ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় চার নেতা থাকবেন চীর ভাস্বর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৫৩ পিএম
শিক্ষামন্ত্রী

‘বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় চার নেতা থাকবেন চীর ভাস্বর হয়ে। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করা যাবে না। পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ড ন্যাক্কারজনক হয়েই থাকবে।’

বুধবার (০৩ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গীভূত বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড : বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনার এবং ইনস্টিটিউটে এমফিল লিডিং টু পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তিকৃত নতুন গবেষকদের গবেষণা পরিচিতি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এম.পি. বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যার মূল্য উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের মূল্যবোধকে দূরে ঠেলে দেশকে আবার পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়া। এ কারণেই ঘাতকেরা প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করতে চেয়েছিল। এরপর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে। ঘাতকেরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার এবং তাঁর আদর্শের কেউ বেঁচে থাকলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকেরা এই চার নেতাকে টার্গেট করেছিল। কারণ তারা কোন প্রলোভন ও ভয়ের কাছে নতি স্বীকার করেননি।’

বঙ্গবন্ধুর প্রতি চার নেতার ছিল অবিচল আস্থা আর ভালোবাসা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় চার নেতা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধকে অত্যন্ত সঠিকভাবে পরিচালিত করেছিলেন। একারণেই তাদেরকে হত্যা করা হয়। কারণ তাঁরা বেঁচে থাকলে ঘাতকদের হীন স্বার্থ উদ্ধার হতো না।’

বর্তমান প্রজন্মকেও নেতার প্রতি অবিচল আস্থা আর ভালোবাসা রাখার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় চার নেতা যেমন করে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে জীবন দিয়েছেন, বিশ্বাস এবং আস্থায় রেখেছেন, তেমন করে বর্তমান সময়েও বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে। যেকোন প্রয়োজনে আমাদের মেরুদণ্ডটা সোজা রাখতে হবে। আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে এই দিবসগুলো পালন করবো না, সত্যিকার অর্থে এর মর্মার্থ আমরা বুকে ধারণ করবো ও নিজেদের তৈরি করবো।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকে সাম্প্রদায়িক হামলায় কিশোরদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বন্ধে আমাদের অসাম্প্রদায়িক মানুষ তৈরি করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে উপযুক্ত সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা মুখ্য। তারাই নতুন প্রজন্মকে মানবিক ও সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করতে পারে। সেটি করতে পারলে এর চেয়ে ভালো শ্রদ্ধা নিবেদন আর হতে পারে না।’

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘জাতীয় চার নেতা হত্যা কোন সাধারণ ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। আজকে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে গবেষণার প্রস্তাব আসছে। সব উপলব্ধি কী গবেষণায় বের হয়? গবেষণায় কী কখনো ওই ব্যথা তুলে আনা সম্ভব। যেখানে সন্তান জানে নিরাপরাধ দেশপ্রেমিক মানুষকে জেলখানায় হত্যা করা হয়। ক্ষমতার প্রলোভন, চেতনা বিনাশের অবিনাশী খেলা- সেটি কী সব সময় গবেষণায় উঠে আসে? সব উপলব্ধি কী গবেষণায় উঠে আনা যায়। আমার মনে হয় কখনো কখনো একমাত্র ইতিহাস চেতনা এবং চর্চা আমাদের শুদ্ধ করতে পারে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র সৃষ্টির বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চার সহযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু একটি রাষ্ট্র সৃষ্টির পর দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এবং তার সহযাত্রীদের ওই দ্বিতীয় বিপ্লব যদি সফল হতো বাংলাদেশ আজ রাজনৈতিক দীক্ষায় বিশ্বের অনন্য রাষ্ট্রে পরিণত হতো। আমাদের সেই স্বপ্নটি হত্যা করা হয়েছে সেই খুনি মুশতাক, খুনি জিয়া। আজ যদি আমি প্রকাশ্যে তাদের খুনি বলি, তাহলে আমাদের কণ্ঠ রোধ করা হয়। কিন্তু একথা সত্যি তারা প্রত্যেকে বেনিফিশিয়ারি। দেশের রাজনীতিতে তারা সামরিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন। এই দেশে রাজনীতিতে সামরিক কাঠামোর কোমর ভেঙেছেন বঙ্গবন্ধ কন্যা শেখ হাসিনা। এই রক্ত কখনো বেঈমানী করে না। এই রক্তের ধারা সারা বাংলাদেশে বহমান। এই সামরিক কাঠামো ভাঙায় বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছেন চার নেতার উত্তরাধিকার। এই রাষ্ট্র আমাদের কাছে পবিত্র আমানত। এই চেতনা বুকে ধারণ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা যায়, বুকে বুলেট। সেই চেতনা আজন্ম মাথা উঁচু করে থাকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় চার নেতা থাকবেন চীর ভাস্বর।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে কোনোভাবেই যেন আওয়ামী লীগ মাথা উঁচু করে না দাঁড়াতে পারে। কিন্তু ওই ঘাতকেরা পরাজিত হয়েছে। খুনিরা যে সুক্ষ্ম পরিকল্পনা করেছেন, তাদের যে চিন্তার শক্তি ছিল সেটাও ঠিক। শেখ হাসিনা এবং রেহানা বাইরে থেকে ছিলেন বলেই আজকে বেঁচে গেছেন। কিন্তু বোকারা জানে না- শেখ মুজিব কোন রাষ্ট্রের নয়, তিনি পৃথিবীর একমাত্র নেতা, যিনি রাষ্ট্রপ্রধান না হয়েও পূর্ব বাংলার সাত কোটি মানুষ তার কথাই শুনতো। তিনি যা বলতেন তাই করতেন। একটি জাতিকে মুক্ত করার জন্য তিনি ছিলেন বাংলার আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র।

সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর, আর জেল হত্যাকাণ্ডের ৪৬ বছর। আমাদের শুধু বিচার করলেই হবে না। এখন সময় এসেছে কমিশন গঠন করে হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের বিচার করা। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ইনস্টিটিউট চার নেতা হত্যাকাণ্ড নিয়ে গবেষণা করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে গবেষণার বিষয়বস্তু ও গবেষকদের পরিচিতি নিয়ে ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দিন, সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শরীফ আতিকুজ্জামান । বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা মিরা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নূর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুস সালাম হাওলাদার, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।

এফএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।  শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) মাউশি এ সংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধনের তথ্যের ভিত্তিতে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব ছাত্র-ছাত্রীর জন্মনিবন্ধন নেই, আগামী ৬ জানুয়ারির মধ্যে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার বিষয়টি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নিশ্চিত করবেন। ৭ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে পারবে, এমন ছাত্র-ছাত্রীর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকা সিভিল সার্জনের অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের। ৮ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিশ্চিত করবেন। সব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এফএ
শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সুপারিশ ইউজিসির
দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু থাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই নেতিবাচক প্রভাব দূরীকরণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে। সেজন্য ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে উচ্চ শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউজিসির একটি প্রতিনিধি দল সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে জমা দেন এবং সেখানে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি, টিউশন ফি, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। যদিও দেশের সব অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থা সমান নয়। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে নির্দেশনা দিতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সান্ধ্যকালীন, উইকেন্ড ও এক্সিকিউটিভ প্রভৃতি কোর্স চালু রাখা হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের কোর্সগুলো বন্ধ হওয়া জরুরি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করে ডিপ্লোমা, সংক্ষিপ্ত কোর্স এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ওপর কোর্স চালাতে পারে। ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন, উইকেন্ড এবং এক্সিকিউটিভ কোর্স বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করছে এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রিত নয়। এফএ/টিআই
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সুপারিশ ইউজিসির
নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাসের সময়সূচি প্রকাশ
করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিকে নজর রেখে নতুন বছরে নতুন শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি সাজানো হয়েছে। এতে সপ্তাহে প্রতিদিন চারটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)।   দশম শ্রেণিতে সপ্তাহে প্রতিদিন তিনটি বিষয়ে ক্লাস, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে দুই দিন ক্লাস। এই দুই দিনের প্রতিদিন তিনটি করে বিষয়ের ওপর ক্লাস নিতে হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে এক দিন তিনটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হবে। মাউশির আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন শ্রেণিভেদে এসব ক্লাস হবে। বৃহস্পতিবার ক্লাসের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে প্রাথমিকের শ্রেণিগুলোর শ্রেণি কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি মার্চ পর্যন্ত দেখা হবে। এর মধ্যে সংক্রমণ না বাড়লে তারপর শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে।  করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর গত সেপ্টেম্বরে খুললেও স্বল্পপরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এফএ/টিআই
নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাসের সময়সূচি প্রকাশ
একাদশে ভর্তির তারিখ ঘোষণা
আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু হবে। ২ মার্চ থেকে শুরু হবে ক্লাস।   বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, এবার শুধু অনলাইনের (www.xiclassadmission.gov.bd) মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। ৮ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। যারা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবে তাদেরও এ সময়ের মধ্যে ভর্তির আবেদন করতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়া হবে ২২ জানুয়ারি ও ২৩ জানুয়ারি। ২৪ জানুয়ারি পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে। ৩০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেওয়া হবে ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে।  এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। আর ২ মার্চ থেকে কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। এসএস
একাদশে ভর্তির তারিখ ঘোষণা
ঢাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নীল দলের জয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ১৫টি পদের ১৪টিতে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের প্রার্থীরা। এতে সভাপতি হয়েছেন আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মো রহমত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন পুষ্টি ও খাদ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী এ ফলাফল ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ ৯৪৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া ৯৭০ ভোট পান। নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন ৮৫০ ভোট, সহসভাপতি পদে অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ৮২৬ ভোট, যুগ্ম-সম্পাদক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম ৮২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া ৯০৭ ভোট, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম সৈয়দ ৯০৪ ভোট, রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল ৮৫২ ভোট, অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার ৮৩৫ ভোট, বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন ৭৯১ ভোট, তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাসিরুদ্দিন মুন্সি ৭৯১ ভোট, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ৭৮৬ ভোট, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ৭৮৩ ভোট এবং ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ ৭৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সাদা দলের একমাত্র বিজয়ী প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তিনি ৮০৬ ভোট পেয়েছেন। এফএ/টিআই
ঢাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নীল দলের জয়
আরও পড়ুন
ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়’
বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরির সুযোগ
আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, অস্ত্রধারী কারা?
দুই দিনেই পাল্টে গেল বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত