ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ ৮ দফা দাবি নোবিপ্রবি ছাত্রদলের 

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৫৫ পিএম
ছবি : আরটিভি

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ ৮দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং সংবাদ সম্মেলন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদল।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা সংবাদ সম্মেলন করেন।

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের বর্তমান সদস্য সচিব সাহারাজ উদ্দীন জিহানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী জাহিদ হাসান। এ ছাড়াও এ সময় ছাত্রদলকর্মী সাব্বির হোসাইন শান্তসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ হাসান বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আপনি (উপাচার্য) ও প্রশাসন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন, তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে নোবিপ্রবিতে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

আমরা লক্ষ্য করছি যে, প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকায় ক্যাম্পাসে ‘অপরাজনীতি’ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং খেলাধুলা, ক্লাব ও মানবিক কার্যক্রমের আড়ালে ছাত্রলীগের পুনর্বাসনের মতো ঘটনাগুলো আমাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও ছাত্ররাজনীতি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুষ্ঠু ছাত্ররাজনীতি তরুণদের সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলে। তদুপরি, নিষিদ্ধের পরিবর্তে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সংস্কারমূলক, ইতিবাচক এবং ইনক্লুসিভ ছাত্ররাজনীতি পরিচালিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ আরো উন্নত হবে বলে বিশ্বাস করি। আমরা "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল" নোবিপ্রবি শাখার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ৮ দফা দাবি জানাই।

দাবিগুলো হলো- ছাত্র রাজনীতি পুনর্বহাল, গণতান্ত্রিক রিজেন্ট বোর্ড গঠন, দোসর ও অবৈধ নিয়োগ মুক্ত ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সেবার উন্নয়ন, মেয়েদের হল রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে এবং প্রতিটি হলে ভর্তুকি সংযুক্ত ডাইনিং চালু করতে হবে, শিক্ষার্থীদের বসার স্থান, প্রযুক্তি ও আলোকসজ্জা, সৌন্দর্য রক্ষা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল ধরনের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক প্রচারণা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রিজেন্ট বোর্ড। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আরটিভি/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ
দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি।  পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে দেখে নিন বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েটের পরীক্ষার দিনক্ষণ: আরটিভি/এমএ/এস  
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে ৭৬ দিন বন্ধ থাকবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বাৎসরিক ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মিরাজুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২ মার্চ থেকে পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হবে। ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা, স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে টানা ২৮ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এরপর ৮ এপ্রিল পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশেও টানা ১৪ দিন স্কুল ছুটি থাকবে। এ ছুটি শুরু হবে ৩ জুন, চলবে ২২ জুন পর্যন্ত। দুর্গাপূজায় এবার ৭ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। অবশ্য এ ছুটির মধ্যে লক্ষ্মীপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দহমসহ বেশ কয়েকটি ছুটি পড়বে। এদিকে, বরাবরের মতো এবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে সংরক্ষিত তিনদিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নিয়ম মেনে ছুটি থাকবে। আরটিভি/এসএপি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবো। বৈঠক চলমান রয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দিনের মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এর আগে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে। সংগঠনের নেতারা ঘোষণাপত্রে দুটি মৌলিক বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। তাতে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘মুজিববাদী সংবিধান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর ‘কবর’ রচনা করা এবং ‘নাৎসিবাদী আওয়ামী লীগকে’ বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করার কথা থাকবে। আরটিভি/কেএইচ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
ফের ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, আরও ১৬৮ প্রার্থী বাদ
৪৩তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য গত ১৫ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন করে আবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েছেন আরও ১৬৮ জন প্রার্থী। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। এসব প্রার্থীকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যোগ দিতে হবে। এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর ৪৩তম বিসিএসের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাতে ২ হাজার ৬৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে নতুন প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়লেন ১৬৮ জন। বাদ পড়া ১৬৮ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ২৬ , পররাষ্ট্র ক্যাডারের ৩ এবং পুলিশের ৮ জন বাদ পড়েছেন। প্রসঙ্গত, ৪৩তম বিসিএস থেকে ২ হাজার ১৬৩ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন। সুপারিশের দীর্ঘ ১০ মাস পর ১৫ অক্টোবর যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল সেখানে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েছিলেন ৯৯ জন। সব মিলিয়ে ৪৩তম বিসিএস থেকে বাদ পড়লেন মোট ২৬৭ জন। আরটিভি/কেএইচ
ফের ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, আরও ১৬৮ প্রার্থী বাদ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) মো. শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ’ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটি আগামী চার মাসের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর)  সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আর সদস্য হিসেবে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, ইউজিসির ওপরে এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। তা ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে সংযোজন করতে পারবে। প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। রাজধানীর এই সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।  এর ফলে এসব কলেজে ভর্তি পরীক্ষা, পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অবশেষে ৬ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেন।  আরটিভি/কেএইচ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
আরও পড়ুন
প্রকাশ্যে ছাত্রদল নেতাকে কোপালো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতারা
ছাত্রদল সভাপতি রাকিব ও সাবেক শিবির নেতা গালিব ব্যাচমেট নন : রিউমর স্ক্যানার
ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দুই দিনের কর্মসূচি
ছাত্রদলের দুপক্ষের শোডাউনে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন