ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ডোনাল্ড লুর বাংলাদেশ সফর : র‍্যাবের জন্য সুখবর নেই

ডয়েচে ভেলে

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৪, ০৬:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র ঢাকা সফরে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন প্রাধান্য পেয়েছে৷ কিন্তু দু’ দিনের এ সফর থেকে কোনো ভালো বার্তা কি পেয়েছে বাংলাদেশ?

ঢাকায় ডোনাল্ড লু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রী, পররাষ্ট্র সচিবের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও অধিকার কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেছেন৷ দুই দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা ছেড়েছেন৷ ডোনাল্ড লু ঢাকায় থাকার সময় মার্কিন দূতাবাস এ সফর নিয়ে দুটি বিবৃতি দিয়েছে৷

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে রয়েছে৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমাদের আলোচনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে তোলা, কর্মশক্তি বৃদ্ধি, নিরাপত্তা সহযোগিতার উন্নতি, জলবায়ু সংকট মোকাবেলা এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমাদের মূল্যবোধকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করেছে৷

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তঃ সীমান্ত জ্বালানি বাণিজ্যসহ পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, জীববৈচিত্র্য বজায় রাখতে ইকোসিস্টেম সংরক্ষণ, কৃষিখাতে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং জলবায়ু বিষয়ক কাজে নারী নেতৃত্ব ও যুব সমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধিতে সহায়তা করে৷ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সাথে এই সাক্ষাতে আমরা আনন্দিত, কারণ, আমরা আমাদের দুই দেশের অংশীদারিত্ব শক্তিশালী ও জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করছি৷

৭ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর৷ ওই নিষেধাজ্ঞা ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যারা বাধা হবেন, তাদের জন্য৷ এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব-পুলিশের ১০ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়৷ নির্বাচনের আগে গত বছরের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড লু ঢাকা সফর করেছিলেন৷ তখন তার সফরের মূল প্রতিপাদ্যই ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন৷ পরে তিনি শর্তহীন সংলাপের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে চিঠি দেন৷ নির্বচনের পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না বলে প্রতিক্রিয়া জানায়৷

কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড লু৷ তখন তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমি এসেছি আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ করতে৷ তার কথা, গতবছর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অনেক অস্বস্তি ছিল৷ আমরা অনেক চেষ্টা করেছি বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতা বিহীন নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হয়৷ আমরা এখন সামনের দিকে তাকাতে চাই, পেছনের দিকে নয়৷ তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অন্যান্য অংশীদারিত্বমূলক সহযোগিতার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করার কথা জানান৷

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি (ডোনাল্ড লু) সম্পর্ককে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন৷ সেই অভিপ্রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশ সফরে এসেছেন৷ আমাদের আলোচনা সে লক্ষ্যেই হয়েছে৷ তার সঙ্গে নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি৷ আমার সঙ্গে শুধু ইতিবাচক ইস্যু নিয়েই আলোচনা হয়েছে৷ ডোনাল্ড লু তার এই সফরের সময় ঢাকার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন৷ সেই সাক্ষাৎকারগুলোতেও তিনি সম্পর্কের উন্নয়ন ও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলেছেন৷

ঢাকায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ডোনাল্ড লু৷ ওই বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে৷ তাদের একজন বলেন, নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার নিয়ে যতটা সোচ্চার ছিল এবার ততটা নয়৷ এবার তারা আমাদের সঙ্গে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন৷ তবে তা রুটিন ওয়ার্কের মতো৷

বৈঠকে উপস্থিত মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, আমার মনে হয়েছে, তারা কৌশল পরিবর্তন করেছে৷ তারা আলাপ আলোচনা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার, মানবাধিকার নিয়ে সরকারে সঙ্গে কাজ করতে চায়৷ নাগরিকদের জন্য স্পেস বাড়াতে চায়৷ চাপ প্রয়োগের পথে তারা এখন আর নেই৷ তবে এইসব বিষয় নিয়ে তারা তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন করেছে বলে মনে হয়নি৷

কিন্তু নির্বাচনের আগে তারা যতটা সক্রিয় ছিল, এখন অতটা নয়৷ তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপি বা কোনো দল নিয়ে তিনি কথা বলেননি৷ তবে সার্বিকভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গ্রেপ্তার এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে৷ বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ সেন্টার ফর উইমেন ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, আমার সঙ্গে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা এবং শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে কথা হয়েছে৷ অন্যদের সঙ্গে সংবাদমাধ্যম, নাগরিক অধিকার, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছেন তিনি৷

সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব,) মো. শহীদুল হক মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন ভূ-রাজনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য গুরুত্ব পাচ্ছে৷ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তাদের কারা মিত্র হবে সেটা এখন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷ সফরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতেও তা বলা হয়েছে৷ আর এই লক্ষ্যেই তিনি ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ একই সময়ে সফর করেছেন৷

তিনি বলেন, এখানে চীন এবং মিয়ানমারকে কেন্দ্র করেই মার্কিন ভূ-রাজনীতি কেন্দ্রীভূত৷ সেক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকে পাশে চায়৷ তারা মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটকে নিয়ে ভিন্ন চিন্তা করছে৷ সেটা সফল হলে এই অঞ্চলে তাদের অবস্থান অনেক শক্ত হবে৷ আর চীন যাতে এখানে প্রভাব বাড়াতে না পারে সেই চেষ্টাও তাদের আছে৷ তারা এখন তাদের নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন তা দেখতে চায়৷

স্কোয়াড নামে একটা নতুন সামরিক জোট হয়েছে৷ এটা চীনের বিরুদ্ধে৷ আর যদি ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যালায়েন্স জোরদার হয়, তাহলে ভূ-রাজনীতিতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র অনেক সুবিধায় থাকবে৷ কোয়াড আছে৷ তবে সেটা সামরিক জোট নয়৷ আর মিয়ানমারকেন্দ্রিক অবস্থান যদি যুক্তরাষ্ট্র শক্ত করতে পারে, তাহলে তারা অনেক বেশি বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে৷ বলেন তিনি৷

তার কথা, বাংলাদেশের গণতন্ত্র মানবাধিকার এই বিষয়গুলো যে তারা বাদ দিয়েছে, তা নয়৷ তবে গুরুত্বের দিক থেকে নীচে নেমে গেছে৷ তারা এখন সময়ের বিবেচনায় কাজ করছে৷ অন্যদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এর সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, নির্বাচনের আগে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সম্পর্ক আরো জোরদার করার জন্যই এই সফর হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে৷ আমাদের কাছে যে তথ্য আর খবর আছে তাতে দুই দেশের সম্পর্ক এখন তারা আরো ভালোভাবে এগিয়ে নিতে চায়৷

তার কথা, এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনীতি দুটোই আছে৷ লু তো নিজেই বোয়িং বিক্রির কথা বললেন৷ আমাদের বঙ্গোপসাগরে তারা তেল, গ্যাস অনুসন্ধানে খুব আগ্রহী৷ এছাড়া জলবায়ু, রোহিঙ্গা ইস্যু তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ৷ আমাদের কাছেও৷ তারা ইন্দোপ্যাসিফিক আলোচনার মাধ্যমে ভূ-রাজনীতিতে এখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায়৷

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তারা যা বলেছেন, সেটা ছিল তাদের আরেকটি কৌশল৷ কারণ, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়৷ তাই তখন তারা সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে কথা বলেছে৷ এখন নির্বাচন হয়ে গেছে, তাই তারা নতুন প্রেক্ষাপটে কথা বলছে৷

তিনি বলেন, গণতন্ত্র, নিষেধাজ্ঞা, র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা হয়েছে৷ র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আসলে কী হবে তা এখনো বলা যায় না৷ তবে লেবার রাইটের ব্যাপারে তারা কোনো নতুন করে বাংলাদেশের জন্য কোনো স্ট্যান্ডার্ড সেট করবে না৷ আইএলওর মানই তারা অনুসরণ করবে৷ এটা আমাদের জন্য ভালো৷

এদিকে ডোনাল্ড লুর বাংলাদেশ সফরে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো কথা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের উপমুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল৷ বৃহস্পতিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব দাবি মিথ্যা৷ যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে না৷ এই দাবিগুলো মিথ্যা৷ নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হল আচরণের পরিবর্তন এবং জবাবদিহিতার প্রচার৷

ডোনাল্ড লু’র সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান দাবি করেছিলেন, লু জানিয়েছেন র‌্যাবের ওপরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগকে তারা সমর্থন করবেন৷

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
বাংলাদেশের একটি আদালত এলাকার ভিডিওকে ঢাকার রাস্তার দৃশ্য বলে প্রচার করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে ‘আজতক বাংলা’সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। পরে সেই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিও প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সোয়াত টিমের সদস্যরা ঢাকায় এসে টহল দিচ্ছে। ভিডিওতে বাংলাদেশের আইনজীবী নিঝুম মজুমদার দাবি করেন, (৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড থেকে), ঢাকার রাস্তাতে এই ধরনের পাকিস্তানি আর্মিরা এসে সোয়াতের ছদ্মবেশে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ছেলেরা বা পাকিস্তানি সৈন্যরা এসে বাংলাদেশের রাস্তায় নেমে মহড়া দিচ্ছে, এটা আমার কাছে নজিরবিহীন মনে হয়েছে।  একই ভিডিওর আরেকটি অংশে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জঙ্গি সরদার বলে দাবি করেন নিঝুম মজুমদার। তিনি জানান, সেনাপ্রধানের শেরপুরের গ্রামের বাড়িতে তিনি খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন যে জেনারেল ওয়াকার ছাত্রজীবনে ক্যাডেট কলেজে পড়তেন। তিনি সে সময় শিবিরের সাথী ছিলেন। তবে এই ভিডিও সংবাদ সঠিক নয় বলে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। রিউমর স্ক্যানার টিম অনুসন্ধান করে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর টহলের কোনো দৃশ্য নয়। বরং, ভিডিওটিতে যে বাহিনীর সদস্যদের দেখা যাচ্ছে তারা বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটির সদস্য। এই সদস্যরা গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রদানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রিউমর স্ক্যানার জানায়, ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল দেওয়ার দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার টিম ভিডিওতে থাকা একজন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের পোশাকের পেছনে CRT লেখা দেখতে পায়। পাশাপাশি আরেকজন সদস্যের পোশাকে বাংলাদেশের পতাকাও দেখতে পাওয়া যায়। এসবের সূত্রে National Dialogue Bangla (NDB) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ ডিসেম্বর এই সেই বাংলাদেশ CRT (Crisis Response Team) শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি শর্টস ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। রিউমর স্ক্যানার আরও জানায়, ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে এর হুবহু মিল রয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওর শিরোনাম থেকে জানা যায়, ভিডিওটি রাজশাহী আদালত প্রাঙ্গণে ধারণ করা হয়েছে এবং ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া বাহিনীর নাম Crisis Response Team বা CRT। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগোনিউজ২৪-এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৩ ডিসেম্বর প্রিজন ভ্যান ঘিরে উত্তেজনা- ডিম হামলার শিকার হন সাবেক এমপি আসাদ। মূলত সেই ঘটনার ভিডিও নিয়ে এডিট করে অপপ্রচার চালায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। মূল ভিডিওতে Jago News শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদকে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ নেওয়ার সময় তার প্রিজন ভ্যানে হামলা করে বিএনপি-জামায়াতের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ সময় তাকে নিরাপত্তা প্রদানকারী বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর বাহিনীর পোশাকের হুবহু মিল রয়েছে। তাদের পোশাকের পেছনেও CRT লেখা রয়েছে। পরে CRT এর বিষয়ে অনুসন্ধানে জাগোনিউজ২৪-এর ওয়েবসাইটে ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, CRT বা Crisis Response Team হলো বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত দল। দলটি জঙ্গি দমন ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধসহ বড় ধরনের সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করে।  এ ছাড়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর পর সিলেটে আনুষ্ঠানিক মহড়ার মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু করে পুলিশের এই বিশেষায়িত দলটি। অর্থাৎ পুলিশের বিশেষায়িত দল ক্রাইসিস রেসপন্স টিম বা সিআরটিকে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এদিকে, আইনজীবী নিঝুম মজুমদার আজতক বাংলায় সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বিষয়ে যেসব অভিযোগ করেছেন, তার বিপরীতে তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাটি। গত জুনে জেনারেল ওয়াকার সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার খবর দিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ওয়েবসাইটে তার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হয়। এই জীবনী পর্যালোচনা করে তার ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনার কোনো তথ্য মেলেনি, যা নিঝুম মজুমদার দাবি করছেন। এ বিষয়ে জানতে আইএসপিআর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা রিউমর স্ক্যানারকে জানায়, জেনারেল ওয়াকার কখনও ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করেননি। সুতরাং বাংলাদেশে পাকিস্তানের বাহিনী টহল দিচ্ছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা যেমন মিথ্যা তেমনি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে আইনজীবী নিঝুম মজুমদারের অভিযোগও সত্য নয়। আরটিভি/কেএইচ
ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর টহল নিয়ে যা জানাল রিউমর স্ক্যানার
প্রধান বিচারপতি / নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নতুন বছরে দেশের বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ হতে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে।  মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তার ঘোষিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে ২০২৫ সাল হবে বিচার বিভাগের জন্য নবযাত্রার একটি বছর। ২০২৫ সালেই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণরূপে প্রভাবমুক্ত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে এবং রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন অঙ্গ হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য ২১ সেপ্টেম্বর রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কাউন্সিল গঠন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্গঠিত হয়েছে এবং এর কার্যক্রম চলমান আছে।  এ ছাড়া বিচারসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে নানামুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কোম্পানি-সংক্রান্ত একটি বেঞ্চে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হবে।  পর্যায়ক্রমে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বেঞ্চে কাগজমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন জেলা আদালতগুলোতে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান বিচারপতি।  আরটিভি/একে/এআর
নতুন বছরে বিচার বিভাগ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ভর্তি পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা এই সিদ্ধান্ত অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/একে/এআর
সব কোচিং সেন্টার ২২ দিন বন্ধ
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
থার্টি ফার্স্ট নাইটে দুর্ঘটনারোধে বাসাবাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্তস্থান, পার্কে আতশবাজি, পটকা ফোটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার রাজধানীর বাসা-বাড়ির ছাদ ও সব ভবন, উন্মুক্ত স্থান, পার্কে আতশবাজি ও পটকা ফুটানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। জনসমাগম ও আতশবাজি ঠেকাতে ওই দিন রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারির মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ উজ্জামান এ রিট দায়ের করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ঢাকার পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা যে কোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাবে। আরটিভি/এফএ/এআর
আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
সারাদেশের সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় কমানো হয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিএনজি স্টেশনে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সময়কাল ২ ঘণ্টা কমিয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হলো। গ্যাসের সংকট থাকা সত্ত্বেও গ্যাসের রেশনিং কেন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, সিএনজি স্টেশনগুলোর মালিকদের অনুরোধ এবং সিএনজিচালকদের আন্দোলন-ধর্মঘটকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরটিভি/একে/এআর
সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকার সময় কমলো
আরও পড়ুন
র‍্যাবের পোশাক পরে সাড়ে ২৮ লাখ টাকা লুট
টোলপ্লাজায় ৬ জন নিহতের ঘটনায় এবার বাস মালিক গ্রেপ্তার
তিন গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে যেভাবে পালিয়ে যান চালক
বাসের ব্রেকে সমস্যা ছিল, চালক নেশা করতেন: র‍্যাব