ঢাকা সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৫ কার্তিক ১৪৩৩

তৈরি পোশাকখাত 

ভারতে ১২৪, পাকিস্তানে ১৩৫, বাংলাদেশে কেন ২৪২ ডলার— মজুরির এই ব্যবধান কতটা ঝুঁকির?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক হলেও, একবারে বর্তমান মজুরি দ্বিগুণ বা তার বেশি বাড়ানো হলে কারখানার উৎপাদন ব্যয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারে, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু শ্রমিক ও মালিকের মধ্যকার সমঝোতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতাও জড়িত। বিদেশি ক্রেতারা যদি পোশাকের ক্রয়মূল্য না বাড়িয়ে আগের দামেই পণ্য নিতে চান, আর বাড়তি মজুরির পুরো ব্যয় মালিকদের বহন করতে হয়, তাহলে উৎপাদন খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এতে কারখানাগুলোর মুনাফা কমার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো নির্ধারণ জরুরি।

হঠাৎ সংকট

করোনাভাইরাস মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক ঋণ সংকটের বিশ্বের উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলো আগে থেকেই চাপে রয়েছে। এরমধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে এটি আগের সব খারাপ পরিস্থিতিকে ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর উৎপাদনের প্রাণ জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়। এতে এসব দেশের সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয়। এটি দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশের মানুষ চাপে পড়ে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

এরইমধ্যে চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা। কয়েক দিন ধরে চলা বিক্ষোভে কারখানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও যানবাহনে হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে সহস্রাধিক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের পাশাপাশি অনেক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে শ্রমিকদের দাবি দ্রুত বিবেচনায় নিয়ে সরকার গত ১ নভেম্বর নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, পাঁচ সদস্যের এই বোর্ড দ্রুত সভা করে নতুন মজুরির বিষয়ে সুপারিশ দেবে।

পরবর্তীতে গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন যে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে এবং জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন স্কেলে বেতন পাওয়া শুরু করবেন পোশাক শ্রমিকরা।

সরকারের এই ঘোষণার পর শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শ্রমিকরা কারখানায় ফিরছেন এবং উৎপাদন কার্যক্রম চালু হচ্ছে।

এতটা মজুরি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারের কী হবে?

একটি তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা বা প্রায় ১০১ মার্কিন ডলার। প্রস্তাবিত ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাঁড়ায় প্রায় ২৪২ ডলারে। অর্থাৎ বর্তমানের তুলনায় বাড়বে প্রায় ১৪০ শতাংশ।

অন্যদিকে ভারতে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২৪ ডলার, পাকিস্তানে ১৩৫ ডলার এবং কম্বোডিয়ায় ২০৮ ডলার। অর্থাৎ প্রস্তাবিত ৩০ হাজার টাকা কার্যকর হলে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ভারত ও পাকিস্তানের প্রায় দ্বিগুণ এবং কম্বোডিয়ার চেয়েও বেশি হবে।

এতে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যয় অনেকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদনশীলতা না বাড়িয়ে একবারে এত বেশি মজুরি বাড়ানো হলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো বেশি চাপে পড়তে পারে। পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পোশাকের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। এতে কম খরচে পোশাক উৎপাদনকারী ভারত, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে ক্রয়াদেশ চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে শুধু শ্রমিকের মজুরি নয়, পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের সময় ও কারখানার কমপ্লায়েন্সও বিদেশি ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আছে আরও সংকট

দেশের পোশাক কারখানাগুলো আগে থেকেই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যাংকঋণের চাপে রয়েছে। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে অনেক কারখানাকে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে মজুরি একবারে বাড়ানো হলে কারখানার পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে। এতে মুনাফা কমে যাওয়া, উৎপাদন সীমিত করা কিংবা আর্থিকভাবে দুর্বল কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করে। এ খাতে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখাও জরুরি। এ জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অর্থায়ন, শ্রমিকদের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কারখানার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাই ৩০ হাজার টাকা মজুরি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একবারে এতটা মজুরি বৃদ্ধি কারখানার ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তাই শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা ও কারখানার সক্ষমতা বাড়ানোই এখন পোশাকশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৩৫ টাকা কেজিতে আমন ধান ও ৪৯ টাকায় সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার
চলতি বছর ৩৫ টাকা কেজি দরে আমন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার। এ ছাড়া আতপ চাল ৪৮ টাকা কেজি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩৫ টাকা কেজিতে আমন ধান ও ৪৯ টাকায় সিদ্ধ চাল কিনবে সরকার
বিদেশি ঋণ এক দশকে বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ
এক দশক আগে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৮ বিলিয়ন ডলারের মতো। ২০২৫ সালের শেষে তা তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৩ বিলিয়ন ডলার।
বিদেশি ঋণ এক দশকে বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ
আগের সরকারের জিডিপির হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে: অর্থমন্ত্রী
বিগত সরকারের আমলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব পর্যালোচনা করে বেশকিছু গরমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর বিবিএস মিলনায়তনে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ জানান বলেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব পর্যালোচনা করে বেশকিছু গরমিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে এসব অসংগতি চিহ্নিত করেছে এই সংক্রান্ত কমিটি। বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদনটি দ্রুত প্রকাশ করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও অর্থনৈতিক সুশাসন জোরদার করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) একটি গণমুখী, সম্পূর্ণ স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চায় সরকার।  অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বিবিএসের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তার দায়িত্ব পালন করতে পারে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান টেকসই উন্নয়ন, কার্যকর পরিকল্পনা এবং সুষ্ঠু সরকারি নীতি প্রণয়নের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তথ্য। নির্ভুল তথ্য ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণও জরুরি। আমরা হয়তো একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় রাজনৈতিক গণতন্ত্রায়ন অর্জন করতে পারি, কিন্তু অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ছাড়া রাজনৈতিক গণতন্ত্র কার্যকরভাবে চলতে পারে না। সেজন্যই বিবিএস’কে ক্ষমতায়ন করা এবং এটিকে আরও গণতান্ত্রিক করা অত্যাবশ্যক। মন্ত্রী বলেন, জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার দেওয়া তথ্যের ওপর জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারি পরিসংখ্যানকে আরও জনমুখী, পরিমাপযোগ্য, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে চায় সরকার। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে তথ্য বিকৃত বা হেরফের করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো সরকার যদি তথ্য-উপাত্তে কারসাজি করে, তাহলে মূলত তারা নিজেদেরই প্রতারিত করে। তারা এমন কিছু বিশ্বাস করাতে চায়, যা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়। এ ধরনের চর্চা সরকারের নেওয়া কর্মসূচি ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। অতীতের পরিসংখ্যান পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আমীর খসরু বলেন, তথ্যের অসংগতি চিহ্নিত করতে এবং অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো বুঝতে সরকার অতীত তথ্যের ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু করেছে। তিনি বলেন, সমাধান খুঁজতে হলে আমাদের রোগের গভীরে যেতে হবে। কোথায় সমস্যা রয়েছে তা না বুঝলে আমরা সংশোধনের পথ শুরু করতে পারি না। তবে এই পর্যালোচনা কেবল আগের সরকারের ত্রুটি চিহ্নিত করার অনুশীলন হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, সঠিক তথ্যের সহজলভ্যতা সরকারকে উপযুক্ত নীতি প্রণয়নে, গবেষকদের অর্থপূর্ণ গবেষণা পরিচালনায় এবং কর্তৃপক্ষকে বৈষম্য চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করে। নতুন নীতি প্রণয়নের চেয়ে বিদ্যমান নীতির বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অনেক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এবার আমরা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আধুনিক পরিসংখ্যান ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি আধুনিক ও কার্যকর পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শক্তিশালী ডিজিটাল ভিত্তি প্রয়োজন। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও জনগণের অগ্রযাত্রায় ডিজিটাল অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ওয়ালেট, ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর ভিশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্য আবশ্যক। অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিসংখ্যান ও গবেষণার তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করতে চায় সরকার, যাতে জনগণের মতামত, পর্যালোচনা এবং স্বাধীন গবেষণার সুযোগ বাড়ে। তিনি বলেন, কোনো কিছুই বন্ধ রাখা উচিত নয়। আমাদের উন্মুক্ত তথ্যপ্রাপ্তির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যত বেশি তথ্য সহজলভ্য করা যাবে, তত বেশি মতামত ও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে পারব। একটি গবেষণা কেন্দ্র উদ্বোধনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গবেষণার সুযোগ-সুবিধা ও তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে, যাতে আরও বেশি মানুষ এসব সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। তিনি বলেন, পরিসংখ্যানের তথ্যকে শুধু সরকারের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ, এসব তথ্যের প্রকৃত মালিক জনগণ এবং তা সামগ্রিকভাবে সমাজের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে, কিন্তু এর মালিকানা সবার। এসব তথ্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিবিএসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের নিষ্ঠা ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিবিএসের জনবল সংকট ও অন্যান্য পরিচালনাগত সমস্যার বিষয়েও সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি। এসব সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি কর্মকর্তা, পরিসংখ্যানবিদ, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি গণমুখী, স্বাধীন ও স্বচ্ছ পরিসংখ্যান ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, যা প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়ন ও জাতীয় উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/টিআর
আগের সরকারের জিডিপির হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের পঞ্চম সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ সরকার এবং রুশ ফেডারেশনের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক আন্তঃসরকারি কমিশনের (আইজিসি) ৫ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের পঞ্চম সভা অনুষ্ঠিত
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
টানা তিন দফা দাম বাড়ানোর পর দেশের বাজারে কমানো হয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশের বাজারে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার গহনা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আরও পড়ুন
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নিয়ে সোমবার প্রস্তাব দেবে শ্রমিকপক্ষ
সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা
কুড়িগ্রামে অসহায় শ্রমিকের পাশ দাঁড়াল নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন
কালিয়াকৈরে বন্ধ কারখানা খুলেছে, কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা