ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবির তিন শিক্ষকসহ ছাত্রলীগের সাবেক ৬ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

রাবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৬ পিএম
ছবি : আরটিভি

১৩ বছর আগের হামলার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপ-উপাচার্য ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, সহকারী প্রক্টর তারেক নূর ও অধ্যাপক মুসতাক আহমেদসহ সাবেক ছয় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজশাহী কোর্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান ইলিয়াসের পক্ষে তার ছোট ভাই রোকনুজ্জামান এই মামলা করেন।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের বারান্দায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাদী এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রোকনুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সরদার হাসান ইলিয়াস ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে রাবির আরবি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানার দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। রাবি প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল কমিউনিটির সদস্য।

তিনি বলেন, ২০১১ সালের ১৪ আগস্ট আনুমানিক দুপুর ২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের স্টোর রুম থেকে ককটেল উদ্ধারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে আমার বড় ভাইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ করে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের তৎকালীন রাবি শাখার সাবেক সভাপতি ও সদ্য বিলুপ্ত হওয়া নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহম্মদ আলী ওরফে আহম্মদ আলী মোল্লা (৪২), তৎকালীন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হোসাইন ওরফে আবু হোসাইন বিপু (৩৭)।

তৎকালীন মাদার বখ্শ হল শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ও বর্তমান তেজগাঁও শিল্প অঞ্চল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন বাবু (৩৮), তৎকালীন রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও বর্তমান গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আল আরাফাত রাব্বি (৩৪), তৎকালীন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ও রাবির ২০০৩-২০০৪ সেশনের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম (৩৫) ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান ২০০৭-২০০৮ সেশনের কামাল হোসেন (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সে সময় আসামি রুহুল আমিন বাবু (বর্তমান পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর) হকিস্টিক দিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে। পরে ইট দিয়ে তার মাথা ও মুখে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। আমীর আলী হলের সামনে থাকা পানির কুয়ার মধ্যে ফেলে চুবিয়ে তাকে ধরে রাখে। ওই সময় পানি থেকে উঠিয়ে আসামি আব্দুল আলীম, আল আরাফাত রাব্বি ও আহম্মদ আলী মোল্লা জিআই পাইপ ও আবু হোসাইন বিপু রড দিয়ে ভুক্তভোগীর পিঠে, কোমরে ও পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা মোবাইল ফোন (নোকিয়া-৫১৩০ মডেল) আসামি কামাল হোসেন ও হাতে থাকা ক্যামেরা (ক্যানন ৫৫০ ডি.) আহম্মদ আলী মোল্লা ছিনিয়ে নেয়।

এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর (পরে উপ-উপাচার্য) চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, সহকারী প্রক্টর তারেক নূর ও মুসতাক আহমেদ। তারা কোনও সাহায্য করেননি বরং ভুক্তভোগীর ওপর হামলা করার জন্য নির্দেশ দেন। তাদের মৌন সম্মতি পেয়ে দ্বিতীয়বার রড ও হকিস্টিক দিয়ে সাংবাদিক ইলিয়াসকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মৃত ভেবে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছয় নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাদী রোকনুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন দেশে আইনের শাসন না থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া আমার ভাই ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে থাকায় তার পক্ষে মামলাটি আমি করেছি। আমি আদালতের কাছে আমার ভাইয়াকে হত্যাচেষ্টাকারী আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, রাজশাহী জেলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ৭ জানুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে মতিহার থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ওসি আব্দুল মালেক বলেন, এই মামলার বিষয়ে আমরা এখনও অবগত নই। আমরা কোনো কাগজপত্র এখনও হাতে পাইনি।

জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন জুয়েল বলেন, মামলাটি আদালতে গৃহীত হয়েছে। তদন্তের জন্য ফাইল পাঠানো হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে এটা মতিহার থানায় চলে যাবে।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবো। বৈঠক চলমান রয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দিনের মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এর আগে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে। সংগঠনের নেতারা ঘোষণাপত্রে দুটি মৌলিক বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। তাতে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘মুজিববাদী সংবিধান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর ‘কবর’ রচনা করা এবং ‘নাৎসিবাদী আওয়ামী লীগকে’ বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করার কথা থাকবে। আরটিভি/কেএইচ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) মো. শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ’ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটি আগামী চার মাসের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর)  সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আর সদস্য হিসেবে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, ইউজিসির ওপরে এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। তা ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে সংযোজন করতে পারবে। প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। রাজধানীর এই সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।  এর ফলে এসব কলেজে ভর্তি পরীক্ষা, পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অবশেষে ৬ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেন।  আরটিভি/কেএইচ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
জুলাই বিপ্লবের ‘ঘোষণাপত্র’ ঘিরে আড়াই লাখ মানুষ জমায়েতের পরিকল্পনা 
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই বিপ্লবের ‘ঘোষণাপত্র’ ঘিরে অন্তত দেড় থেকে আড়াই লাখ মানুষ জমায়েতের পরিকল্পনা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে ডিএমপি হেডকোয়ার্টারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সব রাজনৈতিক দল এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে নতুন স্বপ্ন দেখবে বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশে যে সরকারই আসবে, এই ঘোষণাপত্র সীমারেখা হয়ে কাজ করবে। এর মধ্যদিয়ে বস্তাপচা রাজনীতির অবসান হবে।   নতুন বছর উদযাপন ও জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের অনুষ্ঠান ঘিরে যেকোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, ‌‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ ঘিরে অন্তত ৫০০ জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।   প্রসঙ্গত, গত জুলাই-আগস্টে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গত শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে এই বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। যদিও এই ঘোষণাপত্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, পার্লামেন্ট বিলুপ্তি ছাড়াও ’৭২ এর সংবিধান সংস্কার বা বাতিলসহ জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের খসড়ায় বলা আছে, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য ১৯৪৭ সাল যুদ্ধ করেছে, যেহেতু পাকিস্তান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, যেহেতু ১৯৭২ এর সংবিধান আমাদের জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারেনি, যেহেতু মার্শাল ল’ এবং সাংবিধানিক সংশোধনীসমূহ ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রকে দুর্বলতম করেছে। এই উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই কারণে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র ঘোষণা করা হচ্ছে। যা ৫ আগস্ট, ২০২৪ থেকে কার্যকর হবে। আরটিভি/কেএইচ
জুলাই বিপ্লবের ‘ঘোষণাপত্র’ ঘিরে আড়াই লাখ মানুষ জমায়েতের পরিকল্পনা 
রাবিতে পোষ্য কোটার আসন কমলেও মিলছে না শিক্ষার্থী
বিগত বছরগুলোতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ধাপে ধাপে কমানো হয়েছে পোষ্য কোটার আসন। তবে কোনো বছরেই পূর্ণতা পায়নি কাঙ্ক্ষিত সেই আসনগুলো। আসন ফাঁকা রেখেই প্রতি বছর চলে শিক্ষা কার্যক্রম। পোষ্য কোটা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানের জন্য বরাদ্দকৃত আসন। যেই সুবিধা শুধু তাদের সন্তানরাই পেয়ে থাকে। তবে বরাদ্দকৃত আসন কোনো বছরেই পরিপূর্ণ হয়নি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৯৬ জন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ১০০ জন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ১১৩ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ৩৯ জন ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৯৪ জন শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছে। যেখানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরিক্ষার পূর্ব পর্যন্ত ৫ শতাংশ পোষ্য কোটা ছিল। যার মোট আসন সংখ্যা ১৯৫টি। তবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে বিগত প্রশাসন ১ শতাংশ কমিয়ে ৪ শতাংশে নিয়ে আসে। মোট আসন দাঁড়ায় ১৫৬টি। তবে কোনো বছরই পূর্ণ হয়নি পোষ্য কোটার আসন। বর্তমান প্রশাসন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরিক্ষায় আরও ১ শতাংশ কমিয়ে ৩ শতাংশে নিয়ে আসেন। যার মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৭টি। বার বার পোষ্য কোটার আসন কমালেও পাশ মার্ক নিয়েই পছন্দের সাবজেক্ট পাচ্ছেন শিক্ষক, কর্মকর্তার ও কর্মচারীর সন্তানরা। তবে পাশ মার্ক না পেয়েও একাধিক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে বিগত প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তবে বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা বাতিলের দাবি চেয়ে আসলেও জুলাই বিপ্লবের পর তা তীব্র আকার ধারণ করে। আগামী ২ জানুয়ারির পূর্বে পোষ্য কোটা বাতিল না করলে প্রশাসনিক ভবনে তাল ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাবির সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার।  বর্তমান প্রশাসনের কাছে পোষ্য কোটা নিয়ে জিজ্ঞেস করলে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা বলে সমাধানে কথা বলছেন। তবে পোষ্য কোটা বিষয়ে তার সাথে কোনো কথায় হয়নি বলে আরটিভিকে জানিয়েছেন সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, বিগত দুই মাস আমরা খুব ছোট ছোট প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি।আমরা তাদের ফাইনাল ডিসিশনের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু ফাইনাল না হওয়ার আগেই ৫ জানুয়ারি তারা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আবেদনের তারিখ ঘোষণা করল। পোষ্য কোটা বাতিলের এখনো তারা কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এমনকি এখনো পর্যন্ত ফ্যাসিবাদি শিক্ষকদের নিয়োগে কাজ করছে। যার জন্য আমরা তিনটি দাবিতে আল্টিমেটাম দিলাম। পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে; ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কার্মচারিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং বিভিন্ন নিয়োগে কেন ফ্যাসিবাদি চিহ্নিত শিক্ষকদের নিয়োগ দিলো, তার যথাযথ কারণ দেখাতে হবে। না হয়তো আমরা ২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেবো। এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন আরটিভিকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে স্টেকহোল্ডার, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। প্রশাসনকে সকলের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা ভর্তি পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রেখে এবং সকলের মতামতকে সম্মান দিয়ে একটি মধ্যপন্থার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। আরটিভি/এমকে
রাবিতে পোষ্য কোটার আসন কমলেও মিলছে না শিক্ষার্থী
অনশন ভাঙলেন সেই জাবি শিক্ষার্থী
দুদফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে অনশন ভেঙেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন আয়ান।  পরে রোববার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে অনশন ভাঙেন তিনি৷  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘আমার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে জিয়া উদ্দিন আয়ান অনশন ভেঙেছেন। জাকসু নিয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন আগামী ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হবে। ২৫ জানুয়ারি ভোটার তালিকা ও ১ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আমরা ১৮ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি।’  তিনি আরও বলেন, ‘এ হামলায় মূলত অনেকে জড়িত থাকায় এবং তিন দিনের ঘটনা তদন্ত করতে তদন্ত কমিটি একটু বেশি সময় নিয়েছে। রোববার বিকেলে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে৷’  আরটিভি/এমকে
অনশন ভাঙলেন সেই জাবি শিক্ষার্থী
আরও পড়ুন
ইনু ৪ দিনের রিমান্ডে, নতুন মামলায় সালমান আতিকসহ গ্রেপ্তার ৬
সাবেক এমপি বাহারসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ফায়ার ফাইটারের মৃত্যু: ট্রাকচালক-হেলপার কারাগারে
নসরুল হামিদ ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা