ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

তিন দফা দাবিতে তাঁতিবাজার অবরোধ জবি শিক্ষার্থীদের  

জবি প্রতিনিধি,আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:১২ পিএম
আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৩২ পিএম
ছবি : আরটিভি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৪ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা- ‘দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের আবাসন, কবে দিবে প্রশাসন’, ‘লেগেছেরে লেগেছে রক্তে আগুন লেগেছে, রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘যত পারো রক্ত নাও, সেনাবাহিনীর হাতে ক্যাম্পাস দাও’, ‘জমি নিতেই ৬ বছর, হল হতে কয় বছর’, ‘টেন্ডারবাজ প্রশাসন চলবে না, চলবে না’, ‘মূলা ঝুলানো প্রশাসন চলবে না, চলবে না’, ‘বছরের পর বছর যায়, প্রশাসন শুধু মূলা ঝুলায়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূর নবী বলেন, প্রশাসন কাজে গড়িমসি করে। যেখানে এক থেকে দুই বছরে একটা পূর্ণাঙ্গ কাজ হয়ে যায় সেখানে বছরের পর বছর কাজ চলে, কিন্তু শেষ হয় না। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ে, কাজের অগ্রগতি থাকে না। সেনাবাহিনীর কাছে এই ক্যাম্পাসের কাজ অতিদ্রুত হস্তান্তর করে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।

আন্দোলনের সংগঠক রাকিব বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস আমাদের নৈতিক অধিকার। আমাদের হল নেই, ক্যাম্পাস নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমরা শুনছি শুধুমাত্র ক্যাম্পাস হচ্ছে হবে। কিন্তু কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না।

আন্দোলনের মুখপাত্র তৌসিব মাহমুদ সোহান বলেন, আজকের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি আমাদের ৩ দফা দাবি মেনে না নেয়, তাহলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যাবো।

শিক্ষার্থীদের তিনটি দাবি হলো- স্বৈরাচারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত দুর্নীতিবাজ প্রজেক্ট ডিরেক্টরকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ৭ দিনের মধ্যে প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে সেনাবাহিনীর দক্ষ অফিসার নিয়োগ করতে হবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা আসতে হবে যে সেনাবাহিনীর হাতে ২য় ক্যাম্পাসের কাজ হস্তান্তর করা হয়েছে এবং হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে সুস্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে (অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হল), অবিলম্বে বাকি ১১ একর জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং পুরাতন ক্যাম্পাস নিয়ে স্বৈরাচার আমলে করা সকল অনৈতিক চুক্তি বাতিল করতে হবে।

এদিকে রাস্তা অবরোধের কারণে আটকা পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো এমন না যে বললেই কাজ হয়ে যাবে। যেটা ১২ বছরে হয়নি, সেটা ১২ দিনে সম্ভব না। আমরা সেনাবাহিনীর সাথে কথা বলছি, একটা প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যাবে।

পরে উপাচার্য গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে তাঁতিবাজার থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

আরটিভি/এমএ/এসএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবো। বৈঠক চলমান রয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দিনের মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এর আগে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে। সংগঠনের নেতারা ঘোষণাপত্রে দুটি মৌলিক বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। তাতে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘মুজিববাদী সংবিধান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর ‘কবর’ রচনা করা এবং ‘নাৎসিবাদী আওয়ামী লীগকে’ বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করার কথা থাকবে। আরটিভি/কেএইচ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) মো. শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ’ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটি আগামী চার মাসের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর)  সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আর সদস্য হিসেবে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, ইউজিসির ওপরে এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। তা ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে সংযোজন করতে পারবে। প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। রাজধানীর এই সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।  এর ফলে এসব কলেজে ভর্তি পরীক্ষা, পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অবশেষে ৬ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেন।  আরটিভি/কেএইচ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
জুলাই বিপ্লবের ‘ঘোষণাপত্র’ ঘিরে আড়াই লাখ মানুষ জমায়েতের পরিকল্পনা 
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই বিপ্লবের ‘ঘোষণাপত্র’ ঘিরে অন্তত দেড় থেকে আড়াই লাখ মানুষ জমায়েতের পরিকল্পনা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সব রাজনৈতিক দল এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে নতুন স্বপ্ন দেখবে বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশে যে সরকারই আসবে, এই ঘোষণাপত্র সীমারেখা হয়ে কাজ করবে। এর মধ্যদিয়ে বস্তাপচা রাজনীতির অবসান হবে।   নতুন বছর উদযাপন ও জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের অনুষ্ঠান ঘিরে যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‌‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ ঘিরে অন্তত ৫০০ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।   প্রসঙ্গত, গত জুলাই-আগস্টে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গত শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে এই বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। যদিও এই ঘোষণাপত্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, পার্লামেন্ট বিলুপ্তি ছাড়াও ’৭২ এর সংবিধান সংস্কার বা বাতিলসহ জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের খসড়ায় বলা আছে, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য ১৯৪৭ সাল যুদ্ধ করেছে, যেহেতু পাকিস্তান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, যেহেতু ১৯৭২ এর সংবিধান আমাদের জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারেনি, যেহেতু মার্শাল ল’ এবং সাংবিধানিক সংশোধনীসমূহ ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রকে দুর্বলতম করেছে। এই উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই কারণে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র ঘোষণা করা হচ্ছে। যা ৫ আগস্ট, ২০২৪ থেকে কার্যকর হবে। আরটিভি/কেএইচ
জুলাই বিপ্লবের ‘ঘোষণাপত্র’ ঘিরে আড়াই লাখ মানুষ জমায়েতের পরিকল্পনা 
রাবিতে পোষ্য কোটার আসন কমলেও মিলছে না শিক্ষার্থী
বিগত বছরগুলোতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ধাপে ধাপে কমানো হয়েছে পোষ্য কোটার আসন। তবে কোনো বছরেই পূর্ণতা পায়নি কাঙ্ক্ষিত সেই আসনগুলো। আসন ফাঁকা রেখেই প্রতি বছর চলে শিক্ষা কার্যক্রম। পোষ্য কোটা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানের জন্য বরাদ্দকৃত আসন। যেই সুবিধা শুধু তাদের সন্তানরাই পেয়ে থাকে। তবে বরাদ্দকৃত আসন কোনো বছরেই পরিপূর্ণ হয়নি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৯৬ জন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১০০ জন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ১১৩ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৩৯ জন ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৯৪ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছে। যেখানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরিক্ষার পূর্ব পর্যন্ত ৫ শতাংশ পোষ্য কোটা ছিল। যার মোট আসন সংখ্যা ১৯৫টি। তবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে বিগত প্রশাসন ১ শতাংশ কমিয়ে ৪ শতাংশে নিয়ে আসে। মোট আসন দাঁড়ায় ১৫৬টি। তবে কোনো বছরই পূর্ণ হয়নি পোষ্য কোটার আসন। বর্তমান প্রশাসন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরিক্ষায় আরও ১ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশে নিয়ে আসেন। যার মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৭টি। বার বার পোষ্য কোটার আসন কমালেও পাশ মার্ক নিয়েই পছন্দের সাবজেক্ট পাচ্ছেন শিক্ষক, কর্মকর্তার ও কর্মচারীর সন্তানরা। তবে পাশ মার্ক না পেয়েও একাধিক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে বিগত প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তবে বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি চেয়ে আসলেও জুলাই বিপ্লবের পর তা তীব্র আকার ধারণ করে। আগামী ২ জানুয়ারির পূর্বে পোষ্য কোটা বাতিল না করলে প্রশাসনিক ভবনে তাল ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবির সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার।  বর্তমান প্রশাসনের কাছে পোষ্য কোটা নিয়ে জিজ্ঞেস করলে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা বলে সমাধানে কথা বলছেন। তবে পোষ্য কোটা বিষয়ে তার সাথে কোনো কথায় হয়নি বলে আরটিভিকে জানিয়েছেন সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, বিগত দুই মাস আমরা খুব ছোট ছোট প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি।আমরা তাদের ফাইনাল ডিসিশনের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু ফাইনাল না হওয়ার আগেই ৫ জানুয়ারি তারা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আবেদনের তারিখ ঘোষণা করল। পোষ্য কোটা বাতিলের এখনো তারা কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এমনকি এখনো পর্যন্ত ফ্যাসিবাদি শিক্ষকদের নিয়োগে কাজ করছে। যার জন্য আমরা তিনটি দাবিতে আল্টিমেটাম দিলাম। পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে; ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কার্মচারিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং বিভিন্ন নিয়োগে কেন ফ্যাসিবাদি চিহ্নিত শিক্ষকদের নিয়োগ দিলো, তার যথাযথ কারণ দেখাতে হবে। না হয়তো আমরা ২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেবো। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন আরটিভিকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে স্টেকহোল্ডার, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। প্রশাসনকে সকলের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা ভর্তি পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রেখে এবং সকলের মতামতকে সম্মান দিয়ে একটি মধ্যপন্থার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। আরটিভি/এমকে
রাবিতে পোষ্য কোটার আসন কমলেও মিলছে না শিক্ষার্থী
অনশন ভাঙলেন সেই জাবি শিক্ষার্থী
দুদফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে অনশন ভেঙেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন আয়ান।  পরে রোববার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে অনশন ভাঙেন তিনি৷  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘আমার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে জিয়া উদ্দিন আয়ান অনশন ভেঙেছেন। জাকসু নিয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন আগামী ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে। ২৫ জানুয়ারি ভোটার তালিকা ও ১ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আমরা ১৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি।’  তিনি আরও বলেন, ‘এ হামলায় মূলত অনেকে জড়িত থাকায় এবং তিন দিনের ঘটনা তদন্ত করতে তদন্ত কমিটি একটু বেশি সময় নিয়েছে। রোববার বিকেলে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে৷’  আরটিভি/এমকে
অনশন ভাঙলেন সেই জাবি শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
অনশন ভাঙলেন সেই জাবি শিক্ষার্থী
জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু 
চবিতে কোটা বাতিলসহ ৯ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
জুলাই হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে জাবি শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন