ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সচিবের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে শিক্ষা ক্যাডার

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২১, ০৮:১৬ এএম
সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম খান ও বিবৃতি

সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আমিরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষা ক্যাডার তৈরি করে তাদেরকে উচ্চাভিলাষী করা হয়েছে, এ ক্যাডারের কেউ শিক্ষক হতে চায় না, সবাই কর্মকর্তা হতে চায়।’

সচিবের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্যাডার সার্ভিসের বৃহৎ ক্যাডার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। তার এ বক্তব্যে শিক্ষা ক্যাডার ও কারিগরি সচিবকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। ‌তার এ বক্তব্য বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়কার শিক্ষা ক্যাডার বিদ্বেষী শিক্ষা সচিব শহীদুল আলমের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিলে যায় বলেও‌ অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনের সদস্য সচিব মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী।

রোববার (২৯ আগস্ট) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খানের বক্তব্য আমাদের নজরে এসেছে। বক্তব্যের কিছু অংশ দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্যাডার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগ কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উচ্চ পদে আসীন হয়ে এ জাতীয় মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।

এতে বলা হয়, পত্রিকায় তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘শিক্ষকদের ক্যাডার করে তাদের উচ্চাভিলাষী করা হয়েছে। সবাই অফিসার হতে আসেন। শিক্ষকতা করতে চান না।’ প্রায় ১৬ হাজার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার মেধা, মর্যাদা ও অধিকারকে অসম্মান করে এ জাতীয় বক্তব্য প্রদান অনভিপ্রেত ও বিদ্বেষপ্রসূত, যা ক্যাডারের স্থিতিশীলতার জন্য হানিকর।

প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কম্পোজিশন অ্যান্ড ক্যাডার রুলস ১৯৮০ ও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা দেশের প্রাথমিক থেকে টার্শিয়ারি স্তরের সাধারণ শিক্ষা ধারার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। ক্যাডারের আকার অনুযায়ী প্রশাসনিক পদের সংখ্যা একেবারেই সীমিত। ফলে এসব সীমিত সংখ্যক পদে এ বৃহৎ ক্যাডারের স্বল্প সংখ্যক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকেই সরকার পদায়ন করে থাকে। বেশিরভাগ ক্যাডার কর্মকর্তাই শিক্ষাদানে নিয়োজিত থাকেন।

তিনি আরও বলেছেন, ‘অথচ পাশের দেশ ভারতেও শিক্ষকদের ক্যাডার করা হয়নি। আসলে এরা শিক্ষক হতেই আসেন না।’ বাংলাদেশ একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। অন্য কোনো দেশের কোনো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত আমাদের অনুসরণ করতেই হবে এটা তার কেমন যুক্তি? আর শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা শিক্ষার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েই শিক্ষা প্রশাসনে কাজ করেন।

আসলে তার এ বক্তব্য বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময়কার শিক্ষা ক্যাডার বিদ্বেষী শিক্ষা সচিব শহীদুল আলমের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিলে যায়। সে সময় থেকেই মূলত শিক্ষা ক্যাডারের প্রশাসনিক পদগুলো গ্রাস করার সর্বাত্মক অপচেষ্টা শুরু হয়। প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক পদ দখল, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে শিক্ষা ক্যাডার বহির্ভূতদের পদায়ন, নায়েম থেকে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিতাড়নের অপচেষ্টা এ সবই ঘটেছিল ওই সময়।

তারই ধারাবাহিকতায় এখনও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদে আসীন কেউ কেউ এরূপ অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করছেন। মনে রাখতে হবে শিক্ষা প্রশাসন থেকে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সরিয়ে ওই সব পদ শিক্ষা সম্পর্কিত ধারণা ও জ্ঞানহীন অন্যদের দখল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের পরিপন্থী। বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শনের মূলে ছিল নিজ নিজ পেশায় দক্ষ পেশাজীবীদের কাজে লাগানো। সে জন্য তিনি প্রশাসনিক বিন্যাসে বিশেষায়ন নীতি গ্রহণ করেছিলেন। রাষ্ট্রের সামষ্টিক সমৃদ্ধি ও অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে অপরিহার্য ও অবিকল্প কৌশলের অংশ। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ড. এ আর মল্লিক ও অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে শিক্ষা সচিব পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

এছাড়া স্বাস্থ্য, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিজ নিজ পেশায় দক্ষদের সচিব পদে পদায়ন করেছিলেন। পরবর্তীতে সিভিল সার্ভিসের জন্য বিভিন্ন পেশার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন ক্যাডার গঠন করা হয়েছে।

আমরা জানি, কালের অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন ক্যাডারকে অধিকতর শক্তিশালী ও সংহত করার জন্য এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বিশেষায়িত ক্যাডারগুলোতে বিশেষায়িত পেশাজীবীদের প্রাপ্য পদ সংকুচিত করাসহ বিদ্যমান সেসব পদে বিশেষ একটি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্যায্য পদায়ন ও পদায়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন পেশাজীবী ক্যাডারের স্বার্থ যেমন ক্ষুণ্ণ হচ্ছে তেমনি সংশ্লিষ্ট খাতে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা পাওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন দফতর-অধিদফতরের মূল পদগুলোতে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদ সংকোচন করে একটি বিশেষ ক্যাডার ও নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদায়নের সুযোগ রেখে নতুন নিয়োগ বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে। অনেকগুলো দফতরেই ডি-ক্যাডারাইজেশনের অপচেষ্টা চলছে। কিছু কিছু জায়গায় আংশিকভাবে এসব বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দফতর-অধিদফতরগুলো থেকে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাদরাসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দফতর-অধিদফতরগুলোতেও এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আমরা মনে করি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খানের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সাম্প্রতিক বক্তব্য বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের স্বার্থ বিরোধী। বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার এক সুপরিকল্পিত অভিপ্রায়ের অংশ।

আমরা লক্ষ্য করছি ওই বিভাগের সচিব হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি শিক্ষা ক্যাডার পরিপন্থী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষা ক্যাডার সদস্যদের সরিয়ে দিচ্ছেন। নিম্ন যোগ্যতা (নন-ক্যাডার) সম্পন্নদের পদায়ন করছেন এবং শিক্ষা ক্যাডার পদ সৃজনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নন-ক্যাডার পদ সৃজনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই আমরা তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং এ বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করছি। পাশাপাশি শিক্ষা ক্যাডার ও শিক্ষা পরিপন্থী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

কেএফ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।  শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) মাউশি এ সংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধনের তথ্যের ভিত্তিতে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব ছাত্র-ছাত্রীর জন্মনিবন্ধন নেই, আগামী ৬ জানুয়ারির মধ্যে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার বিষয়টি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নিশ্চিত করবেন। ৭ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে পারবে, এমন ছাত্র-ছাত্রীর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকা সিভিল সার্জনের অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের। ৮ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিশ্চিত করবেন। সব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এফএ
শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সুপারিশ ইউজিসির
দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু থাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই নেতিবাচক প্রভাব দূরীকরণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে। সেজন্য ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে উচ্চ শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউজিসির একটি প্রতিনিধি দল সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে জমা দেন এবং সেখানে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি, টিউশন ফি, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। যদিও দেশের সব অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থা সমান নয়। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে নির্দেশনা দিতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সান্ধ্যকালীন, উইকেন্ড ও এক্সিকিউটিভ প্রভৃতি কোর্স চালু রাখা হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের কোর্সগুলো বন্ধ হওয়া জরুরি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করে ডিপ্লোমা, সংক্ষিপ্ত কোর্স এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ওপর কোর্স চালাতে পারে। ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন, উইকেন্ড এবং এক্সিকিউটিভ কোর্স বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করছে এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রিত নয়। এফএ/টিআই
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সুপারিশ ইউজিসির
নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাসের সময়সূচি প্রকাশ
করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিকে নজর রেখে নতুন বছরে নতুন শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি সাজানো হয়েছে। এতে সপ্তাহে প্রতিদিন চারটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)।   দশম শ্রেণিতে সপ্তাহে প্রতিদিন তিনটি বিষয়ে ক্লাস, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে দুই দিন ক্লাস। এই দুই দিনের প্রতিদিন তিনটি করে বিষয়ের ওপর ক্লাস নিতে হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে এক দিন তিনটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হবে। মাউশির আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন শ্রেণিভেদে এসব ক্লাস হবে। বৃহস্পতিবার ক্লাসের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে প্রাথমিকের শ্রেণিগুলোর শ্রেণি কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি মার্চ পর্যন্ত দেখা হবে। এর মধ্যে সংক্রমণ না বাড়লে তারপর শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে।  করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর গত সেপ্টেম্বরে খুললেও স্বল্পপরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এফএ/টিআই
নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাসের সময়সূচি প্রকাশ
একাদশে ভর্তির তারিখ ঘোষণা
আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু হবে। ২ মার্চ থেকে শুরু হবে ক্লাস।   বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, এবার শুধু অনলাইনের (www.xiclassadmission.gov.bd) মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। ৮ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। যারা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবে তাদেরও এ সময়ের মধ্যে ভর্তির আবেদন করতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়া হবে ২২ জানুয়ারি ও ২৩ জানুয়ারি। ২৪ জানুয়ারি পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে। ৩০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেওয়া হবে ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে।  এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। আর ২ মার্চ থেকে কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। এসএস
একাদশে ভর্তির তারিখ ঘোষণা
ঢাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নীল দলের জয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ১৫টি পদের ১৪টিতে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের প্রার্থীরা। এতে সভাপতি হয়েছেন আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মো রহমত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন পুষ্টি ও খাদ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী এ ফলাফল ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ ৯৪৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া ৯৭০ ভোট পান। নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন ৮৫০ ভোট, সহসভাপতি পদে অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ৮২৬ ভোট, যুগ্ম-সম্পাদক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম ৮২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া ৯০৭ ভোট, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম সৈয়দ ৯০৪ ভোট, রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল ৮৫২ ভোট, অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার ৮৩৫ ভোট, বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন ৭৯১ ভোট, তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাসিরুদ্দিন মুন্সি ৭৯১ ভোট, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ৭৮৬ ভোট, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ৭৮৩ ভোট এবং ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ ৭৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সাদা দলের একমাত্র বিজয়ী প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তিনি ৮০৬ ভোট পেয়েছেন। এফএ/টিআই
ঢাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নীল দলের জয়
আরও পড়ুন
বড় পদোন্নতিতে বঞ্চনার অবসান ঘটলো শিক্ষা ক্যাডারে