালা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের আগামী রোববারের (৯ আগস্ট) মধ্যে লিখিত মতামত দিতে নির্দেশ দেন। মতামত পর্যালোচনা করে দ্রুত নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও সোনা খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের সোনাবাজারের আকার প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার হলেও এর বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে পরিচালিত হয়। বৈধ আমদানির তুলনায় অবৈধভাবে সোনা দেশে প্রবেশের পরিমাণও বাড়ছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবং ব্যবসায় তৈরি হচ্ছে অসম প্রতিযোগিতা।

আরও পড়ুন

নতুন নীতিমালায় বৈধভাবে আমদানি করা প্রতিটি সোনার বার ও অলংকারের উৎস, মজুত, বিক্রি ও ব্যবহার নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা সোনার পরিমাণ, কোথা থেকে এসেছে, কত বিক্রি হয়েছে এবং কত মজুত রয়েছে—এসব তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি লাইসেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মান নিয়ন্ত্রণ, হলমার্কিং, মূল্য সংযোজনভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা এবং রপ্তানিতে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এতদিন একটি বড় ব্যবসায়িক খাত আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে ছিল। এখন বাস্তবসম্মত নীতিমালার মাধ্যমে পুরো সোনা খাতকে বৈধ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশীয় বাজারে সোনার দাম প্রতিবেশী দেশের তুলনায় অস্বাভাবিক কম হলে তা চোরাচালান বাড়ায়। তাই শুল্ক ও কর নির্ধারণে দুবাইসহ আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের দাম বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ তৈরি হলে দেশীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রতিযোগিতামূলক স্বর্ণালংকার তৈরি করতে পারবেন। এতে নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি আয়ের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে শিক্ষা, কৃষি, পশুপালন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণের নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়। অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে, দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সোনার দাম ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission