ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ধনী রাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতা ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বেশি: গবেষণা

শাবিপ্রবি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে স্থূলতা, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে স্থূলতার সম্পর্ক নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেখানে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্টেপস্ (STEPS) জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং এতে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার গড় প্রাদুর্ভাব প্রায় ৩৭ শতাংশ। তবে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এই হার উদ্বেগজনকভাবে ৬০ শতাংশেরও বেশি, যেখানে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে তুলনামূলকভাবে কম।

গবেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে, যা অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার ঝুঁকি প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এটি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব স্থূলতার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, আমেরিকান সামোয়া স্থূলতার সর্বাধিক হারের (৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ) দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে, যেখানে উত্তর কোরিয়ায় স্থূলতার হার সবচেয়ে কম (৪ দশমিক ৪ শতাংশ)। অর্থনৈতিক অবস্থার পার্থক্যই এই বৈষম্যের মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে সুলভ ও উচ্চ-ক্যালোরি খাবারের সহজলভ্যতা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও স্থূলতার সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতাও লক্ষণীয়।

জনস্বাস্থ্য গবেষক মোহাম্মদ মেসবাহউর রহমান বলেন, স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল স্থূলতা বৃদ্ধি নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যদি সঠিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

গবেষণাপত্রটি দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অব ওভারওয়েট-ওবেসিটি অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েশন উইথ ইকোনমিক স্ট্যাটাস, বেনিফিটিং ফ্রম ‘স্টেপস’ সার্ভে অব ডব্লিউএইচও মেম্বার স্টেটস: অ্যা মেটা অ্যানালাইসিস শিরোনামে ‘প্রিভেন্টিভ মেডিসিন্স রিপোর্ট’- এ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

মোহাম্মদ মেসবাহউর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন নিপসমের শিক্ষক ডাক্তার শামসুল ইসলাম, ডাক্তার হাফিজা সুলতানা, ডাক্তার নাজমুল হাসান রিফাত এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক জাকি ফারহানা।

আরটিভি/এমকে/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ
দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি।  পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে দেখে নিন বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েটের পরীক্ষার দিনক্ষণ: আরটিভি/এমএ/এস  
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে ৭৬ দিন বন্ধ থাকবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বাৎসরিক ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মিরাজুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২ মার্চ থেকে পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হবে। ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা, স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে টানা ২৮ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এরপর ৮ এপ্রিল পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশেও টানা ১৪ দিন স্কুল ছুটি থাকবে। এ ছুটি শুরু হবে ৩ জুন, চলবে ২২ জুন পর্যন্ত। দুর্গাপূজায় এবার ৭ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। অবশ্য এ ছুটির মধ্যে লক্ষ্মীপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দহমসহ বেশ কয়েকটি ছুটি পড়বে। এদিকে, বরাবরের মতো এবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে সংরক্ষিত তিনদিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নিয়ম মেনে ছুটি থাকবে। আরটিভি/এসএপি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবো। বৈঠক চলমান রয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দিনের মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এর আগে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে। সংগঠনের নেতারা ঘোষণাপত্রে দুটি মৌলিক বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। তাতে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘মুজিববাদী সংবিধান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর ‘কবর’ রচনা করা এবং ‘নাৎসিবাদী আওয়ামী লীগকে’ বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করার কথা থাকবে। আরটিভি/কেএইচ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
ফের ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, আরও ১৬৮ প্রার্থী বাদ
৪৩তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য গত ১৫ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন করে আবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েছেন আরও ১৬৮ জন প্রার্থী। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। এসব প্রার্থীকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যোগ দিতে হবে। এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর ৪৩তম বিসিএসের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাতে ২ হাজার ৬৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে নতুন প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়লেন ১৬৮ জন। বাদ পড়া ১৬৮ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ২৬ , পররাষ্ট্র ক্যাডারের ৩ এবং পুলিশের ৮ জন বাদ পড়েছেন। প্রসঙ্গত, ৪৩তম বিসিএস থেকে ২ হাজার ১৬৩ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন। সুপারিশের দীর্ঘ ১০ মাস পর ১৫ অক্টোবর যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল সেখানে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েছিলেন ৯৯ জন। সব মিলিয়ে ৪৩তম বিসিএস থেকে বাদ পড়লেন মোট ২৬৭ জন। আরটিভি/কেএইচ
ফের ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, আরও ১৬৮ প্রার্থী বাদ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) মো. শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ’ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটি আগামী চার মাসের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর)  সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আর সদস্য হিসেবে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, ইউজিসির ওপরে এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। তা ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে সংযোজন করতে পারবে। প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। রাজধানীর এই সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।  এর ফলে এসব কলেজে ভর্তি পরীক্ষা, পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অবশেষে ৬ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেন।  আরটিভি/কেএইচ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
আরও পড়ুন
বন্য খেজুর থেকে ভিনেগার উৎপাদনে সফল বাকৃবির গবেষক দল
মৃত মানুষকে জীবিত করতে যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা!
জানালা বন্ধ রাখলে ঘরের দূষণ ৬৮ শতাংশ বন্ধ করা যায়: গবেষণা
গবেষণা-প্রবন্ধ রচনায় মাসে ৩০ হাজার টাকা বৃত্তি দেবে বাংলা একাডেমি