ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

এখন ‘মেইড ইন চায়না’ নয়, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’র যুগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ১১:৪৩ পিএম
বাংলাদেশে একটি চীনা-পরিচালিত ফ্যাক্টরিতে কর্মরত কর্মীরা। ছবি: সাউথ চায়না মর্নি পোস্ট

আজ থেকে ২২ বছর আগে চীনের ব্যবসায়ী লিও ঝুয়াং লিফেং যখন ঢাকায় আসেন, তখন এখানকার বিমানবন্দরে মাত্র দুটি মালপত্র বহনকারী বেল্ট সক্রিয় ছিল। বিমানবন্দরে আলোক ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত ছিল না।

তখন বাংলাদেশে আসা অনেক চীনা ব্যবসায়ী রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দরে নেমে এমন অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন। এসময় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল। এদেশে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতো, অবকাঠামো ছিল অপর্যাপ্ত।

বর্তমানে এলডিসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝুয়াংয়ের বয়স ৫১ বছর। তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে আসেন এখানে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করতে। এখানকার সস্তা শ্রম এবং শ্রমিকের আধিক্য তাকে এখানে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী করে। এলডিসি ফ্যাক্টরিগুলো গাজীপুরে অবস্থিত।

এই বিষয়ে তিনি হংকংয়ের সংবাদপত্র সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে জানান, তখন প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর অভাব ছিল। তাৎক্ষণিক নুডলস কেনাও সহজ ছিল না। কিন্তু কয়েক বছরে বাংলাদেশে বিস্ময়কর পরিবর্তন ঘটেছে। যদিও এসব পরিবর্তনকে চীনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

বাংলাদেশে তার কোম্পানিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ কর্মরত আছে। এই ফ্যাক্টরির কম্পাউন্ড দেখে মনে হয় যেন একটি গ্রাম। এখানকার চিকিৎসকরা কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে পরামর্শ দেয়। এছাড়া তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য আছে ডে-কেয়ার সেন্টার।

চীনের ব্যবসায়ী ঝুয়াং লিফেংয়ের এলডিসি গ্রুপের ফ্যাক্টরি কম্পাউন্ডের ডে-কেয়ার সেন্টার। ছবি: সাউথ চায়না মর্নি পোস্ট

চীনা এবং অন্যান্য বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখায় এদেশের সব জায়গায় এখন এমন কম্পাউন্ড আছে। তাদের বিনিয়োগ এই দেশকে একটি ৩.৫ মিলিয়ন শ্রমিকের ম্যানুফ্যাকচারিং পাওয়ারহাউসে পরিণত করেছে।

এসব শ্রমিক H&M ও ইউনিকলো’র মতো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি করেছে। মাইকেল কর্সের মতো শৌখিন ব্র্যান্ডগুলোরও বাংলাদেশে তৈরি পণ্য আছে। চীনে মজুরি বাড়ায় বেশিরভাগ পোশাকে ‘মেইড ইন চায়না’ নয় ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ লাগানোর সময় চলে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ঝুয়াংয়ের মতে, ২২ বছর আগে এদেশে মাত্র ২০ থেকে ৩০টি চীনা কোম্পানি ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক নবীন দেশটিতে এই সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে মোটামুটিভাবে ৪০০ তে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে চীনের ঋণ। গত এক দশকে এটি গড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে কিন্তু চলতি বছর ৮.১৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের এমন দ্রুত ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সক্ষমতা সকলের নজরে এসেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় প্রশাসন এই ঋণ সামলাতে সক্ষম।

তথ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে ঢাকা কোনও দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না এবং তার প্রশাসন বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা করতে আগ্রহী যেকোনো দেশকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে চমৎকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে আমাদের।

বাংলাদেশকে দেয়া ভারতের কয়েক বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা (চীনের) ঋণ শোধ করতে পারবো কিনা এমন প্রশ্নে আমার উত্তরে হলো এটি বাংলাদেশের জন্য কোনও দুশ্চিন্তার বিষয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথাকথিত চীনের ঋণের ফাঁদ নিয়ে মোটেও দুশ্চিন্তা করছে না বাংলাদেশ। কারণ দেশটি চীনের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব অব্যাহত রেখেছে।

চীন থেকে বাংলাদেশে

দ্রুতগামী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকা সত্ত্বেও ঢাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, ফিলিপিন্সের ম্যানিলা, কম্বোডিয়ার নমপেনের থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। হাইওয়েসহ অবকাঠামোর অভাবে ঢাকার সড়কে ব্যস্ত সময়ে এতো যানবাহন থাকে যে ৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে তিন ঘণ্টা লেগে যেতে পারে।

কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশকে উন্নত করার জন্য প্রচুর সুযোগ আছে। তাই দেশটি অধিক সংখ্যক বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এসব বিনিয়োগকারীর একজন হলেন হংকংয়ের ব্যবসায়ী এবং ফেলিক্স চ্যাং ইয়োই-চোং।

তিনি বিশ্বের অন্যতম পরচুলা প্রস্তুতকারী কোম্পানি এভারগ্রিন প্রোডাক্টস গ্রুপের চেয়ারম্যান। এই ফ্যাক্টরি চীনের মূলভূমি থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর এতে এখন ১৮ হাজার কর্মী কাজ করেন। উত্তরা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে অবস্থিত ফ্যাক্টরিটিতে মাসে তিন থেকে চার লাখ পরচুলা তৈরি হয়।

হংকংয়ের ব্যবসায়ী এবং এভারগ্রিন প্রোডাক্টস গ্রুপের চেয়ারম্যান ফেলিক্স চ্যাং ইয়োই-চোং তার কর্মীদের মাঝে। ছবি: সাউথ চায়না মর্নি পোস্ট

এই ২১৩ একর আয়তনের জোনে ২০টির মতো কোম্পানি আছে। এগুলোর মধ্যে ছয়টি হংকংয়ের। বাংলাদেশ জুড়ে এই ধরনের আটটি জোন আছে। এসব জোনে কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি করে কম বা শূন্য হারে কর দিয়ে পণ্য তৈরি করতে পারে।

এই কর নীতি এসব কোম্পানির পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হংকং এবং মূলভূমি চীনে শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ার এখানকার যেসব উদ্যোক্তা গত ১০ বছরে বাংলাদেশে ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাদের একজন হলেন চ্যাং।

এই ৫৩ বছর বয়সী ব্যবসায়ী বলেন, এশিয়ার যেকোনো জায়গায় আমাকে আমার ফ্যাক্টরি সরিয়ে নিতেই হতো। কারণ হংকং এবং মূলভূমি চীনে শুধু মজুরি নয়, কর্মীদেরকে দেয়া সামাজিক কল্যাণ সুবিধাগুলোর পরিমাণও বেড়ে গিয়েছিল।

এক দশক আগে চীনের হেনান প্রদেশের শেনঝেন, গুয়াংঝৌ ও কুনমিং শহরে চ্যাংয়ের কোম্পানির ফ্যাক্টরি ছিল। তিনি গুয়াংঝৌয়ের ফ্যাক্টরিটি বন্ধ করে দেন এবং অন্য ফ্যাক্টরিগুলোও অনেকাংশে গুটিয়ে নেন। এখন তার কোম্পানির ৯৩ শতাংশ পরচুলা তৈরি হয় বাংলাদেশে।

চ্যাং তার ফ্যাক্টরিগুলো বাংলাদেশে সরিয়ে নেয়ার আগে চীনা কর্মীদেরকে এক মাসে ২৮৯ ডলার করে মজুরি দিতেন। কিন্তু ফ্যাক্টরিগুলো বাংলাদেশে স্থানান্তরের পর এখানকার কর্মীদেরকে এক মাসে সর্বোচ্চ ২৫ ডলার করে মজুরি দিতে হয় তার।

বাংলাদেশে এক মাসে একজন শ্রমিকের মজুরি সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার, যা এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় কম। এক মাসে একজন শ্রমিকের মজুরি কম্বোডিয়ায় ১৮২ ডলার, ভিয়েতনামের হ্যানয় ও হো চি মিন সিটিতে ১৮০ ডলার। মিয়ানমারে একজন শ্রমিকের এক দিনের মজুরি ৩.৬০ ডলার।

সস্তা শ্রম এই গার্মেন্ট সেক্টরকে একটি ৩০ বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করেছে, যা বাংলাদেশে রপ্তানির ৮০ শতাংশ। তবে শ্রমিকরা তাদের আয়ে সন্তুষ্ট নন। গত জানুয়ারিতে কয়েক হাজার শ্রমিক তাদের সর্বনিম্ন মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রাস্তায় নামে। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং কয়েক ডজন শ্রমিক আহত হন।

এলডিসি গ্রুপের ঝুয়াং জানান, কম্বোডিয়ার ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হলো মাত্র ১৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশের শ্রমিক ইউনিয়ন খুবই শক্তিশালী। অন্যদিকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬০ মিলিয়ন।

তিনি জানান, ভিয়েতনামে উৎপাদন খরচ এবং মজুরি দ্রুত বাড়ায় দেশটি তার জন্য অনুকূল ছিল না। দেশটিতে দুর্নীতি একটি সাধারণ বিষয়। জনসংখ্যা কম এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো তুলনামূলকভাবে খুবই শক্তিশালী।

ঝুয়াং বাংলাদেশে আসার পর গত ২২ বছরে এদেশে চীনা কোম্পানির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তবু ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর রাজধানীগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের রাজধানীতে চীনের ব্যবসায়ী এবং কর্মীর সংখ্যা কম।

এসব দেশে যখন চীন থেকে আসা ব্যবসায়ী ও কর্মীরা অস্বস্তি এবং ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন বাংলাদেশে এই ধরনের সেন্টিমেন্ট এখনও গড়ে ওঠেনি।

অপর্যাপ্ত অবকাঠামো

এভারগ্রিন প্রোডাক্টসের চ্যাং এক দশক আগে যখন বাংলাদেশে আসেন, তখন এখানে বর্ষাকাল। তিনি বলেন, এতো বৃষ্টি হয়েছিল যে ঢাকা পানিতে ডুবে গিয়েছিল। রাস্তায় এতো পানি জমেছিল যে আমার গাড়ির চাকাগুলো দেখা যাচ্ছিল না।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল খুবই খারাপ। আমি যতবার ঢাকার অফিসে এসেছি সবসময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হয়েছি। প্রতিবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সংযোগ পেতে এক ঘণ্টা লেগে যেতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নেই বললেই চলে।

তার ফ্যাক্টরিগুলোতে সড়কপথে যেতে নয় থেকে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যেতো। এটাও নির্ভর করতো ট্র্যাফিকের অবস্থার ওপর।

বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদেরকে একটি বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে তাদের পণ্য জাহাজে পাঠাতে গিয়ে। বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০১৭ সালে ২.৫৬ মিলিয়ন কন্টেইনার (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ) কার্গো ওঠানো-নামানো সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া সংকীর্ণতার জন্য এই বন্দর বড় ধরনের কন্টেইনার জাহাজগুলো সামলাতে পারে না। তাই হংকং এবং চীন থেকে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় উপকরণ আনতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ লেগে যায় বলে জানান এভারগ্রিন প্রোডাক্টসের চেয়ারম্যান চ্যাং।

কে/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তৃতীয় টার্মিনাল হলে শাহজালাল হবে সেরা বিমানবন্দর: প্রতিমন্ত্রী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে এ অঞ্চলের সেরা বিমানবন্দর। শুক্রবার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। বিমান প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ৪৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হবে। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে আশ্বস্ত করেছে। আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল অত্যাধুনিকভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০১৮ সালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ২২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন ও স্যামসাং নামের তিনটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামকে (এডিসি) কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন। উল্লেখ্য, শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। এদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৮৭-৯ সিরিজের দুটি নতুন ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ও ‘অচিন পাখি’র উদ্বোধন করবেন তিনি। এ ছাড়া বিমানের মোবাইল অ্যাপসও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই অ্যাপস ব্যবহার করে টিকিট কাটলে যাত্রীরা ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। পি
তৃতীয় টার্মিনাল হলে শাহজালাল হবে সেরা বিমানবন্দর: প্রতিমন্ত্রী
একনেক সভায় ৯ প্রকল্প অনুমোদন
চামড়া শিল্পনগরীর মেয়াদ বৃদ্ধিসহ ৪ হাজার ৬১১ কোটি ৬২ লাখ টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সরকারের নিজেস্ব তহবিল থেকে ৪ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপরসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, রাজধানীর প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ডেভেলপমেন্ট বন্ড ছাড়া যায় কিনা সেটি ভাবতে হবে।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণিতে পিএসসি পরীক্ষা বাতিল কিংবা কী করা যায় সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শিশুদের বইয়ের বোঝা কমাতে হবে। তাদের আনন্দ দিতে হবে, খেলার সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া সাভার চামড়া শিল্পনগরীর কাজ যেন এবার শেষ হয় সেজন্যও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাস হওয়া প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার এবং বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ’ও ‘মোংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ও নিঃসৃত তেল অপসারণ ব্যবস্থাপনা’, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ’, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ‘ফরিদপুর টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধন)’, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ’, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি’র জন্য অফিসার্স মেস ও বিওকিউ নির্মাণ’, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ‘দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান’, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘চামড়া শিল্পনগরী, ঢাকা (চতুর্থ সংশোধিত)’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘হাওর এলাকায় নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্প। পি
একনেক সভায় ৯ প্রকল্প অনুমোদন
পদ্মা সেতুতে বসলো ১৯তম স্প্যান
পদ্মা সেতুতে বসলো ১৯তম স্প্যান। বুধবার দুপুরে লৌহজংয়ের মাওয়ার কন্সস্ট্রাকশন ইয়ার্ড-১ থেকে ৪-সি নম্বর স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে ২১ ও ২২ নম্বর খুঁটিতে বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সেতুর মোট ২৮৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। এর আগে আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ার কন্সস্ট্রাকশন ইয়ার্ড-১ থেকে ৪-সি নম্বর স্প্যান নিয়ে ভাসমান জাহাজ ‘তিয়ান-ই’রওনা দেয়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে সময়মতো স্প্যান বহনকারী ক্রেনটি সেতুর ২১ ও ২২ নম্বর পিলারের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। তাই সকাল নয়টার দিকে স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও বসাতে দুপুর হয়ে যায় বলে জানিয়েছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি বসানোর পর সেতুর মোট ২৮৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আরও ৪টি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির আরটিভি অনলাইনকে জানান, ১৯তম স্প্যান বসানো হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছরে এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে ১২টি স্প্যান বসেছে। প্রকল্পের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, আগামী ২৮ অথবা ২৯ ডিসেম্বর ‘৩এফ’নম্বরের ২০তম স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তের ১৮ ও ১৯ নম্বর খুঁটিতে বসার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরেই সেতুর ১৪টি স্প্যান দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে একটি, ২০১৮ সালে ৫টি এবং ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত ১২টি স্প্যান বসেছে। উল্লেখ্য, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে। দ্বিতল এ সেতুর উপরিভাগ দিয়ে গাড়ি আর নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। এজে/পি  
পদ্মা সেতুতে বসলো ১৯তম স্প্যান
পদ্মা সেতুর ১৯তম স্প্যান বসছে আজ
পদ্মা সেতুর ১৯তম স্প্যান বসছে আজ (বুধবার)। সকালে লৌহজংয়ের মাওয়ার কন্সস্ট্রাকশন ইয়ার্ড-১ থেকে ৪-সি নম্বর স্প্যান নিয়ে ভাসমান জাহাজ ‘তিয়ান-ই’ রওনা দেবে বলে নিশ্চিত করে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা প্রান্তে ২১ ও ২২ নম্বর খুঁটিতে (পিয়ার) ৪-সি নম্বর স্প্যান বসানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ২১ ও ২২ নম্বর খুঁটির কাছে পৌঁছাতে ঘণ্টা দুই সময় লাগবে। পরে দুপুর একটা নাগাদ স্থায়ীভাবে বসানো হবে সেতুর ১৯তম স্প্যান ৪-সি। ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি বসানোর পর সেতুর মোট ২৮৫০ মিটার দৃশ্যমান হবে। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে আরও চারটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির আরটিভি অনলাইনকে জানান, ১৯তম স্প্যান বসানোর সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়েই বসানো হবে ১৯তম স্প্যান। চলতি বছরে এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে ১২টি স্প্যান বসেছে। প্রকল্পের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, আগামী ২৮ অথবা ২৯ ডিসেম্বর ‘৩এফ’নম্বরের ২০তম স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তের ১৮ ও ১৯ নম্বর খুঁটিতে বসার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরেই সেতুর ১৪টি স্প্যান দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে একটি, ২০১৮ সালে ৫টি এবং ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত ১২টি স্প্যান বসেছে। উল্লেখ্য, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে। দ্বিতল এ সেতুর উপরিভাগ দিয়ে গাড়ি আর নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে। পি
পদ্মা সেতুর ১৯তম স্প্যান বসছে আজ
পদ্মা সেতুতে বসলো ১৭তম স্প্যান
দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল কাজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে আজ মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে বসানো হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ১৭তম স্প্যান (৪ডি)। সেতু কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ২২ ও ২৩ নম্বর খুঁটিতে (পিয়ার) বসানো হয় এই স্প্যানটি। এই স্প্যান বসানোর পর সেতুর ২৫৫০ মিটার স্থাপন হলো। এর পরই আগামী ৪ বা ৫ ডিসেম্বর বসার কথা রয়েছে ১৮তম স্প্যান। এটি বসবে ১৭ ও ১৮ নম্বর খুঁটিতে। এখন থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে স্প্যান উঠতে থাকবে। ইতোমধ্যে চীন থেকে আরো দুটি স্প্যান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। সমুদ্রপথে গত ১৯ নভেম্বর বিকেলে স্প্যান দুটি মোংলা পোর্টে এসে পৌঁছায়। এর আগে গত ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে ১৬তম স্প্যান (৩ডি) ১৬ ও ১৭ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে। ওই স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে সে সময় সেতুর দৃশ্যমান হয় ২৪০০ মিটার। স্প্যান বসার পরে কাজের গতি বেড়েছে। পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ুন কবির ও প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তথ্যমতে জানা গেছে, সব চ্যালেঞ্জ জয় করে এগিয়ে যাচ্ছে মূল সেতুর কাজ। পিলারের পাশাপাশি, স্প্যান, রোডওয়ে ও রেলওয়ের কাজও এগিয়ে চলছে। প্রকৌশলীরা আরও জানান, পুরো সেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯৫৯টি। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পি
পদ্মা সেতুতে বসলো ১৭তম স্প্যান
আরও পড়ুন
ধর্ষণ ও গণধর্ষণ বেড়েছে দ্বিগুণ: আসক
চীনে জিন এডিট করে শিশু জন্ম দেয়ায় তিন গবেষককে কারাদণ্ড
ভারতের চাপে বাধাগ্রস্ত বাংলাদেশের সফর: পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উইঘুর মসজিদে নামাজ পড়ায় আটক একদল মালয়েশীয় পর্যটক