
অনেক বছর ধরে ১ জানুয়ারি দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বই উৎসব’ পালন করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে এবার সেই চেনা ছক ভেঙে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী- প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২৪ ডিসেম্বর নতুন পাঠ্যবই হাতে পাবে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও ডিসম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে নতুন বই দেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
একই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা নোটিশেও এ তথ্য জানানো হয়। ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম তৈফিকুর রহমানের সই করা এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জাগো নিউজের হাতে এসেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফরিদপুর জেলাধীন সব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের অবগত করা হচ্ছে যে, আগামী ২৪ ডিসেম্বর সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও একই দিনে ২০২৭ সালের নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এদিকে, আজকের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বা মূল্যায়ন থাকলে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকবেন। তাই আমরা ২৪ ডিসেম্বর বই বিতরণের চিন্তাভাবনা করছি। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্রিসমাস ও নতুন বছরের ছুটিতে যাবে। ছুটি শেষে ক্লাসে ফিরে নতুন বই ও নতুন মলাট নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবে।
কোন শ্রেণিতে পাঠ্যবই কত
এবার প্রাক-প্রাথমিকে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি পাঠ্যবই ছাপা হবে। প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চমের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপা হবে ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৮ কপি বই।
এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের ভাষায় লেখা বই প্রয়োজন এক লাখ ৪২ হাজার ৩৩২ কপি। প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মিলিয়ে মোট বই ছাপানো হবে ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি। এছাড়া ইবতেদায়ি প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি।
নিম্নমাধ্যমিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৭৭ কপি, সপ্তম শ্রেণিতে ৪ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার ৬০১ কপি, অষ্টমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৫ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।
মাধ্যমিকে নবম শ্রেণিতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি বই। এ শ্রেণির জন্য ছাপা হবে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি পাঠ্যবই। এছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বই ছাপা হবে ৯ হাজার ৪ কপি।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্যমতে, চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবার নতুন চারটি বিষয় চালু হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে নতুন যুক্ত হওয়া বিষয় দুটি হলো- খেলাধুলা ও আমাদের সংস্কৃতি। এ দুই বিষয়ের বই সংখ্যা ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮ কপি।
অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন দুই বিষয় হলো- আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা। এ দুটি বইয়ের সংখ্যা ৭১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৯০ কপি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে।
বই ছাপাতে এবার সরকারের খরচ কত
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য বই ছাপাতে মোট এক হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপাতে খরচ হবে ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬ টাকা। নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি মিলিয়ে ব্যয় হবে এক হাজার ৪২০ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।
আরটিভি/এমএম


