ঢাকা রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে ভারতকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশকে একসময় ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছিলেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। তার ওই অপবাদ অনেক আগেই ঘুচিয়েছে বাংলাদেশ। এরপরও ভারতের সাথে বাংলাদেশকে প্রায়ই তুলনা দেয়া হতো। বলা হতো, বাংলাদেশ হলো ভারতের গরিব ও পিছিয়ে পড়া প্রতিবেশি।

কিন্তু গত কয়েক বছরে চিত্র পাল্টে গেছে। বাংলাদেশ এখন আর গরিব-পিছিয়ে পড়া প্রতিবেশি নয়, বরং বিভিন্ন সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়েছে ছোট এই দেশটি। ফলে ভারতীয় অর্থনীতিবিদরাও বাংলাদেশের প্রশংসা করছেন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রাখছেন।

চলতি মাসে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশ ইজ বেটার অব দ্যান ইন্ডিয়া, নট অ্যা পুওর, বেকওয়ার্ড নেইবর অ্যানিমোর’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো-

দ্রুত বর্ধনশীল অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ ভারত। দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু দ্রুতই এই অবস্থা পাল্টে যেতে পারে।

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক সূচকে এগিয়ে থাকা ভারতের প্রতিবেশি বাংলাদেশ অর্থনীতিতেও নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস বলছে, ২০১৮-১৯ সালে ভারতের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর ওই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতের তুলনায় ৩ গুণ দ্রুততার সাথে বাড়ছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন শীর্ষক সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৯ শতাংশ।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানের তথ্য মতে, আগামী দুই বছর মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) ও জিডিপি বৃদ্ধির এই গতি ধরে রাখতে পারলে ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের মাথাপিছু আয়কে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ।

দীর্ঘ পথচলা

পাকিস্তানের সবচেয়ে গরিব অঞ্চলগুলোর একটি থেকে জন্ম বাংলাদেশের। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসেছে দেশটি।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল নিম্নগামী। যার পরিমাণ ছিল মাইনাস ১৪ শতাংশ। দুই বছর পর ৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু দুর্ভিক্ষের কারণে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ মারা যাওয়ায় আবারও অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। তখন জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৪ শতাংশে নেমে যায়।

দুর্ভিক্ষের পর আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তার সাহায্য নিয়ে নতুন করে উন্নয়ন শুরু হয়। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও এগিয়ে আসে। এ সময় উচ্চ ফলনশীল ধান ও গম চাষ শুরু হওয়ায় কৃষিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়ে যায়।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এখন বাংলাদেশ রোলমডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ যেমন নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাখাতে গুরুত্ব দেয়ায় এ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের অর্থনীতিবিদ ও সিনিয়র ফিলো জয়শ্রী সেনগুপ্তা বলেন, রেমিটেন্স ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের অর্থনীতি এতটা শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ভারতের মতো বাংলাদেশও একটি শ্রমবহুল দেশ। কিন্তু ভারতের মতো এখানে শক্ত শ্রম আইন নেই। স্বাধীনতার আগে ১৯৪৭ সালে ভারতে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসপুটস অ্যাক্ট’ পাস হয়। এতে কর্মজীবী ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

ভারতের মতো পাকিস্তানেও এই আইন পাস হয়। কিন্তু তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের ট্রেড ইউনিয়নের সাথে মত পার্থক্যের কারণে ১৯৫৮ সালে আইনটি বাতিল করে সামরিক সরকার। পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার পরও এই আইনটি বাংলাদেশের ছিল না। যা দেশকে সস্তা শ্রমের আবাসভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে ও কারখানার বিস্তৃতিতে সহায়তা করে।

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় পরিচালন শক্তি হচ্ছে এর গার্মেন্টস শিল্প। এতে সব মিলিয়ে ৪৪ লাখ মানুষ কাজ করছে; যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ৭ শতাংশ। গার্মেন্টস শিল্পে কাজ করা ৪৪ লাখের ৩০ লাখই নারী। সস্তা শ্রমের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করতে পারছে বাংলাদেশ।

বর্তমান ভারত

তেলের দাম বৃদ্ধি, রপ্তানিতে মন্দাভাব এবং মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় ভারতের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে এশিয়ার মধ্যে রুপির মান সবচেয়ে কমে যায়। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম ডলারের বিপরীতে রূপির মূল্য ৭৪-এ নেমে আসে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সিনিয়র অর্থনৈতিক কর্মকর্তা অভিজিত সেনগুপ্ত বলেন, এই অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে আমরা ৮ দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। গত বছরের শক্ত অবস্থানের কারণে এটা সম্ভব হয়। পরবর্তী ত্রৈমাসিকগুলোতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমবে।

সেনগুপ্তা বলছেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চায় তাহলে অবকাঠামো, উৎপাদন, সেবাখাত এবং রপ্তানি আরও গতিশীল করতে হবে। তার ভাষায়, উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখতে রপ্তানির পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

সামাজিক পদক্ষেপ

সামাজিক উন্নয়ন সূচকে বিশেষ করে গড় আয়ু, নবজাতকের মৃত্যুহার এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করেছে বাংলাদেশ। মেডিকেল জার্নাল দ্য লেনসেটে প্রকাশিত ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল’ নামের এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই ক্ষেত্রগুলোতে বাংলাদেশের নিচে তলানিতে অবস্থান করছে ভারত।

মানব সম্পদের উন্নয়ন পরিমাপ করতে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এতে ১৯৫টি দেশের ১৯৯০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যকার তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৭। ভারতে এই হার ৩২। বাংলাদেশে প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৫৮ বছর যেখানে ভারতের গড় আয়ু ৬৮ দশমিক ৮ বছর।

বাংলাদেশের আরও একধাপ উন্নয়ন

বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারীদের ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ ডিজিটাল ট্রানজেকশন করেছে। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার গড়ে ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

জিডিপি প্রতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যয় ভারতের চেয়ে কম। তারপরও শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন পদ্দক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া মেয়েদের উপবৃত্তিসহ স্কুলজীবনের সব পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। নারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে ৪ থেকে ৬ মাসের বেতনসহ মার্তৃকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া তালাকপ্রাপ্ত ও নিঃস্ব নারীদের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে ৭০ শতাংশ এবং মৎস্যশিল্পে ৬০ শতাংশ নারী কাজ করছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ এবং ১৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) র‍্যাংকিংয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জেন্ডার সমতা বিধানে শীর্ষস্থানে রয়েছে দেশটি।

দারিদ্র্য বিমোচনেও অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এখানে সাফল্য দেখিয়েছে ভারতও। রাজনীতিতে নারীদের উপস্থাপনে ডব্লিউইএফ সূচকে ৭ নম্বর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারত এখানে রয়েছে ১৫ নম্বর অবস্থানে।

এর কারণ হলো বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৩৫০ আসনের মধ্যে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মোট আসনের ১৪ শতাংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত। অন্যদিকে ভারতে ২০১৪ সালে ৫৪৩ জন সাংসদের মধ্যে ৬২ জন নারী নির্বাচিত হন, যা মোট আসনের ১১ শতাংশ। দেশটিতে এখনও পর্যন্ত নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ আইন আলোর মুখ দেখেনি।

উন্নয়ন বিষয়ক অর্থনীতিবিদ ড. একে শিভকুমার বলেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের গড় আয়ু বেড়েছে ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। ১৯৯০ এর দশকে এটা এমন ছিল না। তার মানে এক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছে বাংলাদেশ।

অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মেয়ে ও নারীরা যে স্বাধীনতা ভোগ করে এই কারণে সামাজিক পরিবর্তন এসেছে যা ভূমিকা রাখছে প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে।

কয়েকজন অর্থনীতিবিদ বলছেন, বাংলাদেশের এই উন্নতিতে বেসরকারি খাতের উদ্যোগও ভুলবার নয়।

খোলা জায়গায় মলত্যাগের ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য ২০১৭ সালে থেকে প্রশংসিত হয়ে আসছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সমস্যাটি সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে ভারত। ২০০৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে খোলা জায়গায় মলত্যাগের পরিমাণ ৪২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন :

ডি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইউএনডিপি-ওয়ালটন চুক্তি: পরিবেশবান্ধব ফ্রিজ তৈরি করছে ওয়ালটন
ফ্রিজে বিশ্ব জলবায়ু উষ্ণায়নের জন্য দায়ী এইচএফসি গ্যাসের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ালটন। সেই লক্ষ্যে ফ্রিজ ও কম্প্রেসারে এইচএফসি ফেজ আউট প্রজেক্ট চালু করেছে তারা। এর আওতায় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ফ্রিজ ও এর কম্প্রেসারে বিশ্ব স্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটি। ওয়ালটনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি। এ বিষয়ে শনিবার রাজধানীতে ওয়ালটনের করপোরেট অফিসের সম্মেলন কক্ষে ইউএনডিপি ও ওয়ালটনের মধ্যে ‘এইচএফসি ফেজ আউট প্রজেক্ট’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়ালটনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ এক বছর। বিশ্বে এইচএফসি গ্যাস ফেজ আউটে এই প্রকল্পেই প্রথম সহায়তা প্রদান করছে ইউএনডিপি। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আশরাফুল আলম এবং ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এর আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, ইউএনডিপি, বাংলাদেশ এর সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি খুরশিদ আলম ও শায়লা খান, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ মামুনুর রশীদ ও সংস্থাটির প্রাকিউরমেন্ট বিভাগের প্রধান মরিয়ম আকতার রিকতা, ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এস এম জাহিদ হাসান, মো. হুমায়ুন কবীর, প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আশরাফুল আম্বিয়া ও অন্যান্য কর্মকর্তা। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এস এম আশরাফুল আলম বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি আমরা সব সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আর তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক এক গ্রাম কেমিক্যালও ওয়ালটন ব্যবহার করে না। আমাদের টার্গেট বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটনকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডের মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে পরিবশেবান্ধব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ, এসিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করছি আমরা। প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আম্বিয়া জানান, কয়েক বছর আগেই ইউএনডিপির সহায়তায় অত্যন্ত সফলভাবে ফ্রিজে বায়ুমন্ডল তথা ওজোনস্তর ক্ষয়কারী এইচসিএফসি গ্যাসের ব্যবহার রোধ করেছে ওয়ালটন। পাশাপাশি, এইচএফসির ব্যবহার রোধের উদ্দেশ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত প্রকল্প বাস্তবায়নে সফল হয়েছে ওয়ালটন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এবার ফ্রিজে এইচএফসির ব্যবহার সম্পূর্ণ রোধ করার প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে এইচএফসিমুক্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কম্প্রেসার উৎপাদনও শুরু করলো ওয়ালটন। সূত্রমতে, প্রকল্পটি চালুর ফলে বায়ুমন্ডলে বাৎসরিক প্রায় ২ দশমিক ৫৩ লাখ টন কার্বনডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ ১৮৯ টন এইচএফসি গ্যাসের নিঃসরণ রোধ করবে ওয়ালটন। এর মধ্য দিয়ে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে ওয়ালটন তথা বাংলাদেশ। এসআর
ইউএনডিপি-ওয়ালটন চুক্তি: পরিবেশবান্ধব ফ্রিজ তৈরি করছে ওয়ালটন
আজও ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না গ্রাহকরা
নির্বাচনের কারণে ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ ছুটি শেষ হয়েছে। আজ সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে অফিস আদালত। তবে ব্যাংক হলিডে থাকায় এদিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনও ধরনের লেনদেন হচ্ছে না। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না। তবে প্রয়োজন হলে কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে অর্ধ বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। যে কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়। এদিন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনও ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম করে না। এদিন বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও। এসআর
আজও ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন না গ্রাহকরা
বিকাশ-রকেটে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা উঠছে বিকেল ৫টায়
বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, শিওর ক্যাশের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মুঠোফোনে আর্থিক সেবায় লেনদেনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। আজ রোববার বিকেল ৫টার পর গ্রাহকরা আবারও আগের মতো টাকা লেনদেন, ক্যাশ আউট, মোবাইল ফোনে রিচার্জ করতে পারবেন।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   তবে শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে আজ বিকেল ৫টা পযর্ন্ত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাঠানোর বিষয়ে শিথিলতা আনা হয়। সে অনুযায়ী গ্রাহকরা আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা শুধু পাঠাতে পারছেন। কোনও ক্যাশ আউট ও রিচার্জের সুযোগ নেই।   নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও ভোটার আকৃষ্ট করতে টাকা ছড়ানো বন্ধের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। কারণ নগদ টাকার পাশাপাশি অনেক সময় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুপারিশ ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসআর
বিকাশ-রকেটে টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা উঠছে বিকেল ৫টায়
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন নয়
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। তবে শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টা থেকে রোববার তথা নির্বাচনের দিন বিকেল ৫টা পযর্ন্ত এই ২৪ ঘণ্টা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাঠানো যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২৭ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ফলে শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) থেকে বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, শিওর ক্যাশের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা মুঠোফোনে আর্থিক সেবা বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও ভোটার আকৃষ্ট করতে টাকা ছড়ানো বন্ধের জন্য এ নির্দেশনা দেয়া হয়। নগদ টাকার পাশাপাশি অনেক সময় মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সুপারিশ ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মতে, সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ২৮ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হলো। তবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হতে ২৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা লেনদেনের সুযোগ রেখে সীমিত আকারে এ সেবা চালু রাখা যেতে পারে বলে জানানো হয়। আরও পড়ুন : ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ বিকাশ-রকেট থেকে হচ্ছে না মোবাইল ফোনের রিচার্জও এসআর
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন নয়
ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৬তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ক্ষেত্রে বৃহত্তম দেশ হিসাবে উত্তরণ ঘটতে পারে। ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ২০৩০’ শীর্ষক এইচএসবিসি গ্লোবাল রিপোর্টে একথা বলা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) নিউজ বুলেটিনের (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৮) সম্পাদকীয় শাখায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের বুলেটিনে বলা হয়, ‘ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে দেশটি (বাংলাদেশ) বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।’ এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে এবং আর্থ-সামাজিক গতিশীলতার কারণে ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড ভ্যালু ইনডেক্স’-এ বাংলাদেশের অবস্থান ৩৯তম। লন্ডন ভিত্তিক ‘ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স’-এর ‘ন্যাশনাল ব্র্যান্ডস ২০১৮’ প্রতিবেদন অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশের ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইসিসিবি নিউজ বুলেটিনে বলা হয়, বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি চমৎকারভাবে ৬ শতাংশের অধিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরে রেখেছে এবং গত দু’বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বুলেটিন অনুসারে, টেকসই জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই), সরকারের বিনিয়োগ বান্ধব কার্যক্রম, ‘ওয়ান-স্টপ-সার্ভিস’ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সাবলীল করেছে। পাশাপাশি, বেসরকারি ও সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের সুবিধার্থে সরকার অনেকগুলো ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (এসইজেড) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমির সংকট দূর করার জন্য সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ১০০টির মধ্যে ৭৬টির জন্য জমি নির্ধারণ করেছে। আরও পড়ুন : বিকাশ-রকেট থেকে হচ্ছে না মোবাইল ফোনের রিচার্জও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার হবে এশিয়ায় নেতৃস্থানীয়: ডিএসই এমডি এসআর
ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ
আরও পড়ুন
ভারতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১০ জন নিহত
প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মমতা
বছরের ফ্লপ একাদশের অধিনায়ক ধোনি, ভারতের আধিপত্য
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের মহাবিজয়ের খবর