ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

অবৈধ ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসে সার্টিফিকেট বাণিজ্য হচ্ছে

ইবাইস ইউনিভার্সিটির বিষয়ে ইউজিসিকে বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জাকারিয়া লিংকনের (ভিডিও)

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৪০ পিএম

আমাদের যে দ্বন্দ্বের কথা বলা হচ্ছে তা ইউজিসি সৃষ্ট দ্বন্দ্ব। আমাদের সৃষ্ট নয়। মালিকানা দ্বন্দ্বের ধোয়া তুলে ধ্বংস করা হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইউনিভার্সিটিকে। আমার লাইসেন্স সরকার এখনো বাতিল করেনি। লাইসেন্স এর বিরুদ্ধে আদালতের কোনো আদেশ নেই, কারো পক্ষেও আদেশ নেই। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির উচিত সরকার যাকে লাইসেন্স দিয়েছে তাকে আইনগতভাবে সহযোগিতা করে বিভ্রান্তি দূর করা হয়। আরটিভি অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এই দাবি জানান ইবাইস ইউনিভার্সিটির একক উদ্যোক্তা জাকারিয়া লিংকন।

তিনি বলেন, একই বিশ্বদ্যালয়ে যদি দুটি গ্রুপ থাকে, দুই ঠিকানায় দুটি সাইন বোর্ড থাকে সেক্ষেত্রে তো অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা বিভ্রান্ত হবেই। সবার কাছেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। ছাত্রছাত্রীরা আসলে কিভাবে বুঝবে যে কে রাইট বা কে রং। তাই যেহেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয় ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসকে অবৈধ বলেছে সেটি দ্রুত বন্ধ করা হোক, কারণ সেখানে সার্টিফিকেট বাণিজ্য হচ্ছে।

এক্ষেত্রে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানাই যেন এই বিভ্রান্তির হাত থেকে এই ইউনিভার্সিটিকে রক্ষা করা হয় এবং বিষয়টি যেন ঝুলিয়ে রাখা না হয়।

মালিকানা দ্বন্দ্ব বিবেচনায় ইবাইস ইউনিভার্সিটির পক্ষে অবস্থান কী জানতে চাইলে জাকারিয়া লিংকন বলেন, আসলে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মালিকানা বলতে কিছু নেই। লাইসেন্সের মালিকানা হয়। ১৯৯২ ও ১৯৯৮ এর অ্যামেনমেন্ট অনুযায়ী ইবাইস ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে আমি শুধুই উদ্যোক্তা, মালিক নই। ইউনিভার্সিটি পরিচালনা করার জন্য সরকার আমাকে লাইসেন্স প্রদান করেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ যখন নতুন করে হয়, সেখানে বলা হয়েছে যে ট্রাস্টি বোর্ড করতে হবে। আমাকে সরকার একক ব্যক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে ইবাইস ইউনিভার্সিটি পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে যা ১৯৯২ ও ১৯৯৮ এর আইন অনুযায়ী পারমিট করে। এবং আমি যখন আবেদন করি তখন একক উদ্যোক্তা হিসেবেই আবেদন করি। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদন দেয়া যায় কি না সেটার যাচাই-বাছাইয়ে ইউজিসি যে তদন্ত কমিটি করেছে এবং অবকাঠামো ও অন্যান্য শর্ত পালন করেছি কি না সেটার যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে সেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে- উদ্যোক্তা জনাব জাকারিয়া লিংকন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে সাময়িক অনুমোদনপত্র প্রদান করেছে সেই অনুমোদনেও একক ব্যক্তি জনাব জাকারিয়া লিংকন। সেখানে বলা হয়নি যে জাকারিয়া লিংকন প্রেসিডেন্ট বা চেয়ারম্যান বোর্ড অব ট্রাস্টিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমি একা এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছিল যে একটি কমিটি থাকতে হবে। তাই আমার পরিচিতদের নিয়ে আমি একটি কমিটি করেছি। অর্থাৎ ২০১০ এর বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ইবাইস ইউনিভার্সিটি ফাউন্ডেশন নামে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে ফাউন্ডেশন রেজিস্ট্রি করেছি এবং ওটাই আমার ট্রাস্টি বোর্ড। পরে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ইবাইস ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট নামে এই একই ট্রাস্টি বোর্ড আমি রেজিস্ট্রি করেছি।

এখন আমাদের যে দ্বন্দ্বের কথা বলা হচ্ছে তা ইউজিসি সৃষ্ট দ্বন্দ্ব। আমাদের সৃষ্ট নয়। আমাকে সরকার এবং ইউজিসি একক ব্যক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে কোনো ট্রাস্টি বোর্ড ছিল না। সেখানে কমিটির কিছু সদস্য যদি সরকারের কাছে গিয়ে বলে এবং সেটা যদি সরকার রিকগনেইজড করে বা পেট্রনেইজড করে তখন ইউজিসিতে যারা ছিলেন বিশেষ করে সেই সময়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান এ কে আজাদ চৌধুরী ছিলেন উনি ব্যক্তিগত স্বার্থে তাদেরকে পেট্রনেইজড করেছেন। এবং এই কাজটি করে তিনি একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইউনিভার্সিটিকে ধ্বংস করেছেন। অর্থাৎ মালিকানা দ্বন্দ্বের ধোয়া তুলে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া এর প্রধান ভূমিকায় ২০১১ সালে ইউজিসিতে যারা ছিলেন তারাই। লাইসেন্স আমার নামে অথচ আমাকে বাদ দিয়ে যদি কেউ অনিয়ম বা কারসাজি করে ট্রাস্টি বোর্ড করে সেই বোর্ডের কোনো বক্তব্য কোনো অবস্থাতেই ইউজিসি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় আইনগতভাবে নিতে পারে না। তবে যদি আদালতের কোনো রায় থাকে সেক্ষেত্রে নিতে পারে। এসব বিষয় নিয়েই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। কারণ তখন ইউজিসি অনেক ধরনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে যা আইন বহির্ভূত। পরে যখন নতুন চেয়ারম্যান আসলেন, তিনি উপলব্ধি করলেন যে কাজটি বেআইনিভাবে করা হয়েছে। উনি দেখলেন ধানমণ্ডির একটি ঠিকানাকে বলা হয়েছে ইবাইস ইউনিভার্সিটির মূল ঠিকানা যেটি আমার অধীনে নয় সেই ঠিকানাকে রেজিস্টার বরাবর বলা হয়েছে ইবাইস ইউনিভার্সিটির ঠিকানা। সেটা নিয়েই যখন আমি আদালতে গেলাম আদালত তখন ইউজিসিকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বললেন। তখন ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩ জন কর্মকর্তা- একজন সদস্য ও ২ জন কর্মকর্তা; একজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি লেবেলের কর্মকর্তা জিন্নাত রেহানা এবং অন্যজন জেসমিন পারভিন ইউজিসির ডেপুটি সেক্রেটারি বা ডাইরেক্ট মিলে কমিটি করা হয়েছে এবং ওই কমিটি যেই প্রতিবেদন দিয়েছে সেই প্রতিবেদনে তারা ৩ জন স্পষ্ট স্বীকার করেছেন যে ধানমণ্ডির ক্যাম্পাসটি মূল ক্যাম্পাস নয়, এটি বিধি বহির্ভূত হয়েছে এবং ২০১০ এর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ইউজিসি কোনো ইউনিভার্সিটির মূল ক্যাম্পাসের ঠিকানা অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। ইউজিসি শুধু সুপারিশ করতে পারবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এবং মন্ত্রণালয়ই শুধু অনুমোদন দিতে পারবে। অতএব বাড়ি নম্বর ২১/এ সড়ক ১৬ (পুরাতন ২৭) ধানমণ্ডির আবাসিক এলাকার ক্যাম্পাসটির যে অনুমোদন দেয়া হয়েছে তা যথাযথ হয়নি এবং পত্রের কোনো কার্যকারিতা নেই। এরপরও তারা অনেকবার চিঠি দিয়ে বলেছে যে ক্যাম্পাসটি ইউজিসি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত না। এই চিঠির সূত্র ধরেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ওই ঠিকানা ইউজিসির ওয়েবসাইট থেকে ডিলিট করে দেয়া হোক। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সৈকত আজিজ রাসেল ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সেই মামলায় তারা স্টে অর্ডার নিয়ে ক্যাম্পাস কন্টিনিউ করতেছিলেন এবং এই অবস্থায় ওই মামলায় আমি অ্যাপিয়ার হয়েছি। পরে ওই মামলা হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। এরপর তারা সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশন চেম্বার জজে যান। সেখানে চেম্বার জজ নিজে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে মামলা ফুল করে ট্রান্সফার করেন। সেখানে প্রধান বিচারপতিসহ চারজন বিচারপতি কোনো অর্ডার না দিয়ে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন সেটি সঠিক বলে আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ ধানমন্ডি ক্যাম্পাসটি যে অবৈধ এবং সরকার অনুমোদিত না, সে বিষয়ে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যে আপিল করা হয়েছিল সে আপিলটি হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়ার পর সুপ্রিম কোর্টও সেটা বলবত রেখেছে। এর মানে হচ্ছে ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসটি এখন অবৈধ এবং ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই এখন পর্যন্ত সঠিক আছে। আমার লাইসেন্স সরকার এখনো বাতিল করেনি। আমার লাইসেন্স বহাল আছে এবং আমার লাইসেন্স এর বিরুদ্ধে এখন আদালতের কোনো আদেশ নেই। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির উচিত সরকার যাকে লাইসেন্স দিয়েছে তাকে আইনগতভাবে সহযোগিতা করা এবং তারা বাধ্য থাকার কথা। কিন্তু আমার পরিচালিত ক্যাম্পাসের ঠিকানা ইউজিসির ওয়েবসাইটে নেই। ভেবে দেখেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত যার লাইসেন্স আছে যে বিশ্ববিদ্যালয়কে মঞ্জুরি কমিশন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বীকার করে কিন্তু তার কোনো ঠিকানা নেই! দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত রিটের মাধ্যমে স্থগিত করা হয়েছে শুধু ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসটি যেন অবৈধ ঘোষণা করে বন্ধ করে না দেয়া হয়। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কোনো আদেশ ছিল না। অথচ এই বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপসচিব জিন্নাত রেহানা উপরওয়ালা অথরিটিকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বিটিসিএল-এ চিঠি দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ আদালতের আদেশকে ভুল বুঝিয়ে এ কাজটি করা হয়েছে। পরে আমি এ বিষয়ে আবেদন করেছি যে, আদালতের আদেশে ওয়েবসাইট বন্ধের কথা বলা হয়নি কিন্তু তারা আমলে নেননি। পরবর্তীতে মামলাটি যখন খারিজ হয়ে যায় তখন আমি বারবার চিঠি দিয়েছি আমার ওয়েবসাইট খুলে দেয়ার জন্য। কিন্তু এখনো তারা কেউ আমলে নিচ্ছেন না। আমি জানি না কেন? সর্বশেষ আমার উত্তরা ক্যাম্পাসের ঠিকানার ব্যাপারে ৬০ দিনের ভেতরে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। সেই ৬০ দিনও পার হয়ে গেছে কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আমার কাছে আসে নেই। সুতরাং ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার অনুরোধ- আমি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য লাইসেন্সের অধিকারী এবং আমার বিরুদ্ধে যদি সরকার বা আদালতের কোনো আদেশ না থাকে অনুগ্রহ করে দয়া করে আমাকে সহযোগিতা করেন। একটা প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই ধ্বংসের হাত থেকে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে চাই। আট বছর ধরে আমার যা কিছু আছে সব বিক্রি করে দিয়ে মানুষের কাছ থেকে আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে মামলা পরিচালনা করেছি। আপনারা জানেন হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট বা লোয়ার কোর্টে কী পরিমাণ টাকা-পয়সা খরচ হয়। কিন্তু ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়ায় এখান থেকে পাস করা ছাত্রছাত্রীরা দেশে-বিদেশে চাকরি ও ব্যবসায় প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমি অনুরোধ করছি, এই ছাত্রদের স্বার্থে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ঠিকানা ওয়েবসাইটে যুক্ত করা। কখনো যদি আদালত থেকে আদেশ আসে যে জাকারিয়া লিংকনের লাইসেন্স বাতিল করা হইল তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু যতদিন আমার লাইসেন্স বলবত আছে ততদিন আমি যেখানে, সেখানেই ইবাইস ইউনিভার্সিটির ঠিকানা।

তবে উনারা একটা কথা দাবি করছে যে লিমিটেড কোম্পানির কথা, যেটা ইবাইস লিমিটেড। ১৯৯৯ সালে আমরা ইবাইস লিমিটেড নামে একটা অর্গানেইজেশন করেছিলাম। যারা এখন মালিকানা দাবি করছেন তারা ওই লিমিটেড কোম্পানিতে ছিলেন। মাত্র ছয় লাখ টাকা পেইড অব ক্যাপিটাল দেখিয়ে লিমিটেড কোম্পানিটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়। কিন্তু এই টাকা তখন কেউ পে করেননি, ওটা কাগজে-কলমে শুধু দেখানো হয়েছে- এটাই নিয়ম বাংলাদেশে। কারো কোনো টাকার ইনভেস্টমেন্ট এখানে নেই। কিন্তু সেই লিমিটেড কোম্পানি ইবাইস ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেনি। লিমিটেড কোম্পানির ইন্ডিভিজ্যুয়াল রেজিস্ট্রেশন আর ইবাইস ইউনিভার্সিটির ইন্ডিভিজ্যুয়াল লাইসেন্স। ইবাইস ইউনিভার্সিটি আর ইবাইস লিমিটেড কোনোদিন এক হতে পারে না। কারণ ইবাইস ইউনিভার্সিটির আলাদা আইডেন্টিটি আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় লাইসেন্স দিয়েছে। লাইসেন্স এমন নয় যে জাকারিয়া লিংকন, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইবাইস লিমিটেড। মানে ব্যবসার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাউকে লাইসেন্স দেয় না। আমি আবেদন করেছি একক ব্যক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে, অনুমোদনও পেয়েছি একক ব্যক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে কিন্তু এখন লিমিটেড কোম্পানির কথা কিভাবে আসে? আগে এটা লিমিটেড কোম্পানি দিয়ে পরিচালিত হয়েছে এই শব্দটা মাঝে মাঝে ইউজিসি অ্যাড করে দেয় ইন্টেনশনালি যা ব্যক্তিস্বার্থে। কিন্তু লিমিটেড কোম্পানি দিয়ে পরিচালিত হয়েছে এমন তথ্য কবে কখন কোথায় আবেদন থেকে শুরু করে লিমিটেড কোম্পানি কার সাথে যোগাযোগ করেছে? বা লিমিটেড কোম্পানির কোনো রেজ্যুলেশন কি জমা দেয়া হয়েছে ইউজিসিতে? অনুমোদনের আবেদন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে যেকোনোরকম যোগাযোগ লিমিটেড কোম্পানির পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান বা ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হিসেবে জাকারিয়া লিংকন করেছে কি না দেখাতে পারবে না।

এজন্য রাজনৈতিক থেকে শুরু করে সকল মহলের কাছে অনুরোধ করছি- শিক্ষার্থীদের জীবনের স্বার্থে অভিভাবকদের স্বার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে লাইসেন্স যাকে প্রদান করেছে এবং যতদিন না এর বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত প্রপার অথরিটির মাধ্যমে না হয়, যদি ইবাইস ইউনিভার্সিটির লাইসেন্স সরকার বাতিল হয় তখন না হয় ইউজিসি নন কোঅপারেশন করবেন। যদি আদালত জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বা লাইসেন্সের বিরুদ্ধে কোনো রায় পাস করেন তখন না হয় আমার সাথে নন কোঅপারেশন করেন। কিন্তু এখন কোনোই সমস্যা নেই, লাইসেন্সের বিরুদ্ধে কোনো মামলার আদেশ নেই, সরকারও লাইসেন্স বাতিল করেনি, এই মুহূর্তে কেন নন কোঅপারেশন করা হবে? আর এখানে যদি দুটি গ্রুপ থাকে যদি দুই জায়গায় দুটি সাইন বোর্ড থাকে আর এটি পরিচালনা করতে যদি কোনো অথরিটি বাধা না দেয় সেক্ষেত্রে তো ছাত্রছাত্রীরা বিভ্রান্ত হবেই। এর আগে তো পাঁচ জায়গায় ছিল সাইনবোর্ড এবং এভাবেই জব মার্কেটে দেশে ও দেশের বাইরে সব জায়গায় ছাত্রছাত্রীরা অবমূল্যায়িত হবে।

সুতরাং যেহেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয় ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসকে অবৈধ বলেছে সেটি দ্রুত বন্ধ করা হোক, কারণ সেখানে সার্টিফিকেট বাণিজ্য করা হচ্ছে। এবং দখলের পর থেকে অর্থাৎ ২০১১ সালের পর থেকে ধানমণ্ডির ওই ক্যাম্পাসকে মূল ক্যাম্পাসে স্বীকৃতি দিতে ইউজিসির সেই সময়ের চেয়ারম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার বরাবর চিঠি দিয়েছে যে ইবাইস ইউনিভার্সিটি এই ক্যাম্পাসে চলবে। এখানে একটা বড় ধরনের চালাকি হচ্ছে রেজিস্টার বরাবর চিঠি দিয়েছে যেখানে কোনো রেজিস্টার নেই নামও নেই। কিন্তু তখন যে সমস্যাটা সৃষ্টি করা হলো সেটা এখন আর নেই।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য কে জানতে চাইলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর খন্দকার রেজাউর রহমান। ২০১২ সালে তিনি মারা যান। ২০১০ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর আগে সবশেষ প্রোভিসি নিয়োগ পেয়েছিলাম আমি নিজে। সুতরাং ভিসি মারা যাবার পর প্রোভিসি হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করি। তখন আমাদের ট্রেজারারও ছিল না। আমিই দায়িত্ব পালন করি, কারণ ট্রাস্টি বোর্ড আমাকে সেই সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে আপনি দায়িত্ব পালন করে যান এবং আমরা সাথে সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য আবেদন করি। আমরা ২/৩ বার করে আবেদন করেছি কিন্তু মন্ত্রণালয় আমাদের আবেদনে কোনো সাড়া দেননি। সর্বশেষ কমিটি আমার নাম প্রস্তাব করে আবার আবেদন করেছে। সেটাও ২/৩ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো কোনো সাড়া দেয়নি। কিন্তু অনুমোদনের বিষয় তো মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির। সুতরাং অনুমোদন না দেয়া পর্যন্ত তো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে রাখতে হবে। সে হিসেবে সরকার কর্তৃক সর্বশেষ নিয়োগকৃত প্রো ভাইস চ্যান্সেলর আমি। এছাড়া এখানে আর কোনো ব্যক্তি নেই।

কিন্তু মালিকানা দ্বন্দ্ব বিষয়ে যারা কথা বলছেন ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসে যারা আছেন তারা কিভাবে ভিসি নিয়োগ দিচ্ছেন?

তাদের তো কোনো কিছুই নেই। নিজেদের ইচ্ছে মতো যতটুকু জানি ছয়বার ভিসি পরিবর্তন করেছেন! তারা তো করছেন এটা অবৈধ বাণিজ্যের জন্য। মানে যখন যাকে মনে হয়েছে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দিয়েছেন। সর্বশেষ যিনি আছেন তিনি বোধ হয় মাস্টার্স ডিগ্রি হোল্ডারও না, হয়তো বিএ পাস হবেন। এক্ষেত্রে হয়তো সিগনেচার দিয়ে সার্টিফিকেট বাণিজ্য করছেন। কিন্তু সরকার যদি লাইসেন্স হোল্ডারকে রিকগনেইজড করতো এবং সে অনুযায়ী ঠিকানা প্রদান করতো অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যদি বলা হতো যে- ধানমণ্ডি ক্যাম্পাসের কোনো অনুমোদন নেই।

মামলাগুলোর সবশেষ পরিস্থিতি কী জানতে চাইলে আরটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, মামলাগুলোর বেশির ভাগই ডিসচার্জ করে দিয়েছেন আদালত। এগুলো রিট মামলা( ধারা 102) যা মূলত সরকারের বিরুদ্ধে হয় এবং বেশির ভাগ খারিজ হয়ে গেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন অর্ডারগুলোও খারিজ হয়ে গেছে। কিন্তু আমার দুটি মামলার একটির ডাইরেকশন আছে এই ঠিকানার(উত্তরা) ব্যাপারে এবং অপর মামলায় এই ঠিকানার ব্যাপারে রুল আছে। কিন্তু ওরা যে মামলা করেছে সবই খারিজ হয়ে গেছে এবং ওদের ক্যাম্পাসও বাতিল হয়ে গেছে- কারণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির আদেশ আদালত বহাল রেখেছে।

সম্প্রতি ইউজিসি প্রজ্ঞাপন দিয়েছে যে ইবাইস ইউনিভার্সিটির কোনো ঠিকানা নেই- একথার ভিত্তি কী?

কারণ ইউজিসির ওয়েবসাইটে আমাদের ঠিকানা নেই। কিন্তু আমার এই ঠিকানার ব্যাপারে ডিরেকশন আছে। সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় দিবে। ধানমণ্ডি ক্যাম্পাস বন্ধ করতে বলেছে ঠিকই কিন্তু এই ক্যাম্পাস চালু করতে বলা হয়নি আর এটাই হচ্ছে মূল প্রশ্ন যে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ঠিকানা নেই? এটা তো হতে পারে না।

একক উদ্যোক্তা লাইসেন্সধারী হিসেবে মন্ত্রণালয় কি কখনো জিজ্ঞাসা করেছিল যে আপনার ঠিকানা কোনটা?

-না। আমাকে কোনোদিন জিজ্ঞাসা করেনি বরং আমি বারবার বলেছি যে আমার ঠিকানা এটা(উত্তরা)। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঠিকানায় আমার সাথে যোগাযোগ করেছে কয়েকবার। কমপক্ষে ১০টি চিঠি আছে যার মাধ্যমে এই ঠিকানায় আমার সাথে যোগাযোগ করেছে।

এই সমস্যা সমাধানে আপনি আসলে এখন কী চাচ্ছেন?

আসলে চাওয়াটা আমার না, এটা আসলে জনস্বার্থে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা গ্রাজুয়েট, যারা বর্তমান ছাত্র ও তাদের অভিভাবক এবং ভবিষ্যতে যারা এখানে পড়াশোনায় আগ্রহী, এছাড়া অন্যান্য যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আছে ও সুধীসমাজ যারা আছেন- সবার কাছেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

মঞ্জুরি কমিশন মাঝে মধ্যেই কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে সতর্কতা জারি করে। ছাত্রছাত্রীরা আসলে কিভাবে বুঝবে যে কে রাইট বা কে রং। এখানে আমি অনুরোধ করছি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে যে, ইউজিসির মাধ্যমে যে বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করা হয় সেখানে ইবাইস ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে যে সতর্ক করা হলো সেটা কিন্তু যথেষ্ট নয়। যেহেতু ইবাইস ইউনিভার্সিটির লাইসেন্স বিদ্যমান এবং যাকে এই লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে সরকারে কোনো আদেশ নেই, এছাড়া অন্যপক্ষের পক্ষেও কোনো আদেশ নেই সুতরাং লাইসেন্সধারী যেই ক্যাম্পাসটি পরিচালনা করছেন সেই ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার জন্য, পরিষ্কার আদেশ দেয়ার জন্য ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানেই। এক্ষেত্রে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ জানেই যেন এই বিভ্রান্তির হাত থেকে এই ইউনিভার্সিটিকে রক্ষা করা হয় এবং বিষয়টি যেন ঝুলিয়ে রাখা না হয়।

স্থায়ী ক্যাম্পাস এর কী অবস্থা আমাদের জানান।

২০১১ সালে স্থায়ী ক্যাম্পাস করার জন্য আমি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন আসবেন। যখন আমার সব প্রস্তুতি শেষ ঠিক সেই মুহূর্তে এই দুষ্কৃতিকারী যারা আছেন তারা একটি ভুয়া কাগজে কারসাজি করে একটি ট্রাস্টি বোর্ড তৈরি করে সাতজনে সাইন করেন কিন্তু রেজিস্টার্ড ট্রাস্টি বোর্ড না, ফটোকপি কাগজে কারসাজি করে নামগুলো দেয়া হয়েছে আর উনি(শিক্ষামন্ত্রী) এই কারণে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজ শুরুর উদ্বোধন করতে আসলেন না। তারপর তারা ধানমণ্ডিতে ক্যাম্পাস শুরু করে দিলেন। আমার জায়গা নেয়া আছে সব প্রস্তুতি নেয়া আছে কিন্তু এরকম মামলা শুরু হওয়ার কারণে কাজ শুরু করার কোনো অবস্থা নেই। যখনই লাইসেন্সধারীকে অর্থাৎ আমাকে যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলবে, আমার ঠিকানা ইউজিসির ওয়েবসাইটে যুক্ত করবে, আমার ওয়েবসাইট যেটা বিটিসিএল এ চিঠি দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে সেটা খুলে দেবে তখনই স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের কাজ শুরু করব।

যে মামলার কথা বলা হচ্ছে সে মামলা শেষ হয়ে গেছে এরপর আমি বারবার চিঠি দেয়ার পরও আমার সাইট খুলে দেয়া হচ্ছে না।

ভালো-মন্দ মিলিয়েই মানুষ সব দেশেই আছে। এজন্য উন্নত দেশগুলোতে আইন ও আইনের প্রয়োগের কারণে ওই খারাপ মানুষগুলো এমন সুযোগ নিতে পারে না। এসব নিয়ন্ত্রণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসির কাছে কেউ একটা আবেদনপত্র নিয়ে গেলেই যদি এন্টারটেইন করা শুরু হয় তখন কিন্তু এই আবেদনকারীরা আরো আগ্রহী হয়ে ওঠে। ঠিক আছে ইউনিভার্সিটি এখন আমরা বেকায়দায় ফেলে দিয়েছি, কাঁদায় ফেলে দিয়েছে। কোনো না কোনো সময় এটি আমরা গ্রিপে নিয়ে নিতে পারব। কিছু টাকা পয়সা দিয়ে মূল উদ্যোগতাকে তুলে দিলাম। এমন ঘটনা হয়েছে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়কে ৪টা ট্রাস্টি বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, এটা কিভাবে সম্ভব? ফাউন্ডেশনের নামে হোক বা ট্রাস্টের নামে হোক একবার রেজিস্ট্রেশন দেয়া হলে ওই নামে দ্বিতীয়বার রেজিস্ট্রেশন দেয়া যেতে পারে না। এভাবে বেশ কিছু ইউনিভার্সিটির একাধিকবার ট্রাস্টি বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, সাব রেজিস্টার অফিসও দিয়েছে। আমার ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমার রেজিস্ট্রেশন করা ফাউন্ডেশন নামে এবং ট্রাস্ট নামে। তখন ডিজিটাল হওয়াতে আমি অটোমেটিক ইমেইল নোটিফিকেশন পেলাম যখন তারা রেজিস্ট্রেশন সাবমিট করেছে। তখন আমি কমপ্লেইন করলাম পরে তারা সাথে সাথে রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করে দিলো। কিন্তু ঠিক একবছর পর কী এমন হলো যে তারা রেজিস্ট্রেশন দিলো? আর রেজিস্ট্রেশন দেয়ার আগে দেখতে হবে যে কিসের ওপর বেইজড করে রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি কোনো নির্দেশনা দিয়েছে? নাকি লাইসেন্স দিয়েছে? আমাকে লাইসেন্স দিয়েছে আমাকে রেজিস্ট্রেশন দিতে পারে। কিন্তু যাকে কোনো লাইসেন্স দেয়া হয় নেই কোনো কিছুই দেয়া হয় নেই তাকে কিভাবে রেজিস্ট্রেশন দেয়া হলো? সেখানে যে ব্যক্তিরা আছেন ১২/১৩ জন তারা ইউনিভার্সিটির সাথে কিভাবে জড়িত? আর একাধিক রেজিস্ট্রেশন কিভাবে দেয়? এসবের জন্য শুধু উদ্যোক্তাকে দায়ী করা ঠিক নয়, মিডিয়ার কাছে আমার অনুরোধ। কিন্তু এগুলোর সুযোগ কারা তৈরি করেছে তাও দেখা উচিত। তবে শুনেছি এখন এনএসআই এর ক্লিয়ারেন্স এর দরকার হয় বিধায় একাধিক রেজিস্ট্রেশন দিতে পারছে না জয়েন্ট স্টক কোম্পানি। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির একাধিক রেজিস্ট্রেশন দেয়ায় তারা বিতর্কিত হয়ে গেছে। সুতরাং এর জন্য জয়েন্ট স্টক কোম্পানিও দায়ী। তারা কি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা উদ্যোক্তার কাছে জানতে চেয়েছে? যিনি মূল ফাউন্ডার বা আগে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছে তাদের কাছে জানতে চেয়েছে? একবছর পর এমন কী হলো যে আবার পারমিশন দেয়া হলো? তাছাড়া ট্রাস্টি বোর্ড রেজিস্ট্রেশন হলেই কি ইউনিভার্সিটি হয় নাকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে, লাইসেন্স লাগে? এখন আমার ইউনিভার্সিটির নামে অন্য একটা গ্রুপ ট্রাস্টি বোর্ড করেই ইউনিভার্সিটি পরিচালনা করা শুরু করে দেবে? আর এটাকে এন্টারটেইন করবে ইউজিসি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে কোনো ট্রাস্টি বোর্ড বা কোনো ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিলে, সেই বিশ্ববিদ্যালয় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়ার অধিকার শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি এমনকি যাকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে অর্থাৎ আমাকে যে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, আমারও অধিকার নেই এই লাইসেন্স অন্য কাউকে দেওয়ার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আইনে এরকম নিয়ম নেই এবং সেই সম্পর্কিত চিঠি ইউজিসি জারি করেছে সেটিও আমার কাছে আছে। যেহেতু এটি কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয় সেহেতু এটি হস্তান্তর করার কোনো বিধান নেই। তারপরও তৃতীয় পক্ষকে কিভাবে এন্টারটেইন করা হয়?

সি/

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জিপিএ-৫ না পেয়ে জেএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা
বরিশাল নগরীতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সারিয়া আক্তার (১৪) নামের এক পরীক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরে দুপুরে নিজ বাড়িতে সে  আত্মহত্যা করে। আত্মহননকারী সারিয়া আক্তার নগরীর কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা বরিশাল কলেজের সাবেক ভিপি শাহীন হাওলাদারের মেয়ে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিপিএ-৫ না পেয়ে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত স্কুল ছাত্রীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের লাশ সংরক্ষণ কক্ষে রাখা হয়েছে। এজে
জিপিএ-৫ না পেয়ে জেএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা
জেএসসিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৮.৮০ শতাংশ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের জেএসসি পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বছর ২ লাখ ৭০ হাজার ৯৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ১৩১ জন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ বোর্ডে এবার ফলাফলে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। এ বছর এক হাজার ৯২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তিনি আরও জানান, কুমিল্লা বোর্ডের ৬টি জেলার মধ্যে কুমিল্লা জেলার ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাশ করেছে যা বোর্ডের মধ্যে সেরা। এজে
জেএসসিতে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৮.৮০ শতাংশ
এই প্রথম ফল প্রকাশ করলো ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
নবগঠিত ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেএসসি পরীক্ষার প্রথম ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে পাশের হার ৮৭ দশমিক ২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের হাতে ফলাফল তুলে দেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শামসুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর কিরীট কুমার দত্ত, কলেজ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান, উপ-সচিব মশিউল আলম, মনিরুজ্জামান ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহসিনা বেগম। ময়মনসিংহ বোর্ডে ২০১৯ সালে জেএসসি পরীক্ষায় এক হাজার ৪৮৪ টি স্কুলের এক লাখ ৬১ হাজার ৩৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার ৭১৭ জন পাস করেছে।  বিভাগের মধ্যে পাসের হার শেরপুর জেলায় ৯০ দশমিক ০৫ শতাংশ, জামালপুরে ৮৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৮৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ও নেত্রকোনায় ৮৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। একটি স্কুল থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী ছিল তাদের কেউ পাশ করেনি।  জেবি
এই প্রথম ফল প্রকাশ করলো ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড
জেএস‌সি‌তে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৯৪.১০ শতাংশ
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এবছর জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৯৪.১০ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়েদের পাশের হার ৯৪.৮৭ এবং ছেলেদের পাশের হার ৯৩.৩০ শতাংশ। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টায় রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৯৪.৫৭ শতাংশ। ২০১৭ সালে ছিল ৯৫.৫৪ শতাংশ। এবারে পাশের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪.১০ শতাংশ। এবছর মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৭৮ জন। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৭৮ জন ছেলে এবং ৯ হাজার ২০০ জন মেয়ে শিক্ষার্থী। শুধুমাত্র রাজশাহী জেলায় মোট ২ হাজার ৬৪৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারের মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৩ জন। এদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ৫৮ হাজার ১৮৬ জন। এজে
জেএস‌সি‌তে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৯৪.১০ শতাংশ
প্রাথমিকে পাস ৯৫.৫০ শতাংশ, ইবতেদায়িতে ৯৫.৯৬ (ভিডিও)
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি (পিইসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এবার প্রাথমিকে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ আর ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এসব তথ্য তুলে ধরে বলেন, প্রাথমিকে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ আর ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন, ইবতেদায়িতে ১১ হাজার ৮৭৭ জন। এবার সমাপনীতে মোট ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৩ জন পাস করেছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১০ লাখ ৭২ হাজার ১৫৪ জন ছাত্র ও ১২ লাখ ৭১ ৫৮৯ জন ছাত্রী। জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন। এদের মধ্যে ছাত্র এক লাখ ৪১ হাজার ৪৫১ ও ছাত্রী এক লাখ ৮৪ ৬৩৭ জন। অন্যদিকে ইবতেদায়িতে এবার তিন লাখ চার হাজার ১৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৯৩৬ জন। এদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার ৮৩৫ জন ও ছাত্রী এক লাখ ৪১ হাজার ৪০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৮৭৭ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৫৬৮৫ জন ও এক হাজার ১৯২ জন ছাত্রী। ফল বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, এবার ইবতেদায়ি পরীক্ষায় ছাত্রদের সংখ্যা বেশি হলেও গড় পাসের দিক থেকে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। সর্বোচ্চ পাসের হার বিবেচনায় ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় দেশের আট বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। নওগাঁ জেলায় পাসের হার শতভাগ। তিনি আরও বলেন, এবার সারাদেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ২৪০ জন এবং ডিআরভুক্ত হয়ে ২১৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে ১৯৭ জন পাস করেছে। তার মধ্যে ছাত্র ১১৪ জন এবং ছাত্রী ৮৩ জন। এ স্তরে পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদির, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা। পি
প্রাথমিকে পাস ৯৫.৫০ শতাংশ, ইবতেদায়িতে ৯৫.৯৬ (ভিডিও)
আরও পড়ুন
সুশাসনের অভাবে চাঁদ দেখায় বিভ্রান্তি: ফখরুল