ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

অবৈধ ডিটিএইচে ‘ভারতে পাচার’ বছরে ১০ লাখ ডলার

শাহীনুর রহমান, আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৮, ০২:৩৭ পিএম

দেশে ক্যাবল সংযোগ ছাড়াই স্যাটেলাইট টেলিভিশন দেখার উন্নত প্রযুক্তি ডাইরেক্ট টু হোম বা ডিটিএইচ। কিন্তু বর্তমানে দেশব্যাপী ডিটিএইচের অবৈধ ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বিশেষত দুইটি প্রতিষ্ঠান সরকারের থেকে এই সেবা দেয়ার লাইসেন্স পেলেও বাজারে তাদের পণ্য পর্যাপ্ত নেই বললেই চলে। ফলে ভারতের এক ডজনেরও বেশি কোম্পানির পণ্য ছেয়ে গেছে বাংলাদেশে।

এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতীয় এজেন্টরা বাংলাদেশে অবৈধ ডিটিএইচ সেবা ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা বাংলাদেশ সরকার থেকে কৌশলে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মুনাফা নিতে তাদের সঙ্গে হাত মিলাচ্ছে।

ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) বলছে, অবৈধ এই সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ভারতের রিলায়েন্স, টাটা স্কাই, ডিশ টিভি, এয়ারটেল ডিজিটাল, সান ডাইরেক্ট ডিজিটালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ডিটিএইচ যন্ত্র বাংলাদেশে পাওয়া যায়। রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট ছাড়াও বড় বড় শহরগুলোতে এই যন্ত্রগুলো প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা আবার সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ ব্যবসায়ীরা চোরাইপথে এই ডিটিএইচ সামগ্রী দেশে আনছে। এগুলোর মাধ্যমে দেশি চ্যানেল দেখা না যাওয়ায় দেশীয় চ্যানেলগুলো দর্শক হারাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেড় বছর ধরে যাত্রাবাড়ীতে বসবাস করছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিকর্মী শোহান (ছদ্মনাম)। তিনি স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে প্রায় এক বছর আগে একটি ডিটিএইচ যন্ত্র কেনেন। এখন তিনি সেটাই ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরটিভি অনলাইনকে জানান, ডিটিএইচ প্রযুক্তিতে ছবি ও শব্দ সাধারণ ক্যাবল সংযোগের চেয়ে দ্রুত আসে। সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে ডাউনলিংকের মাধ্যমে এই সেবা পাওয়া যায়। তাছাড়া ডিশ ক্যাবলের ঝুট-ঝামেলা থাকে না।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ফার্মগেটের খামারবাড়িতে শুরু হয়েছে জাতীয় ফল প্রদর্শনী
--------------------------------------------------------

দেড় বছর আগে বাংলাদেশে দুটি কোম্পানিকে ডিটিএইচ ব্যবসায় লাইসেন্স দেয়া হয়। এর মধ্যে একটি হলো বেক্সিমকো এবং অপরটি হলো বায়ার মিডিয়া লিমিটেড। এই ডিটিএইচ সেবা নেয়ার জন্য একজন গ্রাহকের খরচ ধরা হয় প্রায় ছয় হাজার টাকা। বেক্সিমকোর রিয়েল ভিউর মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি ৩০০ টাকা। সহজে বিল পরিশোধের জন্য স্ক্র্যাচ কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট (বিকাশ, ডিবিবিএল মোবাইল ব্যাংকিং, আইএফআইসি মোবাইল ব্যাংকিং, শিওরক্যাশ, ইউক্যাশ) সুবিধা রয়েছে। কিন্তু এই কোম্পানির পণ্য বাজারে নেই বললেই চলে। তাছাড়া সেবা নিয়ে অভিযোগ আছে।

শোহান বলছিলেন, রিয়েল ভিউয়ে অনেক চ্যানেল দেখা যায় না। তাছাড়া খরচও বেশি পরে। স্টার গ্রুপের কোনো চ্যানেলই দেখা যায় না। ৩০০ টাকা মাসে দিয়েও যদি চ্যানেল না দেখা যায়, তবে আর লাভ কই? এটা বাজারে পর্যাপ্ত না। ওরা হয়তো বাংলাদেশের স্যাটেলাইটের জন্য অপেক্ষা করছে।

কোয়াবের সদস্য ও আইডিয়াল ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের মালিক সৈয়দ হাবীব আলী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সরকার দুইটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে; যার মধ্যে এখন একটি চালু আছে। আর আরেকটি বন্ধ আছে। বাকি ডিটিএইচগুলো সব ইন্ডিয়া থেকে আসে। এই টাকাটা হুণ্ডিসহ বিভিন্ন উপায়ে ভারতে যায়। এটা পুরোপুরি অবৈধ।

“এটা একজন ব্যক্তি নিজে ব্যবহারের জন্য বাসায় কিনে থাকেন। কিন্তু আপনি এই একটা মাধ্যম দিয়ে পুরো এলাকার লোককে দেখিয়ে দিচ্ছেন তাও আবার মাসে ৫০০/৬০০ টাকায়। অথচ বৈধ ব্যবসায় অপারেটররা হাজার হাজার টাকা খরচ করছে। ফলে দেশে যারা ডিশ চ্যানেলের ডিস্ট্রিবিউটর; যারা টাকা খরচ করে সরকারের কাছ থেকে চ্যানেল কিনছে তারা ব্যবসায় ধরা খাচ্ছে। তাদের জন্য এটা অনেক ক্ষতিকর।”

তিনি বলেন, রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটে কিছু দোকান আছে; তারা বিক্রি করে আবার রিনিউয়াল করে। আবার সীমান্ত এলাকায় কিছু ব্যবসায়ী এটা করে থাকে। তারা ইন্ডিয়ান ডিটিএইচ আনে এবং রিনিউয়াল করে। অনলাইনের মাধ্যমে ভারতের এজেন্টদের কাছে টাকা পাঠায়। ইন্ডিয়ান এজেন্টরাই অবৈধভাবে বাংলাদেশে এই ব্যবসা পেতেছে।

এই ক্যাবল মালিক বলেন, আমরা সব সময় এটার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আমরা বহুবার প্রেস কনফারেন্স করেছি। আমরা তো বৈধ ব্যবসা করি। আমরা চাই সবাই বৈধ ব্যবসা করুক।

একই কথা বলেন, কোয়াবের সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোশাররফ আলী চঞ্চলও। তিনি বলেন, সরকারকে দ্রুত এই অবৈধ ব্যবসা থামাতে হবে। তা না হলে রাজস্ব ফাঁকি থামানো যাবে না। দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুন :

এসআর/ এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইউএনডিপি-ওয়ালটন চুক্তি: পরিবেশবান্ধব ফ্রিজ তৈরি করছে ওয়ালটন
ফ্রিজে বিশ্ব জলবায়ু উষ্ণায়নের জন্য দায়ী এইচএফসি গ্যাসের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ালটন। সেই লক্ষ্যে ফ্রিজ ও কম্প্রেসারে এইচএফসি ফেজ আউট প্রজেক্ট চালু করেছে তারা। এর আওতায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ফ্রিজ ও এর কম্প্রেসারে বিশ্ব স্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি। ওয়ালটনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি। এ বিষয়ে শনিবার রাজধানীতে ওয়ালটনের করপোরেট অফিসের সম্মেলন কক্ষে ইউএনডিপি ও ওয়ালটনের মধ্যে ‘এইচএফসি ফেজ আউট প্রজেক্ট’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়ালটনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ এক বছর। বিশ্বে এইচএফসি গ্যাস ফেজ আউটে এই প্রকল্পেই প্রথম সহায়তা প্রদান করছে ইউএনডিপি। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আশরাফুল আলম এবং ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এর আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এর সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি খুরশিদ আলম ও শায়লা খান, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ মামুনুর রশীদ ও সংস্থাটির প্রাকিউরমেন্ট বিভাগের প্রধান মরিয়ম আকতার রিকতা, ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এস এম জাহিদ হাসান, মো. হুমায়ুন কবীর, প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আশরাফুল আম্বিয়া ও অন্যান্য কর্মকর্তা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এস এম আশরাফুল আলম বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি আমরা সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আর তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এক গ্রাম কেমিক্যালও ওয়ালটন ব্যবহার করে না। আমাদের টার্গেট বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটনকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডের মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে পরিবশেবান্ধব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ, এসিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছি আমরা। প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আম্বিয়া জানান, কয়েক বছর আগেই ইউএনডিপির সহায়তায় অত্যন্ত সফলভাবে ফ্রিজে বায়ুমন্ডল তথা ওজোনস্তর ক্ষয়কারী এইচসিএফসি গ্যাসের ব্যবহার রোধ করেছে ওয়ালটন। পাশাপাশি, এইচএফসির ব্যবহার রোধের উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত প্রকল্প বাস্তবায়নে সফল হয়েছে ওয়ালটন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এবার ফ্রিজে এইচএফসির ব্যবহার সম্পূর্ণ রোধ করার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে এইচএফসিমুক্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কম্প্রেসার উৎপাদনও শুরু করলো ওয়ালটন। সূত্রমতে, প্রকল্পটি চালুর ফলে বায়ুমন্ডলে বাৎসরিক প্রায় ২ দশমিক ৫৩ লাখ টন কার্বনডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ ১৮৯ টন এইচএফসি গ্যাসের নিঃসরণ রোধ করবে ওয়ালটন। এর মধ্য দিয়ে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে ওয়ালটন তথা বাংলাদেশ। এসআর
ইউএনডিপি-ওয়ালটন চুক্তি: পরিবেশবান্ধব ফ্রিজ তৈরি করছে ওয়ালটন
আজও ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না গ্রাহকরা
নির্বাচনের কারণে ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ ছুটি শেষ হয়েছে। আজ সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে অফিস আদালত। তবে ব্যাংক হলিডে থাকায় এদিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনও ধরনের লেনদেন হচ্ছে না। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না। তবে প্রয়োজন হলে কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে অর্ধ বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। যে কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়। এদিন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনও ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম করে না। এদিন বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও। এসআর
আজও ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না গ্রাহকরা
বিকাশ-রকেটে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা উঠছে বিকেল ৫টায়
বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, শিওর ক্যাশের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মুঠোফোনে আর্থিক সেবায় লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। আজ রোববার বিকেল ৫টার পর গ্রাহকরা আবারও আগের মতো টাকা লেনদেন, ক্যাশ আউট, মোবাইল ফোনে রিচার্জ করতে পারবেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   তবে শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে আজ বিকেল ৫টা পযর্ন্ত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাঠানোর বিষয়ে শিথিলতা আনা হয়। সে অনুযায়ী গ্রাহকরা আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা শুধু পাঠাতে পারছেন। কোনও ক্যাশ আউট ও রিচার্জের সুযোগ নেই।   নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও ভোটার আকৃষ্ট করতে টাকা ছড়ানো বন্ধের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। কারণ নগদ টাকার পাশাপাশি অনেক সময় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুপারিশ ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসআর
বিকাশ-রকেটে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা উঠছে বিকেল ৫টায়
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন নয়
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। তবে শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে রোববার তথা নির্বাচনের দিন বিকেল ৫টা পযর্ন্ত এই ২৪ ঘণ্টা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাঠানো যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৭ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ফলে শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, শিওর ক্যাশের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মুঠোফোনে আর্থিক সেবা বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও ভোটার আকৃষ্ট করতে টাকা ছড়ানো বন্ধের জন্য এ নির্দেশনা দেয়া হয়। নগদ টাকার পাশাপাশি অনেক সময় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুপারিশ ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মতে, সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ২৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হলো। তবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হতে ২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা লেনদেনের সুযোগ রেখে সীমিত আকারে এ সেবা চালু রাখা যেতে পারে বলে জানানো হয়। আরও পড়ুন : ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ বিকাশ-রকেট থেকে হচ্ছে না মোবাইল ফোনের রিচার্জও এসআর
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন নয়
ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৬তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ক্ষেত্রে বৃহত্তম দেশ হিসাবে উত্তরণ ঘটতে পারে। ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ২০৩০’ শীর্ষক এইচএসবিসি গ্লোবাল রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) নিউজ বুলেটিনের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৮) সম্পাদকীয় শাখায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের বুলেটিনে বলা হয়, ‘ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে দেশটি (বাংলাদেশ) বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।’ এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং আর্থ-সামাজিক গতিশীলতার কারণে ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড ভ্যালু ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশের অবস্থান ৩৯তম। লন্ডন ভিত্তিক ‘ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স’-এর ‘ন্যাশনাল ব্র্যান্ডস ২০১৮’ প্রতিবেদন অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইসিসিবি নিউজ বুলেটিনে বলা হয়, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি চমৎকারভাবে ৬ শতাংশের অধিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরে রেখেছে এবং গত দু’বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বুলেটিন অনুসারে, টেকসই জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই), সরকারের বিনিয়োগ বান্ধব কার্যক্রম, ‘ওয়ান-স্টপ-সার্ভিস’ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সাবলীল করেছে। পাশাপাশি, বেসরকারি ও সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের সুবিধার্থে সরকার অনেকগুলো ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমির সংকট দূর করার জন্য সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ১০০টির মধ্যে ৭৬টির জন্য জমি নির্ধারণ করেছে। আরও পড়ুন : বিকাশ-রকেট থেকে হচ্ছে না মোবাইল ফোনের রিচার্জও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার হবে এশিয়ায় নেতৃস্থানীয়: ডিএসই এমডি এসআর
ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
১২০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২