ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

স্কুলে সংস্কৃতিচর্চা হলে দেশে উগ্রবাদ থাকবে না: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ছবি: বাসস

স্কুল পর্যায়ে সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত করা গেলে দেশে উগ্রবাদের স্থান থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা কারিকুলামে (পাঠ্যক্রম) সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা বিকাশে সহায়ক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড-কে পাঠ্যক্রমে আরও বিস্তৃত ও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, সংগীত, নাটক, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ হয়। এতে তাদের মধ্যে দলগত চেতনা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। ফলে উগ্র চিন্তার প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক প্রজন্ম গঠনের কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই শিক্ষার্থীদের জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। সেই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক দলের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, একটি সুস্থ, সৃজনশীল ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড-র কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মাঝে সংস্কৃতিচর্চা আরও বিস্তৃত ও বিকশিত করতে আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছি। নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে এসব কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
তুমুল মারামারিতে রণক্ষেত্র নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালে ভর্তি ৬
টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে অন্য গ্রুপের বল সীমানায় আসার সূত্র ধরে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে ছয় শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তুমুল মারামারিতে রণক্ষেত্র নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতালে ভর্তি ৬
রাবিতে ঢুকে শিক্ষার্থীর মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) রাতে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুই ব্যক্তি। 
রাবিতে ঢুকে শিক্ষার্থীর মোবাইল টান দিয়ে নিয়ে গেল ছিনতাইকারী
‘স্কুলবাসের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছেলে, গলায় ঝুলছে আইডি কার্ড’
রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি শাখার ক্যাম্পাসে বাসচাপায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সায়ন (৮) নিহতের ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তার বাবা সাজু আহমেদ সেলিম। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চান না বলে জানিয়েছেন নিহত শিশুটির বাবা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে সায়নের মরদেহ নিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত থেকে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পৌঁছান স্বজনরা। পরে সকাল ৯টার দিকে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্কুল ক্যাম্পাসে বাসচাপায় প্রাণ হারায় শিশু সায়ন। সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি শাখার দ্বিতীয় শ্রেণির ‘সি’ শাখার শিক্ষার্থী ছিল। সায়নের বাবা সাজু আহমেদ সেলিম ঢাকার খিলক্ষেতের বটতলা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার স্ত্রী শারমিন খাতুন গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে সায়ন ছিল বড়। ছোট মেয়ে শাহরিনের বয়স চার বছর। নিহত সায়নের চাচা সোহেল রানা জানান, আগামী ১২ নভেম্বর সায়নের নবম জন্মদিন উদ্‌যাপনের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশুটিকে হারিয়ে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘সবাই খুব ভেঙে পড়েছে। সায়নের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। বাসচালকের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ ছেলের মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বাবা সাজু আহমেদ সেলিম বলেন, প্রতিদিন বেলা ৩টায় সায়নের ক্লাস শেষ হতো। এরপর ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে স্কুলবাস ছাড়ত। দুর্ঘটনার সময় তিনি ধানমন্ডিতে নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্কুল থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে আমাকে ফোন দিয়ে দ্রুত স্কুলে যেতে বলা হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে ৪০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে যা দেখলাম, তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বাসের নিচে আমার ছেলে সায়ন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্কুলড্রেস পরা, গলায় আইডি কার্ড ঝুলানো। আমার দুনিয়া যেন অন্ধকার হয়ে গেল।’ সাজু আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তিনি ছেলের মরদেহ বুঝে নেন। পরে স্কুলব্যাগ ও স্কুলড্রেসও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, পরে স্কুলের অধ্যক্ষের সহায়তায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। তার দাবি, ফুটেজে একটি বাসকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেখা যায়। ওই বাসে কোনো সহকারী ছিলেন না। এ সময় তার ছেলে হয়তো খেলাধুলা করছিল। বাসটি বাম দিকে বাঁক নেওয়ার সময় সায়ন বাম পাশের চাকার নিচে চাপা পড়ে। সাজু আহমেদ সেলিম বলেন, ‘এত বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ২০টি বাস এবং কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সেখানে এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। ক্যাম্পাসের ভেতরে চালক বাস চালাচ্ছেন, অথচ তার সঙ্গে কোনো হেলপার বা সহকারী নেই। হাজারো শিশুর উপস্থিতিতে চালক কীভাবে সতর্কতা ছাড়া বাস চালান? এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বাসচালকের গাফিলতি রয়েছে।’ ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য সন্তানের মরদেহ কাটাছেঁড়া করা, মামলা পরিচালনার ঝামেলা, চাকরির ব্যস্ততা ও সময়ের অভাব সব মিলিয়ে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জড়াতে চান না। দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতিও তার আস্থা নেই বলে জানান তিনি। সাজু আহমেদ বলেন, ‘তাই লিখিত দিয়ে সন্তানের মরদেহ নিয়ে এসেছি। তবে ওই লিখিতপত্রে দাবি জানিয়েছি, এ ঘটনা তদন্ত করে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যেন স্কুল কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’ সন্তান হারানোর শোকের মধ্যেও সায়নের মৃত্যুর ঘটনায় যথাযথ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আরটিভি/এসকে
‘স্কুলবাসের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছেলে, গলায় ঝুলছে আইডি কার্ড’
বিশ্ব ছাত্র দিবস আজ: শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়
শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষার সুযোগ ও মানোন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরার দিন বিশ্ব ছাত্র দিবস আজ (১৫ অক্টোবর)।
বিশ্ব ছাত্র দিবস আজ: শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়
‘মারামারির ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু’, আরটিভির সাংবাদিককে হুমকি
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের মারামারির ভিডিও ধারণ করায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) আরটিভির সংবাদদাতা আবু তাহেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
‘মারামারির ভিডিও পোস্ট হইলেই তোর খবর আছে, তোরে ধরমু’, আরটিভির সাংবাদিককে হুমকি
আরও পড়ুন
‘স্কুলবাসের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছেলে, গলায় ঝুলছে আইডি কার্ড’
হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার কুমিল্লার ৪ স্কুলছাত্রী, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে
ব্লুমিং সান স্কুলে শরৎ উৎসবের আয়োজন