ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকার চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৭ আগস্ট) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম সর্বোচ্চ ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৪০ ডলারে ওঠে। সর্বশেষ ৭২ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৯ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়।

এদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার্স ৪৪ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএনওসি) পরিচালিত ট্যাংকার এবং সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দুই ধরনের তেলের ফিউচার্সের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

সপ্তাহান্তে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান সংঘাতের মধ্যে আমেরিকানদের কিছুটা বেশি দামে পেট্রোল কেনার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিঙ্গাপুরে ফিলিপ নোভার মার্কেট ইনসাইটসের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেভার মতে, আগস্টের শুরুতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর তেলের দাম এখন প্রায় পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বাজারে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব আবারও বাড়ছে।

তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বড় ধরনের আগ্রাসনের প্রমাণ না পাওয়া গেলে তেলের দাম আরও বাড়ার সুযোগ সীমিত বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে ট্যাংকার বা তেল অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না এলে বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।

এদিকে, ট্যাংকারে হামলার পর সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেপলারের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করে। রোববার (১৬ আগস্ট) কোনো পণ্যবাহী জাহাজই প্রণালিটি পার হয়নি। অথচ আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩১টি।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত শুক্রবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী এডিএনওসি পরিচালিত তৃতীয় একটি জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রণালিতে এডিএনওসির জাহাজ জড়িত আরও দুটি ঘটনার জন্যও ইরানকে দায়ী করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৩১ হাজার কোটি টাকায় আধুনিক হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
নানা জটিলতা থাকলেও এগিয়ে চলছে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প। প্রকল্পতির জন্য প্রায় ৩১ হাজার কোটি ৫৭ লাখ টাকার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৮ হাজার ৫৬৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা আর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিপিসির নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থায়নের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ সরকারি এবং ৪০ শতাংশ বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত। প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া ‘ইআরএল ইউনিট-টু’ প্রকল্পটি চালু হলে বছরে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় তিন গুণ বাড়বে। একই সঙ্গে বাড়বে দেশীয়ভাবে পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের সরবরাহ, কমবে আমদানিনির্ভরতা ও জ্বালানি ব্যয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তারই অংশ ইআরএল ইউনিট-টু প্রকল্প। দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানির চাহিদার বড় অংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম। প্রকল্পটির প্রাথমিক মৌলিক প্রকৌশল নকশা বা ফ্রন্ট-এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন (ফিড) ডকুমেন্ট তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান টেকনিপ। ১৯৬৮ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রথম ইউনিট নির্মাণেও যুক্ত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগের পাশাপাশি কারিগরি নকশা, ক্রয় ও নির্মাণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের মাঝামাঝি নির্মাণকাজ শুরু করে ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটিতে পাঁচটি বিদেশি লাইসেন্সদাতা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কারণে এটি অত্যন্ত জটিল একটি প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা ও দর-কষাকষি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শক নিয়োগের কাজ চলছে। পরবর্তী ধাপে প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বর্তমান রিফাইনারির জ্বালানি পরিশোধনের মানও উন্নত করা হবে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ইউরো-৪ মানের জ্বালানি পরিশোধন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তা ইউরো-৬ মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জ্বালানিতে সালফারের পরিমাণ কমে আসবে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন প্ল্যান্টে ভারী জ্বালানি পরিশোধনের ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে বিদ্যমান সক্ষমতার বাইরে আরও বৈচিত্র্যময় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে। মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড প্রকল্পের পরিচালক আছমা আরা বেগম বলেন, নতুন প্ল্যান্টে ইউরো-৬ মানের জ্বালানি উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা রিফাইনারিকেও ইউরো-৬ মানে উন্নীত করা হবে। এতে জ্বালানিতে সালফারের পরিমাণ কমে দুই পিপিএমে নেমে আসবে। এই পরিবর্তন পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে সহায়ক হবে। বিদ্যমান প্ল্যান্টের মান উন্নয়নের ফলে কার্বন ট্রেডিংয়ের সুবিধা পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন ইউনিট চালু হলে জ্বালানি তেল পরিশোধনের পাশাপাশি লুব অয়েল, সালফার, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও জেট ফুয়েলের মতো পণ্য উৎপাদন করা যাবে। বর্তমানে এসব পণ্যের কিছু অংশ আমদানি করে দেশের বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হয়। নতুন প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি বড় অংশ দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে। প্রকল্প পরিচালক আছমা আরা বেগম জানান, নতুন ইউনিট থেকে লুব অয়েল ও সালফার উৎপাদিত হবে, যেগুলো আগে আমদানি করতে হতো। পাশাপাশি উপজাত হিসেবে এলপিজি উৎপাদনেরও আশা করা হচ্ছে। দেশে জেট ফুয়েলের যে চাহিদা রয়েছে, নতুন প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদনের মাধ্যমে তারও একটি বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির বার্ষিক তেল পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৫ লাখ টনে। একই সঙ্গে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দেশীয় চাহিদা পূরণের সক্ষমতা ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানির চাপ কমবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেল পরিশোধনের মাধ্যমে ১৮ থেকে ১৯ ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। আরটিভি/টিআর
৩১ হাজার কোটি টাকায় আধুনিক হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কাটিয়ে সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর আবার চালু হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। 
সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কাটিয়ে সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
দেশের বাজারে আবারও কমলো সোনার দাম
দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা।
দেশের বাজারে আবারও কমলো সোনার দাম
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি এবং দেশের ‘সফট পাওয়ার’ (সাংস্কৃতিক শক্তি) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 
সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ
ইউরোপের ডেনিম বাজারে সরবরাহকারী হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এ বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানিতে মূল্য কমেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের ডেনিম পণ্য গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম।
ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ
বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি