
বছর বছর ছাত্র সংখ্যা বাড়লেও ছেলেদের আবাসন ব্যবস্থা বাড়েনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(নোবিপ্রবি)। নতুন করে দুটি হলের কাজ অনেকদিন ধরে চললেও হল নির্মাণে জড়িত প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে চার বছরের অধিক সময়েও তা শেষ হয়নি।
বর্তমানে ছেলেদের জন্য একমাত্র আবাসিক হল ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল। হলটি ২০১১ সালে নির্মাণ করা হয়। দুই ব্লকের চার তলা বিশিষ্ট হলটিতে মোট কক্ষ রয়েছে ৯০টি। যাতে ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষের সংখ্যা ৮৭। বাকি দুইটি কক্ষের একটি প্রাধ্যক্ষ অফিস, একটি কর্মকর্তাদের অফিস আরেকটি অতিথি কক্ষ। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
ছাত্রদের জন্য ৮৭টি কক্ষে ৪ জন করে মোট আসন সংখ্যা ৩৪৮ টির বিপরীতে শিক্ষার্থী থাকছে প্রায় ৮ শতাধিক। প্রতি কক্ষে ৪ জন করে আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে কক্ষ-ভেদে থাকছেন ৬ থেকে ৮ জন করে।
এদিকে হল অফিসের তথ্য মতে, ৩৪৮টি আসনের বিপরীতে মাত্র ৩৫ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থী রয়েছে। অ-নিবন্ধিত শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বহিরাগত প্রবেশের কারণে অধিকাংশ সময় হলের শিক্ষার্থীদের মোবাইল, ল্যাপটপ, মানিব্যাগ, এমনকি রুমের ফ্যান পর্যন্ত চুরি হয়। এছাড়া বহিরাগতের মাদকসহ প্রবেশ ও গ্রহণের অভিযোগ তো আছেই।
আসন সঙ্কট, ডাইনিংয়ে অনিয়ম, রিডিংরুম সংকট, খেলাধুলার সরঞ্জামের অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, টয়লেট-বাথরুমের জঘন্য অবস্থা, হলের আশপাশে ময়লার স্তূপ ইত্যাদি মিলিয়ে অব্যবস্থাপনার চরম আখড়ায় পরিণত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের একমাত্র আবাসিক হল ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল।
বিভিন্ন বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও সমাধান না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক শিক্ষার্থী। এছাড়াও হলের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলন করলেও কোনও সমস্যার সমাধান হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী আক্তারুজ্জামান জিসান বলেন, হলে সমস্যার শেষ নেই, অনেক ধরনের সমস্যা আছে। এসব বিষয় বারবার অভিযোগ করেও যখন কোনও কিছুই হয় না তখন আর অভিযোগ করতে ইচ্ছে করে না। আমাদের হল একটি। এই হলটির দিকে যখন প্রশাসন নজর দেয় না তখন নিজেদের ভাগ্যকে দোষারোপ করা ছাড়া আমাদের কিছু করার নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সঙ্কটকে কপালের লিখন বলে মেনে নিলেও পড়াশুনা করার জন্য রিডিং রুমের স্থান সঙ্কটকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। বিশাল এই হলের রিডিংরুম রয়েছে মাত্র একটি। রিডিংরুমে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নেই পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত টেবিল। এছাড়াও রিডিংরুমে নেই পর্যাপ্ত লাইট ও ফ্যান। যা আছে সেগুলোও বিকল হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে৷
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ড এম অহিদুজ্জামান যোগদানের পর রিডিং ও ডাইনিং রুমের প্রতিটি ফ্যান ও লাইটের নতুন করে লাগিয়ে দেন। নতুন টেবিল চেয়ারের ব্যবস্থা করলেও অব্যবস্থাপনার কারণে অধিকাংশ লাইট-ফ্যানই গায়েব অথবা নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে হলের প্রতি ব্লকের জন্য আলাদা পানির ট্যাংক এর ব্যবস্থা থাকলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না এবং ট্যাংকের উপরের ঢাকনা না থাকার কারণে দিনের পর দিন এই অপরিষ্কার-অস্বাস্থ্যকর পানিই শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করেছে। এছাড়া হলের টয়লেট গুলোর অবস্থা সবচেয় বেশি খারাপ। রাস্তার পাশের পাবলিক টয়লেটের চেয়েও বেহাল দশা এখানে।
সার্বিক বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সোহেল রানা আরটিভি অনলাইনকে বলেন, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের জন্য যেহেতু হল একটা তাই এই হলের উপর চাপ বেশি। হলের সার্বিক বিষয় আমরা কর্তৃপক্ষ অনেকবার বসেছি এবং অনেকগুলো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমরা সকল বিষয়গুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি। সবগুলো সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী সঙ্কটের বিষয়ে তিনি বলেন, শিগগির আর দুইজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। আশা করি সমস্যাগুলো খুব দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।
আরসি/এসএস




