ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

স্কুল ফিডিংয়ে বাড়ছে খুদে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ এএম
শিক্ষার্থীরা খাবার হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে ১০টা। আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক (২)-এর শ্রেণিকক্ষ। খুদে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়ে বসে আছে। এখন তাদের টিফিন ছুটি। টিফিনের অপেক্ষায় মায়াভরা মুখগুলোতে ফুটে উঠেছে উচ্ছ্বাসের ছাপ। ঘণ্টা বাজতেই টিফিন নিয়ে হাজির বিদ্যালয়ের সহকারী সোহরাব হোসেন। একে একে প্রত্যেকের হাতে তুলে দিলেন দুটি করে বনরুটি ও একটি করে সেদ্ধ ডিম। সবার জন্য একই খাবার। খাবার হাতে পেয়েই কেউ মেতে উঠল আনন্দে। কেউ আবার পরম তৃপ্তিতে খাওয়া শুরু করল।

টিফিনের পর্ব শেষ হতেই শুরু হলো বনরুটির খালি প্যাকেট ও ডিমের খোসা নিয়ে ছোটাছুটি। তবে এই ছোটাছুটি শ্রেণিকক্ষ নোংরা করতে নয়। বরং শ্রেণিকক্ষে রাখা ময়লার বিনে ব্যবহৃত প্যাকেট ও ডিমের খোসাগুলো সুশৃঙ্খলভাবে ফেলার জন্য। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একই নিয়মে স্কুলে খাবার পাচ্ছে তারা। সপ্তাহে পাঁচ দিনের খাদ্য তালিকায় তিন দিন দেওয়া হচ্ছে বনরুটি ও ডিম, এক দিন বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং আরেক দিন ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা। এই বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৩৬৭ জন শিক্ষার্থীই এখন নিয়মিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

শুরুতেই কথা হয় প্রাক-প্রাথমিক (২)-এর শিক্ষার্থী রুমাইসা চৌধুরী ঈসালের সঙ্গে। টিফিনের খাবার কেমন লাগে— জানতে চাইতেই মিষ্টি হেসে মাথা নেড়ে জানায়, তার বেশ ভালো লাগে। তবে খাবারের মধ্যে দুধ, বিস্কুট ও কলা তার সবচেয়ে পছন্দ। টিফিনের সময়টা তার কাছে বেশ আনন্দের। ছোট্ট ঈসাল বলে, ‘বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাবার খেতে আমার খুব ভালো লাগে।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের আট বিভাগের ১৫০টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে চলছে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম। চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩টি উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন স্কুল চলাকালীন পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

২০২৬ সালের ২৯ মার্চ থেকে চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে শুধু আনোয়ারা উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এখন নিয়মিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে।

কর্মসূচির শুরুতে স্বদেশপল্লী নামে একটি বেসরকারি সরবরাহকারী সংস্থা বনরুটি, কলা ও সেদ্ধ ডিম সরবরাহের মাধ্যমে এ উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে স্বদেশপল্লীর পাশাপাশি প্যারাগণ ইউএইচটি দুধ এবং প্রাণ কোম্পানি ফর্টিফাইড বিস্কুট সরবরাহ করছে। পুরো কার্যক্রম তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি ‘মাদার্স কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে তিনজন মা, একজন অভিভাবক সদস্য (বাবা) এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রয়েছেন। কমিটির সদস্যরা প্রতিদিন সরবরাহকারীর কাছ থেকে খাবার বুঝে নেওয়ার সময় এর মান ও পরিমাণ পরীক্ষা করেন। খাবারে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন করে নেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর বিদ্যালয়গুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে কর্মজীবী মায়েদের ব্যস্ততা ও অনেক পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিশু খালি পেটে স্কুলে আসতো। এতে ক্লাসে তাদের মনোযোগ কম থাকত। এখন স্কুলেই খাবার পাওয়ায় শিশুরা ক্লাসে বেশি মনোযোগী ও উৎফুল্ল থাকছে।

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে চলে যেত। স্কুল ফিডিং চালুর পর এ প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। এখন তারা সারিবদ্ধভাবে খাবার গ্রহণ করছে এবং খাওয়ার পর প্যাকেট, কলার খোসাসহ উচ্ছিষ্ট নির্ধারিত ময়লার বিনে ফেলছে। এতে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে উঠছে। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, সবাই একই ধরনের খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতার বোধ তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অভিভাবকদের আগ্রহও বাড়ছে।

প্রধান শিক্ষিকা রোমেনা আক্তার খানম বলেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়ে গেছে। আগে বিদ্যালয়ে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও এখন তা বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন পাশের বীরপুর এলাকার বাসিন্দা মায়েশা বিনতে অয়ন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকে, তাদের জন্য এই কর্মসূচি বেশ উপকারী। বাচ্চারা তো সবসময় বাড়ি থেকে খেয়ে স্কুলে আসে না। আগে এ নিয়ে অনেক চিন্তায় থাকতে হতো। কিন্তু এখন আমরা কিছুটা নিশ্চিন্ত। কারণ, বাচ্চা স্কুলে অভুক্ত থাকবে না।

কথা হয় আনোয়ারা সদরের বাসিন্দা ও মাদার্স কমিটির সদস্য আরজু আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, শুরুতে খাবারের মান নিয়ে কিছুটা সমস্যা হতো। বিশেষ করে কলার মান নিয়ে অভিযোগ ছিল। তবে, এখন সেই সমস্যা অনেকটাই কেটে গেছে। সরবরাহকারী প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে খাবার সরবরাহ করেন। আমরা প্রথমে খাবারের মান যাচাই করি। এরপর তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। কোনো খাবারের মান নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে তা সরবরাহকারীকে জানিয়ে পরিবর্তন করে নেওয়া হয়।

আশ্চর্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা দীপক দাশ সন্তানের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে। প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, আমাদের একটাই চাওয়া— খাবারের মানটা যেন সবসময় ভালো থাকে। শিশুরা যেন খাবার খেয়ে অসুস্থ না হয়। এ খাবার যেন তাদের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। সপ্তাহে চার দিন শিশুদের টিফিনে বনরুটি দেওয়া হচ্ছে। বনরুটির পরিবর্তে অন্য কোনো খাবার দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা উচিত। কারণ, অনেক সময় শিশুরা একই ধরনের খাবার বারবার খেতে চায় না।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমরা একটি ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ’ করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউপিইও), সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এইউপিইও), প্রধান শিক্ষক ও খাবার সরবরাহকারীরা গ্রুপে যুক্ত আছেন। এই গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই কর্মসূচির সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির সম্পৃক্ততাও ক্রমেই বাড়ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে পাইলট আকারে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চলছে। পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে আগামী জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুদের বয়সভিত্তিক দৈনিক ও সাপ্তাহিক পুষ্টির চাহিদা বিবেচনা করে গবেষণার মাধ্যমে খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে মায়েদের সম্পৃক্ততায় রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের সম্ভাব্য মডেল পরীক্ষার জন্য শিগগিরই একটি পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে।

শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও মনোযোগ বাড়ানো, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার পরিবেশে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে এই কর্মসূচি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। দেশব্যাপী এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া রোধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
দেশের উচ্চশিক্ষার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বুধবার (২১ অক্টোবর)। দিবসটি উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস ও নগর কার্যালয়ের ভবনসমূহে ব্যানার স্থাপন, বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে। পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের অবাধ প্রবেশ এবং দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও সংঘবদ্ধ হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি রোগীর স্বজনদের হুমকির মুখে একজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ পোশাকে ওয়ার্ড ত্যাগ করতে হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। এ ছাড়া হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু না থাকায় ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে সীমিত জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দাবি হলো ১. হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা। ২. কর্মরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৩. একজন রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন স্বজনের হাসপাতালে প্রবেশের নিয়ম কার্যকর করা। ৪. রোগী ভর্তির দিন ও পরবর্তী দিন সংশ্লিষ্ট সব ওয়ার্ডে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা। ৫. অনতিবিলম্বে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা। ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি জানিয়েছে, ঘোষিত কর্মবিরতির মধ্যেও দাবিগুলোর কার্যকর সমাধান না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আরটিভি/টিআর
রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা
‘বাইক চালানোর কারণে’ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তরিকুলের, অতঃপর...
শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা গেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম। তার মৃত্যুতে বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তরিকুলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায়। তিনি ঝিনাইদহ শহরের পাগলা কানাই এলাকার একটি মেসে থাকতেন। পারিবারিক ও বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, তরিকুল দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে গত কোরবানির ঈদের সময় প্যানিক অ্যাটাকের কারণে তাকে তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। সে সময় চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও মঙ্গলবার আবার একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। শারীরিক জটিলতা বেড়ে গেলে সহপাঠী ও বন্ধুরা তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। জার্নালিজম বিভাগের প্রভাষক জাকির হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে লেখেন, তরিকুলের অকালপ্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। কিছু বিদায় মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। মহান আল্লাহ তরিকুলকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। এ বিষয়ে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় বলেন, বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুলের মৃত্যুতে আমরা উদ্বিগ্ন। জানতে পেরেছি, এর আগেও তার এমন সমস্যা হয়েছিল। গতকাল বাইক চালানোর কারণে ঠান্ডা লেগে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। আজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। আরটিভি/টিআর
‘বাইক চালানোর কারণে’ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তরিকুলের, অতঃপর...
এক বছরেও শুরু হয়নি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যার বিচার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এখনো শুরু হয়নি মামলার বিচার কার্যক্রম। সন্তান হত্যার বিচার দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার বৃদ্ধ বাবা-মা।
এক বছরেও শুরু হয়নি ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যার বিচার
জবিতে জিমনেসিয়ামের জন্য জায়গা বরাদ্দ, সরঞ্জাম কিনবে জকসু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জিমনেসিয়াম স্থাপনের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচে গ্যারেজের একটি অংশে এ জিমনেসিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
জবিতে জিমনেসিয়ামের জন্য জায়গা বরাদ্দ, সরঞ্জাম কিনবে জকসু
আরও পড়ুন
স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরি করে খেলেন তিন বন্ধু, শোকজ নোটিশ পেলেন প্রধান শিক্ষক
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের একগুচ্ছ কর্মসূচি
স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে হাসপাতালে ৯ শিক্ষার্থী
আবারও স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে মিলল ধারালো ব্লেড