ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর হ-য-ব-র-ল 

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৩৯ পিএম
ছবি : আরটিভি

জনসংযোগ দপ্তর কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জানালাস্বরূপ। যে জানালা দিয়ে শুধু আলোর বিকরণ খেলা করবে তা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাইরে, জনমানুষের সাথে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড দিয়ে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ইমেজ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধিতেও কাজ করে জনসংযোগের জানালা। কিন্তু এই চিরায়ত কথাগুলোর উজ্জ্বল ব্যতিক্রম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর রয়ে গেছে তিমিরেই। গৎবাঁধা প্রেস রিলিজ ও নামকাওয়াস্তে প্রকাশনার মধ্যে আটকে আছে দপ্তরের কর্মকাণ্ড। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেই কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা। এই দপ্তরের সৃজনশীলতার অভাব যেমন স্পষ্ট তেমনি প্রশাসনের অবহেলার চিত্রও লক্ষনীয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ১৫-১৬ ফিটের একটি কাচের ঘর নিয়ে দপ্তরটিতে গাদাগাদি করে বসেন এই দপ্তরের কর্মকর্তারা। এলোমেলো অগোছালো প্রকাশনা ছড়িয়ে ছিটয়ে আছে মেঝেতে। ছোট্ট এই দপ্তর কক্ষের চারিদিক যেন হ-য-ব-র-ল।

দপ্তর কক্ষের বেহাল দশা

প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় সিঁড়ির ঠিক সামনেই একটা দুই কপাটের বিশাল দরজা। চোকাঠের উপরে লেখা রেজিস্ট্রার দপ্তর। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেই দেখা যায় কাচঘেরা ছোট ছোট ৮টি আয়না ঘর। এরমধ্যে সাতটি রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যবহার করেন। যার যার ঘরের সামনে রেজিস্ট্রার অফিসের সেসব কর্মকর্তার নামফলক রয়েছে। তবে ঢুকেই হাতের বাদিকের প্রথম ঘরটাই হলো জনসংযোগ দপ্তর।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫-১৬ ফিটের কাচের ঘরে নেই কোনো জানালা। বিদ্যুৎ চলে গেলে নেমে আসে কবরের ঘুটঘুটে অন্ধকার। কাচের দরজা স্লাইড করে দপ্তরে প্রবেশ করতে হয়। দুটো বিশাল স্টিলের আলমাড়ি, তিনটি ফাইল কেবিনেট, একটি বৃহৎ বুকসেল্ফ ও একটি শিকল জড়ানো ফ্রিজ। ভিসি অফিসের আপ্যায়নের খাবার থাকে ফ্রিজে। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রতিদিনের জমানো পত্রিকা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও ফাইল। তার ওপরে ধুলের আস্তর কয়েক স্তরে জমা পড়ে আছে। এরই মধ্যে তিনটি ঢাউস টেবিলে এই দপ্তরের তিন কর্মকর্তার বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অফিস টেবিলের সামনে ছোট দুটি ময়লা চেয়ারও আছে। দপ্তরে কোনো অতিথি কিংবা সাংবাদিকরা এলে এখানেই বসেন। মাথার ওপরে খটখট শব্দে ঘুরছে দুটি সিলিং ফ্যান।

এ সময় দপ্তরে কর্মরত জনসংযোগ তথ্য ও প্রকাশনা কর্মকর্তা মো. রেজাউদ্দৌলাহ প্রধানের কাছে দপ্তরের অস্বাস্থ্যকর ও রুচিহীন পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বরং দপ্তর প্রধান ও প্রশাসনের কাছে জানার জন্য পরামর্শ দেন।

তীব্র জনবল ও আসন সংকট

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের অর্গানোগ্রামে সাতটি পদের অনুমোদন থাকলেও নিয়োগ পেয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এর মধ্যে দপ্তরে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিন জন। বাকি দুজনকে নিয়োগের পরপরই বদলি করা হয়েছে অন্যত্র। অফিস সহায়ক কাম ডাটা প্রসেসর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত রাজিবুল হাসান রাজিবকে সাবেক উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখরের প্রশাসন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বদলি করেন। আর পিওন পদে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাকে দপ্তরের কেউ কোনদিন চোখের দেখাও দেখেতে পাননি। এসব বদলির নির্দেশ উপাচার্যের অনুমোদনে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষর করে থাকেন।

বদলিসংক্রান্ত এসব বিষয়ে প্রশাসনিক অবহেলা ও ব্যক্তিগত কারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার ড. মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এগুলো উপাচার্যের নির্দেশক্রমে বা অনুমোদনক্রমে করা হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রারের ইচ্ছায় বা স্বার্থে এগুলো করার সুযোগ থাকে না।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, কোনো দপ্তরে তীব্র জনবল সংকট থাকার পর নিয়োগ দিয়েও যদি সেই জনবল বদলি করে দেওয়া হয়, তাতে প্রমাণ হয় যে ওই দপ্তরকে প্রশাসন কতটা অবহেলা করেছে।

জনবল সংকটের পাশাপাশি এখানে আসনও সংকটও তীব্র। একটি মাত্র দপ্তর কক্ষে বর্তমানে সকল কর্মকর্তার বসার ব্যবস্থাও করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি দপ্তরটি ঘুরে দেখা যায়, অতিথির ছোট চেয়ারে বসে পত্রিকা পড়ছেন দপ্তরটির অতিরিক্ত পরিচালক এস এম হাফিজুর রহমান। তিনি মূলত ২০১১ সালে জনসংযোগ তথ্য ও প্রকাশনা পদে ভিসি অফিসে যোগদান করেছিলেন। এরপর তিনি সাবেক উপাচার্য এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের সময় থেকে চলতি মাস অব্দি পিএস টু ভাইস-চ্যান্সেলর পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। ভিসি দপ্তরের সাজানো গোছানো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পিএস কক্ষে বসেই কাজ করতেন তিনি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর তার সে স্বাচ্ছন্দময় জীবনেও ছেদ পড়েছে, হঠাৎ ছন্দপতনে তিনি আছেন বেকায়দায়। দীর্ঘদিন পরে তাই প্রশাসনের কাছে পিএস এর দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত চেয়ে ফিরেছেন তার আদি দপ্তরে। কিন্তু তিনি ফিরে এলেও দপ্তরে তার বসার ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন। অনেকটা নিরুপায় হয়ে দপ্তরে রাখা অতিথির আসনে বসেই অফিস করছেন তিনি।

আসন সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, জনবল, অবকাঠামো ও বিভিন্ন ইকুইপমেন্টের অভাব আমাদের রয়েছে। কোনো সময়ই আমাদের ওপর সুদৃষ্টি পাইনি। নিজেরা ঠিকমতো বসতে যেমন পারছি না, অতিথিরা এলে ভোগান্তি আরও বাড়ে। এই দপ্তরের কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক প্রডাক্টিভিটি আনার সুযোগ আছে। তবে বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে থাকায় কাজ করতে আমাদের অসুবিধা হয়।

পরিচালক পদ খালি ৭ বছর

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু ২০০৬ সালে। চারটি বিভাগ ও কয়েকটি দপ্তর নিয়ে শুরু হয় এই বিদ্যায়তনের পথচলা। এই পথচলায় জনসংযোগ দপ্তর সৃষ্টি হয় ২০১৬-১৭ সালের প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে। সেই অর্গানোগ্রাম অনুসারে দপ্তরটির জন্য ৭টি পদ তৈরি করা হয়। বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মধ্যদিয়ে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা অফিসার পদে একজন, জনসংযোগ কর্মকর্তা পদে একজন, ফটোগ্রাফার পদে একজন, অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে একজন, পিওন পদে একজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এখনও অর্গানোগ্রামে থাকা উপপরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক ও পরিচালক পদ দীর্ঘসময় ধরেই শূন্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সকল দপ্তর যেখানে পরিচালক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সেখানে জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক পদে নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। পরিচালকহীন এই দপ্তর যেন মাঝিহীন নৌকার মতো দিগবিদিক ভাসছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিসান বলেন, সাংবাদিকরা মূলত তাদের কাজের জন্য জনসংযোগ দপ্তরের দিকে মুখাপেক্ষী। অথচ দপ্তরটি আপডেটেড না। বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সংকট ও সমস্যায় জর্জরিত দপ্তরটি। অন্য দপ্তরগুলোতে যেভাবে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক কিংবা শিক্ষকদের অতিরিক্ত/ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব প্রদানের মধ্যদিয়ে দপ্তরকে সচল ও গতিশীল করে রাখা হয়েছে, এখানেও সেভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, জনসংযোগ দপ্তরকে গতিশীলভাবে পরিচালনার জন্য আরও জনবল প্রয়োজন। এছাড়া যেসব জনবল নিয়োগ দিয়ে বদলি করা হয়েছে তাদের বিকল্পও এই দপ্তরে ফিরিয়ে না দিলে দপ্তর সবল হতে পারবে না।

জনসংযোগ দপ্তরের হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি নিয়ে জানতে পাইলে বিশ্বিবদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম আরটিভি নিউজকে বলেন, এই দপ্তরের বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। কীভাবে এখানে আরও গতিশীলতা আনা যায় এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।

আরটিভি/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ
দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি।  পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে দেখে নিন বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েটের পরীক্ষার দিনক্ষণ: আরটিভি/এমএ/এস  
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে ৭৬ দিন বন্ধ থাকবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বাৎসরিক ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মিরাজুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২ মার্চ থেকে পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হবে। ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা, স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে টানা ২৮ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এরপর ৮ এপ্রিল পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশেও টানা ১৪ দিন স্কুল ছুটি থাকবে। এ ছুটি শুরু হবে ৩ জুন, চলবে ২২ জুন পর্যন্ত। দুর্গাপূজায় এবার ৭ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। অবশ্য এ ছুটির মধ্যে লক্ষ্মীপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দহমসহ বেশ কয়েকটি ছুটি পড়বে। এদিকে, বরাবরের মতো এবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে সংরক্ষিত তিনদিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নিয়ম মেনে ছুটি থাকবে। আরটিভি/এসএপি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবো। বৈঠক চলমান রয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দিনের মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এর আগে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে। সংগঠনের নেতারা ঘোষণাপত্রে দুটি মৌলিক বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। তাতে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘মুজিববাদী সংবিধান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর ‘কবর’ রচনা করা এবং ‘নাৎসিবাদী আওয়ামী লীগকে’ বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করার কথা থাকবে। আরটিভি/কেএইচ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
ফের ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, আরও ১৬৮ প্রার্থী বাদ
৪৩তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য গত ১৫ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন করে আবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েছেন আরও ১৬৮ জন প্রার্থী। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। এসব প্রার্থীকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যোগ দিতে হবে। এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর ৪৩তম বিসিএসের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাতে ২ হাজার ৬৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে নতুন প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়লেন ১৬৮ জন। বাদ পড়া ১৬৮ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ২৬ , পররাষ্ট্র ক্যাডারের ৩ এবং পুলিশের ৮ জন বাদ পড়েছেন। প্রসঙ্গত, ৪৩তম বিসিএস থেকে ২ হাজার ১৬৩ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন। সুপারিশের দীর্ঘ ১০ মাস পর ১৫ অক্টোবর যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল সেখানে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েছিলেন ৯৯ জন। সব মিলিয়ে ৪৩তম বিসিএস থেকে বাদ পড়লেন মোট ২৬৭ জন। আরটিভি/কেএইচ
ফের ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, আরও ১৬৮ প্রার্থী বাদ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) মো. শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ’ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটি আগামী চার মাসের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর)  সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আর সদস্য হিসেবে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, ইউজিসির ওপরে এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। তা ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে সংযোজন করতে পারবে। প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। রাজধানীর এই সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।  এর ফলে এসব কলেজে ভর্তি পরীক্ষা, পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অবশেষে ৬ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেন।  আরটিভি/কেএইচ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
আরও পড়ুন
৪৭তম বিসিএসের আবেদন শুরু ২৯ ডিসেম্বর, বাড়ল সময়
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পোস্টারিং 
নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী তুরস্ক
পদত্যাগ করলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য