ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

নবীনদের পদচারণায় মুখরিত রাবি

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩৯ পিএম
নবীনদের পদচারণায় মুখরিত রাবি, ছবি : প্রতিনিধি

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। হাজারো শিক্ষার্থীর প্রাণের ক্যাম্পাস, হৃদয়ের স্পন্দন ও আবেগ-অনুভূতির জায়গা। ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৭৫০ একরের এই ক্যাম্পাসের প্রথম দিনটি সত্যিই অসাধারণ। চান্স পাওয়ার পর প্রত্যেকেই স্বপ্নের ক্যাম্পাস নিয়ে মনে মনে আঁকতে থাকে নানান স্বপ্ন, নানান পরিকল্পনা। প্রস্তুতি নিতে থাকে ক্যাম্পাসের প্রথম দিন কীভাবে কাটাবে এবং কী করবে। প্রবীণরাও প্রস্তুতি নিতে থাকে কীভাবে নবীনদের বরণ করে নেওয়া যায়। প্রস্তুতি শেষে ওরিয়েন্টেশনের দিনেই সেটি প্রকাশ পায়। সবাই ভেসে যায় আনন্দের জোয়ারে।

নানান আয়োজন আর আনন্দঘন পরিবেশে মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ দিনে মতিহারের সবুজ চত্বর মেতেছিল উৎসবের আমেজে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, নবীন ছাত্রছাত্রীরা সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। অনেক নবীনের সঙ্গে আবার তাদের অভিভাবকদেরও দেখা গেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রবীণরাও এসেছেন সাজগোজ করে নানা আয়োজনে নবীনদের বরণ করে নিতে। প্রবীণ ছাত্রীদের কেউ কেউ শাড়ি পরে ও ছেলেরা এসেছে পাঞ্জাবি অথবা শার্ট-কোর্ট-টাই পরে। প্রত্যেক বিভাগে পৃথক পৃথকভাবে বিভাগীয় প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ওরিয়েন্টেশন ক্লাস। ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষক ও নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষকরা নবীনদের রজনীগন্ধা ও গোলাপ ফুল উপহার দেওয়ার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেন। এ সময় শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য নবীনদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রবীণরাও নবীনদের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং বিতরণ করে রজনীগন্ধা ও লাল গোলাপ। আনন্দের এই দিনে বাদ যায়নি মিষ্টি বিতরণ পর্বও।

নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সবাই যখন স্ব স্ব বিভাগ থেকে বেরিয়ে আসে তখনই আনন্দের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সবার হাতে হাতে ফুল, সবাই একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। প্যারিস রোডে অনেকে ব্যস্ত গ্রুপ সেলফি তোলায়। অনেকে আবার বসেছে আনন্দ আড্ডায়। ক্যাম্পাসে পুরোটা দিন অতিবাহিত হয়েছে এমনই এক আনন্দঘন পরিবেশে। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে নতুন ক্যাম্পাসে নতুন জীবনের শুরু, সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি!

ক্যাম্পাসের এই প্রথমদিনে কথা হয় ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী বিক্রম রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে আমি সত্যিই অনেক আনন্দিত। কেননা এটি উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করব। রাবিতে চান্স পাওয়ার মাধ্যমে আমার দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। চান্স পাওয়ার পরই প্রথম দিনের ক্লাসের জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম। সময় যেন কাটছিল না। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। প্রথম দিনের ক্যাম্পাসে বিভাগের শিক্ষক এবং বড় ভাই-আপুদের সান্নিধ্যে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিন্নাতুন নাহার জেবা বলেন, ‘আজ ছিল আমার জীবনের বিশেষ একটি দিন। সারা রাত শুধু এটাই ভেবেছি, সকালটা কেমন হবে। আজ যখন রাবির মেইন গেট দিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করছিলাম, তখন মনে হলো যেন এক উষ্ণ বাতাস আমায় ক্যাম্পাসে স্বাগতম জানাল। এ যেন এক যুদ্ধ জয়ের পরে বিজয়ের আনন্দ। এমন একটা উজ্জ্বল দিনের অপেক্ষায় কত নির্ঘুম রাত কেটেছে! কত পরিশ্রম, কত ত্যাগ! এর সবটাই আমার বাবা-মা, পরিবারের অবিচল সাপোর্ট, আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের অবদান।’

প্রিয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী হতে পেরে অনেক আনন্দিত চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি সত্যিই আমার জন্য অনন্য। পরিচ্ছন্ন ও জ্যামবিহীন নগরী হওয়ায় রাজশাহী আমার প্রিয় শহর৷ আর এ জন্যই প্রাচ্যের ক্যামব্রিজ খ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আমার প্রাণের ক্যাম্পাস।’

এদিকে নবীনদের সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সবসময় তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী। তিনি বলেন, নবীনদের আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে প্রক্টরিয়াল বডি তৎপর রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পাসে মাইকিং করা হয়েছে। র‌্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে সব ধরনের সচেতনতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এরপরও যদি র‌্যাগিংয়ের মতো কোনো ঘটনা ঘটে আর যদি সে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সবোর্চ্চ শাস্তি বহিষ্কার করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নবীনদের পদার্পণ নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের নতুন সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেওয়ার জন্য তাতের অভিনন্দন জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের কাছে প্রত্যাশা করব, যে তারা নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে।

উপ-উপাচার্য আরও বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, গবেষণা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাদের অধিকার এবং কর্তব্য সম্পর্কে তাদের অবগত হতে হবে। আশা করি তারা শিক্ষার্থী হিসেবে সময়নিষ্ঠ, অধ্যবসায়ী হবে এবং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পদযাত্রা করবে। আমি চাইব তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করবে।
পি/টিআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।  শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) মাউশি এ সংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধনের তথ্যের ভিত্তিতে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব ছাত্র-ছাত্রীর জন্মনিবন্ধন নেই, আগামী ৬ জানুয়ারির মধ্যে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার বিষয়টি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নিশ্চিত করবেন। ৭ জানুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে পারবে, এমন ছাত্র-ছাত্রীর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকা সিভিল সার্জনের অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের। ৮ থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিশ্চিত করবেন। সব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এফএ
শিক্ষার্থীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সুপারিশ ইউজিসির
দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু থাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই নেতিবাচক প্রভাব দূরীকরণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো হচ্ছে। সেজন্য ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে উচ্চ শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউজিসির একটি প্রতিনিধি দল সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে জমা দেন এবং সেখানে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি, টিউশন ফি, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। যদিও দেশের সব অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থা সমান নয়। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে নির্দেশনা দিতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সান্ধ্যকালীন, উইকেন্ড ও এক্সিকিউটিভ প্রভৃতি কোর্স চালু রাখা হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের কোর্সগুলো বন্ধ হওয়া জরুরি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করে ডিপ্লোমা, সংক্ষিপ্ত কোর্স এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ওপর কোর্স চালাতে পারে। ইউজিসি চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন, উইকেন্ড এবং এক্সিকিউটিভ কোর্স বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করছে এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রিত নয়। এফএ/টিআই
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় সুপারিশ ইউজিসির
নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাসের সময়সূচি প্রকাশ
করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিকে নজর রেখে নতুন বছরে নতুন শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি সাজানো হয়েছে। এতে সপ্তাহে প্রতিদিন চারটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)।   দশম শ্রেণিতে সপ্তাহে প্রতিদিন তিনটি বিষয়ে ক্লাস, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে দুই দিন ক্লাস। এই দুই দিনের প্রতিদিন তিনটি করে বিষয়ের ওপর ক্লাস নিতে হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে এক দিন তিনটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হবে। মাউশির আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদিন শ্রেণিভেদে এসব ক্লাস হবে। বৃহস্পতিবার ক্লাসের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে প্রাথমিকের শ্রেণিগুলোর শ্রেণি কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি মার্চ পর্যন্ত দেখা হবে। এর মধ্যে সংক্রমণ না বাড়লে তারপর শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে।  করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর গত সেপ্টেম্বরে খুললেও স্বল্পপরিসরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এফএ/টিআই
নতুন শিক্ষাবর্ষে ক্লাসের সময়সূচি প্রকাশ
একাদশে ভর্তির তারিখ ঘোষণা
আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু হবে। ২ মার্চ থেকে শুরু হবে ক্লাস।   বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, এবার শুধু অনলাইনের (www.xiclassadmission.gov.bd) মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। ৮ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। যারা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবে তাদেরও এ সময়ের মধ্যে ভর্তির আবেদন করতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন নেওয়া হবে ২২ জানুয়ারি ও ২৩ জানুয়ারি। ২৪ জানুয়ারি পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে। ৩০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেওয়া হবে ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে।  এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। আর ২ মার্চ থেকে কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। এসএস
একাদশে ভর্তির তারিখ ঘোষণা
ঢাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নীল দলের জয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ১৫টি পদের ১৪টিতে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের প্রার্থীরা। এতে সভাপতি হয়েছেন আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মো রহমত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন পুষ্টি ও খাদ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী এ ফলাফল ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ ৯৪৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া ৯৭০ ভোট পান। নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ পদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন ৮৫০ ভোট, সহসভাপতি পদে অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান ৮২৬ ভোট, যুগ্ম-সম্পাদক পদে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম ৮২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া ৯০৭ ভোট, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক এম সৈয়দ ৯০৪ ভোট, রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল ৮৫২ ভোট, অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার ৮৩৫ ভোট, বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন ৭৯১ ভোট, তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাসিরুদ্দিন মুন্সি ৭৯১ ভোট, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ৭৮৬ ভোট, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ৭৮৩ ভোট এবং ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ ৭৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সাদা দলের একমাত্র বিজয়ী প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। তিনি ৮০৬ ভোট পেয়েছেন। এফএ/টিআই
ঢাবির শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে নীল দলের জয়